দুর্গাপুরে পাতার ফাঁকে সোনালি মুকুল বসন্তের হাওয়ায় আমবাগানে ম ম ঘ্রাণ

Printed Edition
bangla-2
আমের বাগান পরিচর্যা করছেন এক চাষি : নয়া দিগন্ত

দুর্গাপুর (রাজশাহী) সংবাদদাতা

ঋতুরাজ বসন্তের ফাগুনী হাওয়ায় প্রকৃতি নতুন রূপে ধরা দিয়েছে রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায়। শীতের তীব্রতা কাটতেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে আমের মুকুলের মিষ্টি সুবাস। পাতার ফাঁকে ফাঁকে সোনালি মুকুলে ছেয়ে যাচ্ছে আমবাগান, আর সেই সৌরভে মুখরিত হয়ে উঠছে গ্রামবাংলার বাতাস।

গতকাল রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রোদ আর কুয়াশার লুকোচুরির ফাঁকে ফাঁকে আমবাগানগুলোতে প্রস্ফুটিত হচ্ছে মুকুল। নওপাড়া ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের আমচাষি এস্তাক আলী জানান, এবার অনেক গাছে আগাম মুকুল এসেছে। মুকুল আসার সাথে সাথেই বাগানের পরিচর্যা শুরু করেছি। সময়মতো যতœ নিলে ফলন ভালো হবে- এই আশাতেই আছি।

সরেজমিন দেখা গেছে, গোপালপুর, নওপাড়া, শ্যামপুর, আলীপুর, কাশিপুর, নান্দিগ্রাম, দেবীপুর, পানানগর, বখতিয়ারপুর ও কানপাড়া এলাকায় ছোট-বড় নানা জাতের আমগাছে মুকুল ধরতে শুরু করেছে। কোথাও কোথাও দেখা যায় সোনালি মুকুলে ভরে উঠেছে পুরো গাছ। মুকুলের ঘ্রাণে চারপাশ যেন ম ম করছে।

আমবাগানগুলোতে প্রজাপতি ও মৌমাছির আনাগোনাও চোখে পড়ার মতো। মধু সংগ্রহে ব্যস্ত এসব পতঙ্গ মুকুলের পরাগায়ণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে জানান চাষিরা।

বাগান মালিক আনিস উদ্দিন জানান, ফাল্গুনের শুরুতেই মুকুল দেখা যাওয়ায় আমরা বেশ আশান্বিত হয়ে উঠছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবারো ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, আগাম মুকুল বেশি কুয়াশা কিংবা হঠাৎ ঠাণ্ডায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে- এমন শঙ্কাও মনের মধ্যে বাসা বাঁধছে।

দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, শীতের প্রভাব থাকলেও কিছু এলাকায় আমের আগাম মুকুল আসা শুরু হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রার তারতম্য থেকেই এমনটি হচ্ছে। ফাল্গুনের শুরুতে অধিকাংশ আমগাছে মুকুল আসবে এবং আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই আমবাগানের পুরো চেহারা বদলে যাবে। এটাই প্রকৃতির নিয়ম।

উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা ফরিদ হোসাইন বলেন, এখনো সব গাছে পূর্ণমাত্রায় মুকুল আসেনি। যেসব গাছে এসেছে, সেগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা জরুরি। সঠিক ব্যবস্থাপনা ও অনুকূল আবহাওয়া থাকলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে নানা জাতের আম চাষ হচ্ছে। লাভজনক হওয়ায় প্রতি বছরই বাড়ছে আমবাগানের পরিধি। আমপ্রধান এই অঞ্চলে এখন চাষিদের ব্যস্ততা মুকুলের যতœ আর ভবিষ্যৎ ফলনের স্বপ্ন ঘিরেই। বসন্তের সুবাসে তাই নতুন আশা দেখছেন দুর্গাপুরের আমচাষিরা।