তেলের সঙ্কট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে : মির্জা ফখরুল
Printed Edition
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সারা বিশ্বে হঠাৎ করে একটা দুর্যোগ দেখা দিয়েছে। তা হলো ইরান, আমেরিকা ও ইসরাইল যুদ্ধ। এ দুর্যোগের প্রভাবে আমাদের দেশের জ্বালানি ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের দীর্ঘ লাইন নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতি অনেকটাই কৃত্রিম। দেশে তেলের প্রকৃত কোনো সঙ্কট নেই, বরং কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই, তেলের সঙ্কট সৃষ্টি করা হয়েছে কৃত্রিমভাবে। কিছু অসাধু চক্র তেল মজুদ করে কালোবাজারে বিক্রি করছে, যা দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জন্য ক্ষতিকর। অবিলম্বে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সরকার বিষয়টি সমাধানে কাজ করছে। যারা এই কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে গতকাল শুক্রবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও শহরের মির্জা রুহুল আমিন মিলনায়তনে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ঘূর্ণিঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসন এবং এলজিইডি ও জেলা পরিষদের মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নকল্পে ঢেউটিন, চেক ও বরাদ্দপত্র প্রদান প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ঠাকুরগাঁওকে একটি উন্নত জেলা হিসেবে দেখতে চাই উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল আরো বলেন, এলজিইডির মাধ্যমে রাস্তাঘাট উন্নয়নের জন্য প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প চলছে। আরো একটি নতুন প্রকল্প আসছে, আরো দেড় হাজার কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের কাজ শুরু হয়ে গেছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আগামী রোববার ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগ হবে। ইউনিভার্সিটির কাজ শুরু হবে। বিমানবন্দরের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। দিনাজপুর-পঞ্চগড়গামী মহাসড়ক বাড়ানোর জন্য কাজ শুরু করেছি। বাইপাসের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, সুবিধাভোগীদের জন্য অনেক উপহার রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের এলাকার প্রত্যেকটি ইউনিয়নে যে রাস্তাগুলো কাঁচা আছে সেগুলোকে পাকাকরণের কাজ করা হবে।
কৃষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের কৃষকরা সবসময়ই মার খায়। এবারো তারা আলুতে বিশাল মার খেয়েছে। তারা দাম পায়নি। তাদের উৎপাদন খরচটাও ওঠেনি। আমরা আমাদের এসব কৃষক ভাইদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে যাচ্ছি। ইতোমধ্যেই তাদের কৃষক কার্ড দেয়ার কাজ চলছে। এ ছাড়াও কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য যাতে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে পারে সেজন্য কৃষিভিত্তিক এলাকাগুলোতে আমরা কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য কৃষি জোন ও কৃষি হিমাগার তৈরি করবো। কৃষক বাঁচলে তবেই আমরা বাঁচবো।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি এক বান্ডিল টিন, তিন হাজার টাকা করে মোট পাঁচ শ’টি পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হবে। এ ছাড়াও মোট ৮০টি পরিবারের মধ্যে জনপ্রতি ছয় হাজার করে টাকা বিতরণ করা হয়। জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারপ্রতি এক বান্ডিল টিনের জন্য ৭০টি পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হবে। পাঁচ হাজার টাকা পরিবারপ্রতি এমন পরিবারের সংখ্যা ৬০টি। ৮৮টি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৯০ লাখ টাকার বরাদ্দপত্র বিতরণ করা হবে। এ ছাড়াও আমার মন্ত্রণালয় থেকে ১৯৫টি মসজিদ, ৮৯টি মন্দির, কবরস্থান পাঁচটি, ঈদগাহ চারটি, শ্মশান একটিসহ সর্বমোট ২৯৪টি প্রতিষ্ঠানকে চেকপত্র প্রদান করবো যার মূল্য প্রায় ১৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মো: রফিকুল হক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো: গোলাম ফেরদৌস, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: খোদাদাদ হোসেন, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মামুন বিশ্বাস, জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক মো: পয়গাম আলী, পৌর বিএনপির সভাপতি মো: শরিফুল ইসলাম শরিফ, সদর থানা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন তুহিন প্রমুখ।