সুগার নিয়ন্ত্রণ কেন প্রয়োজন

Printed Edition

আপনি সুন্দর জীবন যাপন করতে চাইলে সুগার নিয়ন্ত্রণ রাখা খুবই প্রয়োজন। বিশেষ করে মধ্য বয়সে এর প্রয়োজন আরো বেশি। তবে ব্লাড সুগারের সমস্যা যে কোনো বয়সের মানুষদের মধ্যেই দেখা দিচ্ছে আজকাল।

চিকিৎসকরা বলছেন, মূলত অনিয়ন্ত্রিত লাইফস্টাইল, বিশেষ করে অতিরিক্ত ফাস্টফুড খাওয়ার জন্যই এমন সমস্যায় ভুগছেন বেশির ভাগ মানুষ।

কী করতে হবে?

১. রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রথমেই নজর দিতে হবে খাদ্যতালিকায়। নন-স্টার্চি শাকসবজি যেমন লেটুস, পালং শাক ও টমেটো বেশি করে খেতে হবে। এগুলো ফাইবারে ভরপুর ও ক্যালরিতে কম। অন্য দিকে, চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার যেমন সফট ড্রিংকস, সাদা পাউরুটি, পাস্তা ও পেস্ট্রি যতটা সম্ভব পরিহার করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

২. ২. লো গ্লাইসেমিক ইনডেক্স সমৃদ্ধ খাবার যেমন আপেল ও চিনাবাদাম রক্তে শর্করা ধীরে ছাড়ে, ফলে তা স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে। মাছ, বাদাম, অলিভ অয়েলের মতো স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারও রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখতে কার্যকর।

৩. ৩. সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত খাবার খাওয়া অপরিহার্য। খাবার বাদ দিলে রক্তে শর্করার ওঠানামা বেড়ে যেতে পারে। এ ছাড়া, পর্যাপ্ত পানি পান করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে পানির ঘাটতি হলে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়, তাই বিশেষজ্ঞরা দিনে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করার পরামর্শ দেন।

৪. ৪. নিয়মিত ব্যায়াম শরীরের পেশিকে গ্লুকোজ ব্যবহার করতে সাহায্য করে, ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম যেমন দ্রুত হাঁটা, সাঁতার বা সাইক্লিং করার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

৫. ৫. একই সাথে পর্যাপ্ত ঘুমও জরুরি। ঘুমের অভাব ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে, যা রক্তে সুগারের ভারসাম্য নষ্ট করে।

৬. স্বাভাবিক ওজন বজায় রাখা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি, নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষা করা জরুরি, যাতে বোঝা যায় কোন খাবার বা অভ্যাস কীভাবে প্রভাব ফেলছে। তবে যদি প্রথম থেকেই একটু সচেতন হওয়া যায়, তা হলে ওষুধ না খেয়েই সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। ইন্টারনেট।