গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার ছক

পার্শ্ববর্তী দেশের উগ্রপন্থীদের ফাঁদে রাষ্ট্রের সার্বভৌম বাহিনী

Printed Edition

এস এম মিন্টু

  • সংসদ, বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পুলিশের সতর্কতা
  • ‘টিপিপি’র কানেকশন বাংলাদেশে দেখিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র করছে ভারত : এইচ আর এম রোকন উদ্দিন
  • যে স্থানগুলোতে হামলার তথ্য এসেছে, আমরা এ বিষয়ে কাজ করব : সিটিটিসি
  • ঝিনাইদহ সীমান্তে নদী থেকে আফগান যুবকের লাশ উদ্ধার

জাতীয় সংসদ ভবন, গুরুত্বপূর্ণ পুলিশ ও সামরিক স্থাপনা, উপাসনালয়, বিনোদন কেন্দ্র এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় ভয়াবহ হামলার ছক তৈরি করেছে একটি নিষিদ্ধ উগ্রপন্থী সংগঠন। দেশজুড়ে রাষ্ট্রীয় ও জনগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনার বিষয়ে এরই মধ্যে গোয়েন্দা সতর্কতা জারি করেছে পুলিশ সদর দফতর।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছে, পার্শ¦বর্তী দেশের ষড়যন্ত্রের কারণে আরেকটি দেশের উগ্রপন্থীদের নামে দেশকে অস্থিতিশীল করতে রাষ্ট্রের সার্বভৌম বাহিনীর সদস্যদের টার্গেট করছে। এর আগেও যারা পিলখানায় বিডিআর হত্যাকাণ্ড এবং রৌমারীর মতো ষড়যন্ত্র করে বাহিনীকে দুর্বল এবং সদস্যদের মনোবল ভাঙতে চেয়েছিল তারাই সার্বভৌম বাহিনীর সদস্যদের টার্গেট নিয়ে প্রচেষ্টা শুরু করেছে। উগ্রপন্থী ওই সংগঠনের সাথে যোগাযোগ রাখার অভিযোগে সম্প্রতি কয়েকজনকে হেফাজতে নিয়েছে সংশ্লিষ্ট বাহিনী।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পার্শ্ববর্তী দেশের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এই ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা করেছে একটি উগ্রবাদপন্থী সংগঠন। সংগঠনটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও পার্শ্ববর্তী একটি দেশের প্রভাবশালী গোয়েন্দা সদস্যরা বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার এবং ভূরাজনীতির ওপর প্রভাব ফেলে উগ্রবাদ বা জঙ্গিবাদ দেশ হিসেবে চিহ্নিত করার ষড়যন্ত্র করে আসছে।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, বাহিনীগুলো অতীতের সরকারকে রক্ষা করতে না পারায় তাদের সদস্যদের মানসিকভাবে দুর্বল করতে উগ্রবাদী তকমা লাগিয়ে কাবু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাহিনীর মধ্যে উগ্রবাদ সংগঠনের ষড়যন্ত্রের বিষয়টি ধামাচাপা না দিয়ে বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক করা প্রয়োজন। তা না হলে আরো ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দফতরের উপ-মহাপরিদর্শক (গোপনীয়) কামরুল আহসান স্বাক্ষরিত একটি সরকারি চিঠির মাধ্যমে এই সতর্কতা জারি করা হয়। পুলিশ সদর দফতরের অভ্যন্তরীণ ওই চিঠিতে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি পাওয়া গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী নিষিদ্ধ সংগঠনের বেশ কয়েকজন সদস্য নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছে এবং তারা বেশ কিছু সংবেদনশীল স্থানে সমন্বিত হামলার পরিকল্পনা করতে পারে।

এই আশঙ্কায় পুলিশ সদর দফতর থেকে সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটকে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদার, নজরদারি বৃদ্ধি এবং গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সিআইডি, স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), সিটিটিসি এবং সব জেলার পুলিশ সুপারদের এই সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, এটি একটি নিয়মিত সতর্কতামূলক ব্যবস্থার অংশ হলেও চরমপন্থী হুমকি মোকাবেলায় সদা সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তা থেকেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পুলিশ সদর দফতরের ওই বার্তায় সুনির্দিষ্ট করে উগ্রবাদী সংগঠনের নাম বলা হয়নি, তবে সম্প্রতি সংগঠনটির ইসতিয়াক আহম্মেদ সামী ওরফে আবু বক্কর ওরফে আবু মোহাম্মদ নামে এক সদস্যকে গ্রেফতারের তথ্য দেয়া হয়েছে।

