শর্তহীন ‘শাকসু’ নির্বাচনের দাবিতে ইসিকে প্রার্থীদের স্মারকলিপি

Printed Edition

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি

নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে আরোপিত তিন দফা শর্ত প্রত্যাখ্যান করে নির্ধারিত সময়েই শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন প্রার্থীরা। এসব শর্তকে ‘অযৌক্তিক ও অসম্মানজনক’ আখ্যা দিয়ে কোনো ধরনের মুচলেকা ছাড়াই নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীরা। গতকাল বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ ভবনের সামনে শাকসু নির্বাচন কমিশনের হাতে এই স্মারকলিপি তুলে দেয়া হয়।

ঘটনার সূত্রপাত হয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শাকসু নির্বাচন স্থগিতের খবরে। গত ১২ জানুয়ারি রাতে শিক্ষার্থীরা এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিম তিনটি শর্তে নির্বাচন আয়োজনের অনুমতির কথা জানান।

শর্তগুলো হলো- নির্বাচনকালীন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে না, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হবে না এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো বিরূপ প্রভাব পড়বে না। এসব বিষয়ে প্রার্থীদের লিখিত অঙ্গীকারনামা প্রদানের শর্ত দেয়া হয়।

তবে প্রার্থীরা এই শর্তকে ‘প্রহসন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। স্মারকলিপিতে তারা উল্লেখ করেন, জাতীয় নির্বাচনের সাথে শাকসু নির্বাচনের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা বা সাংঘর্ষিকতা নেই। আসন্ন শাকসু নির্বাচন কোনোভাবেই জাতীয় নির্বাচনকে প্রভাবিত করবে না। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মুচলেকা চাওয়াকে তারা চরম অবমাননাকর বলে মনে করেন। প্রার্থীদের দাবি, প্রশাসনের সদিচ্ছা থাকলে কোনো বিশেষ শর্ত ছাড়াই শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন সম্ভব।

এ বিষয়ে শাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. আবুল মুকিত মোহাম্মদ মুকাদ্দেছ বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন শতভাগ প্রস্তুত এবং আমাদের দাফতরিক কাজ চলমান রয়েছে। আমরাও চাই যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। সবার সহযোগিতা পেলে নির্ধারিত সময়েই ভোট গ্রহণ সম্ভব হবে।’

উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সব ধরনের নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছিল বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। এর প্রতিবাদে শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামলে ভিসি অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দীন চৌধুরী নির্বাচন কমিশনের সাথে সাক্ষাৎ করেন। পরে কমিশন থেকে শাকসু নির্বাচন আয়োজনের মৌখিক আশ্বাস দেয়া হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তিন দফা শর্তারোপ করা হয়, যা এখন নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।