বাশার আল-আসাদের পতনের বর্ষপূর্তিতে সিরিয়া পুনর্গঠনে ঐক্যের আহ্বান শারার

Printed Edition
onno1
সাবেক শাসক বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার বার্ষিকীতে দামেস্কের উমাইয়া মসজিদে নামাজ আদায়কালে বক্তব্য রাখছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমদ আল-শারা : নয়া দিগন্ত

এএফপি ও আলজাজিরা

দীর্ঘ দিনের শাসক বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রথম বর্ষপূর্তিতে গতকাল সোমবার সিরিয়ার জনগণকে দেশ পুনর্গঠনে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আহমদ আল-শারা। গত বছরের নভেম্বরে শারার নেতৃত্বাধীন ইসলামপন্থী জোট হঠাৎ আন্দোলনে নামে। ব্যাপক সঙ্ঘাতের পর গত বছরের ৮ ডিসেম্বর দামেস্ক দখলে নিয়ে আসাদ পরিবারের পাঁচ দশকের শাসনের অবসান ঘটায় তারা।

গত বছরের ডিসেম্বরে সিরিয়ার নেতা বাশার আল-আসাদ রাশিয়ায় পালিয়ে গিয়েছিলেন। এরপর জানুয়ারিতে বিদ্রোহী নেতা আহমদ আল-শারা নতুন অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন গঠন করেন। আসাদের শাসনের পতনের প্রথম বার্ষিকীতে আল-শারা বলেছেন, ‘কোনো বাধা আমাদের থামাতে পারবে না এবং স্রষ্টার ইচ্ছায় আমরা একসাথে প্রতিটি বাধা মোকাবেলা করব।’

দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানায়, সোমবার দামেস্কের ঐতিহাসিক উমাইয়া মসজিদে ফজরের নামাজ আদায়ের পর দামেস্কে প্রবেশকারী যোদ্ধাদের ত্যাগ ও বীরত্বের কথা স্মরণ করেন শারা।

এক বছর আগের মতো এ দিনও তিনি সামরিক পোশাক পরিধান করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘সব নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শক্তিশালী সিরিয়া গড়ে তুলতে হবে। স্থিতিশীলতা দৃঢ় করতে হবে, সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হবে এবং যে ত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে ভবিষ্যৎ নির্মাণ হচ্ছে, তাকে সম্মান জানাতে হবে।’

গত নভেম্বরের শেষের দিক থেকে সিরিয়ার জনগণ বিজয় আন্দোলনের প্রথম বার্ষিকী পালন করছে। সোমবার দামেস্কে সামরিক কুচকাওয়াজসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বর্ণাঢ্য এই উদযাপন করা হয়। দিনটিতে নির্ধারিত ভাষণও দেন আহমদ আল-শারা ।

অতীত থেকে বেরিয়ে আসা শারা দেশের আন্তর্জাতিক অবস্থান ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি নিষেধাজ্ঞারও শিথিলতা পেয়েছেন। তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ভেঙে পড়া প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, জনগণের আস্থা ফিরে পাওয়া এবং দেশকে ঐক্যবদ্ধ রাখা এখন তার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সামনে শুধু রাজনৈতিক রূপান্তরই অপেক্ষা করছে না, ভাঙা সমাজকে আবার গড়ে তোলা এবং গভীর বিভাজন নিরাময়ের সুযোগও রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রতিটি সিরীয়র জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ বা রাজনৈতিক মত নির্বিশেষে নিরাপদ, সমান ও মর্যাদাপূর্ণভাবে বেঁচে থাকার সুযোগ সুনিশ্চিত করার পথ এখানেই।’ চলতি বছরের মার্চের এক চুক্তি অনুযায়ী, বছর শেষ হওয়ার আগেই কুর্দি প্রশাসনের প্রতিষ্ঠানগুলো কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে আসার কথা। তবে এখনো অগ্রগতি আটকে আছে।

রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ পোস্ট করে কুর্দি নেতা মাজলুম আবদি চুক্তির প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে লিখেছেন, এই চুক্তিই ‘স্বাধীনতা, ন্যায় ও সমতার মূল্যবোধে সমৃদ্ধ একটি গণতান্ত্রিক, বিকেন্দ্রীকৃত সিরিয়া গড়ার ভিত্তি।’

তিনি বলেন, ‘কেউ যত শক্তিশালী হোক না কেন, আমাদের পথে দাঁড়াবে না। কোনো বাধা আমাদের থামাতে পারবে না এবং ইনশা আল্লাহ আমরা একসাথে প্রতিটি বাধা মোকাবেলা করব।’

তিনি আরো বলেন, ‘ইনশা আল্লাহ উত্তর থেকে দক্ষিণে এবং পূর্ব থেকে পশ্চিমে- আমরা সিরিয়াকে আবার বর্তমান এবং অতীতের মতো শক্তিশালী করে তুলব- সিরিয়ার প্রাচীন ঐতিহ্যের মতো পুনর্গঠন করে।’

সাবেক আলকায়েদা কমান্ডার শারা সিরিয়াকে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে পরিচালিত করেছেন, যা দেশটির বৈদেশিক সম্পর্ককে পুরোপুরি পাল্টে দিয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলো ও তুরস্কের সমর্থন অর্জন করেছেন আর আসাদের সমর্থক ইরান ও রাশিয়া থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছেন। সিরিয়াকে পঙ্গু করে রাখা পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা তার সময়ে অনেকটাই তুলে নেয়া হয়েছে। আসাদের নির্মম পুলিশি রাষ্ট্রকে পরিবর্তন করে ন্যায়সঙ্গত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শারা ।