‘নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্রবাদী সংগঠনের সমর্থক কর্তৃক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা সংক্রান্ত’ বার্তায় বলা হয়েছে, গ্রেফতার ইসতিয়াকের সাথে চাকরিচ্যুত দুই সেনাসদস্যের নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।

এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি নজরদারি বাড়াতে পুলিশ সদর দফতরের যে নির্দেশনা দিয়েছে, তা নিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে সিটিটিসি প্রধান মুনশী শাহাবুদ্দিনের কাছে।

গতকাল এর জবাবে তিনি বলেন, এটা তো আমাদের সিকিউরিটি প্ল্যানিং, এটা আমার মনে হয় আপনাদের কাছে বলার বিষয় না। আমরা সিকিউরিটি প্ল্যানিং অনুযায়ী, যে স্থানগুলোর তথ্য এসেছে, আমরা এ বিষয়ে কাজ করব।

যারা হামলার পরিকল্পনা করছে, তাদের শনাক্ত করা গেছে কি না জানতে চাইলে মুনশী শাহাবুদ্দীন বলেন, এটা নিয়ে আমরা কাজ করছি সুতরাং আমার মনে হয় এখন মন্তব্য করার সময় আসেনি।

সশস্ত্রবাহিনীর কতজন সদস্য গ্রেফতার আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার কাছে এখন স্পেসিফিক তথ্য নাই, ওটা আপনারা যা দেখেছেন, আমরা তাই দেখেছি।

এ দিকে গোয়েন্দাদের তথ্য ও বিভিন্ন সামাজিকমাধ্যমে জানা গেছে, দেশের সামরিক বাহিনীতে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে চলমান তদন্ত আরও বিস্তৃত হয়েছে। বিমানবাহিনীর দুইজন স্কোয়াড্রন লিডারসহ মোট ১০ জন সদস্যকে হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। একই সাথে সেনাবাহিনীর চারজন সদস্য কোয়ার্টার গার্ডে থাকায় তাদের কার্যক্রমও কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

নতুন তথ্য অনুযায়ী, তদন্তকারী সংস্থাগুলো এখন কেবল ব্যক্তিগত যোগাযোগ নয়, বরং ডিজিটাল যোগাযোগ, বিদেশী সংযোগ এবং আর্থিক লেনদেনের দিকেও নজর দিচ্ছে। বিশেষ করে কিছু অনলাইন যোগাযোগমাধ্যম ও সীমান্তবর্তী নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে যোগাযোগ রক্ষার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অন্য দিকে বিমানবাহিনীর প্রায় ১১ জন সদস্যের অননুমোদিত অনুপস্থিতি (এডব্লিউওএল) তদন্তকে আরো জটিল করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থান এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ধারণা করছে, এদের মধ্যে কিছু সদস্য পূর্বপরিকল্পিতভাবে কর্মস্থল ত্যাগ করেছে এবং সম্ভাব্যভাবে একটি সংগঠিত নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত রয়েছে বলে জানা যায়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কিছু সদস্যের বিদেশী যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন ঘাঁটিতে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল ডিভাইস পর্যবেক্ষণ, যোগাযোগ বিশ্লেষণ এবং অভ্যন্তরীণ স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া আরো কঠোর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার গুরুত্ব কেবল অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য একটি বড় ধরনের সতর্ক সংকেত। সামরিক বাহিনীর মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে বহিরাগত উগ্রপন্থীর প্রভাব বা অনুপ্রবেশ দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সার্বভৌমত্বের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, দক্ষিণ এশিয়ার চলমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এ ধরনের স্পর্শকাতর বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা উচিত। কারণ সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরে যেকোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা অনুপ্রবেশ সীমান্ত নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলবে।

