ফতুল্লায় স্টোররুম থেকে গার্মেন্ট কর্মকর্তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

Printed Edition
3rd-3
সন্তানদের সাথে ইদ্রিস আলী : ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ও ফতুল্লা সংবাদদাতা

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি গার্মেন্টের স্টোররুম থেকে ইদ্রিস আলী (৪৫) নামের এক কর্মকর্তার গলায় ফাঁস দেয়া ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

খবর পেয়ে শত শত গার্মেন্টে শ্রমিক ঘটনাস্থলে এসে বিক্ষোভ করে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ইদ্রিস আলী নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার গোয়ালদী এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে। তিনি ওই গার্মেন্টের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফতুল্লার এনায়েতনগর ইউনিয়নের বাড়ৈভোগ এলাকায় অবস্থিত ফারিহা নিট টেক্স লিমিটেড কারখানার স্টোররুম থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও কারখানার কয়েকজন শ্রমিক জানান, সকালে কাজে যোগ দিতে এসে তারা কারখানার দরজা বন্ধ দেখতে পান। পরে ভেতরে প্রবেশ করে স্টোররুমে ইদ্রিস আলীর গলায় ফাঁস দেয়া ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনার পর কারখানার সামনে শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করেন। তারা ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি জানান।

গার্মেন্টের ব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, সকাল ১০টার দিকে এক শ্রমিক প্রথম লাশটি দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেয়া হয়।

নিহত ইদ্রিস আলীর ছোট ভাই মো: জুয়েল জানান, সোমবার বিকেলে ছুটি শেষে ইদ্রিস কারখানার গাড়িতেই বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু রাতে বাড়ি না ফেরায় তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, ইদ্রিস কারখানায় নেই।

জুয়েল আরো বলেন, মঙ্গলবার সকালে শুনি স্টোররুমে লাশ পাওয়া গেছে। আমার ভাইয়ের পা মাটিতে লাগানো ছিল। এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।’ তার আত্মহত্যা করার মতো কোনো কারণ ছিল না। এ ঘটনায় তারা আইনি ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন।

নিহতের স্ত্রী হাফিজা আক্তার জানান, প্রতিদিন বিকেলে ছুটি হওয়ার পর সন্ধ্যায় তিনি কারখানার গাড়িতেই বাড়ি ফেরেন। কিন্তু সোমবার না ফেরায় তার মোবাইলে কল দিলে তা কেউ রিসিভ করেননি। পরে বিষয়টি কারখানার কর্মকর্তাদের জানালে তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘ইদ্রিস কারখানাতে নেই। পরে আমরা পুলিশকেও জানিয়েছিলাম রাতেই। সকালে শুনি স্টোররুমে লাশ পাওয়া গেছে। উনি নামাজ-কালাম পড়তেন, ভালো মেজাজের মানুষ ছিলেন। তিনি আত্মহত্যা করবেন এমন কোনো কারণ নেই। আমাদের এ মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ নেবার কথাও জানান নিহতের স্ত্রী।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম জানান, গার্মেন্টের স্টোররুম থেকে এক কর্মকর্তার ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল (ভিক্টোরিয়া) মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তিনি জানান, ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবিতে শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করেছেন। এ ঘটনায় কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।