এখনো পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ তালিকা বা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী শিগগিরই আরো তথ্য প্রকাশ করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব:) এইচ আর এম রোকন উদ্দিন গতকাল নয়া দিগন্তকে বলেন, বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব কেবল বাহ্যিক সামরিক আগ্রাসনের মাধ্যমে নয়, বরং উগ্রপন্থা, প্রক্সি সঙ্ঘাত, তথ্যযুদ্ধ এবং সীমান্ত অস্থিতিশীলতার মাধ্যমেও হুমকির মুখে পড়ে। পাশের দেশের মদদপুষ্ট উগ্রবাদী তৎপরতা জাতীয় নিরাপত্তা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বকে দুর্বল করতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে বিষয়টি গভীরভাবে অধ্যয়ন করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণ-অভূত্থানে শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর ড. ইউনূস সরকার গঠনের পর ভারতকে যখন বাদ দেয়া শুরু করল তখনই মরিয়া হয়ে ভারতের মিডিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশকে জঙ্গিবাদ বানানো, উগ্রবাদী ইসকনের মাধ্যমে একজন আইনজীবীকে হত্যা, পাহাড়ে মিথ্যা ধর্ষণ নাটক এবং মোটরসাইকেল পুড়িয়ে পাহাড়কে উত্তপ্ত করা আনসার, পুলিশের মধ্যে বিভাজন তৈরির ষড়যন্ত্র করল। ভারত এই কাজে ব্যর্থ হয়ে যখন দেখল বাংলাদেশের কাছে একটি আস্থার জায়গা সেনাবাহিনী। এরপর তারা ধরল সেনাবাহিনীকে।

ভারতের গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ইউটিউবেও তারা সেনাবাহিনীকে নিয়ে নানা কটূক্তি ও কুৎসা রটানো শুরু করল। বর্তমান বিএনপি সরকারের সাথে যখন সেনাবাহিনীর ভালো সম্পর্ক এবং বিভিন্ন উন্নয়নের বিষয়ে যখন আদান-প্রদানের কথা চলছে, তখনই ওই গোষ্ঠীগুলো উঠে পড়ে লেগেছে। পাশের দেশ ভারত সামরিক বাহিনীকে টার্গেট করে কয়েকজন সদস্যের সাথে যোগাযোগ করে বিশ্ব মিডিয়ার কাছে বাহিনীগুলোতে জঙ্গি তকমা দিয়ে ফায়দা লুটতে চাইছে।

সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা আরো বলেন, শেখ হাসিনার আমলে সেনাবাহিনীতে যারা ধার্মিক এবং ভারতবিরোধী ছিল এমন অন্তত শতাধিক কর্মকর্তাকে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার কথা বলে চাকরিচ্যুত করা হয়। তাদের মধ্যে একজন হলো চৌকস কর্মকর্তা তৎকালীন মেজর জিয়া। মেজর জিয়াকে মিথ্যা জঙ্গি নাটক সাজিয়েছে তার নামে ফাঁসির রায় দিয়েছে শেখ হাসিনা সরকার। একই ষড়যন্ত্র হিসেবে সেনাবাহিনী তথা সশস্ত্রবাহিনীতে মিথ্যা অভ্যুত্থান এবং জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার তকমা লাগিয়ে ভারত টাকা দিয়ে পুরো দুনিয়াকে দেখানোর জন্য বাহিনীগুলোকে বিতর্ক করার জন্য এই কাজ করছে।

তিনি আরো বলেন, তেহরিক-ই-তালেবান (টিটিপি) পাকিস্তান নামে যে উগ্রবাদী সংগঠন আছে সেই সংগঠন পাকিস্তানেই নিষিদ্ধ। তাদের দমনে পাকিস্তান সর্বাধাকিভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এখন ‘টিপিপি’র কানেকশন বাংলাদেশে দেখিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র করছে ভারত। তারা একটি গল্পসাজিয়ে রাষ্ট্রের সার্বভৌম বাহিনীকে বিশ্ব মিডিয়ায় তুলে ধরতে অব্যাহতভাবে নাটক সাজিয়ে যাচ্ছে।

ঝিনাইদহে আফগানিস্তান নাগরিকের লাশ উদ্ধার : গত বৃহস্পতিবার রাতে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর সীমান্তবর্তী পলিয়ানপুর বিওপির ইছামতি নদীতে ভেসে আসা এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মৃত ব্যক্তির হাশমত মাহমুদী। তার পিতার নাম মৃত হাজী ইয়াসিন। ঠিকানা দেয়া হয়েছে আফগানিস্তানের নায়া কাবুল, বাঘা গাজী ১০ নম্বর বাড়ি। স্থানীয়দের ধারণা ভারতের সীমান্তের অভ্যন্তরে ওই যুবক নিহত হয়েছেন। ওপার থেকে ভাসতে ভাসতে বাংলাদেশে লাশটি আসতে পারে। পুলিশ সূত্র জানায়, গতকাল তার লাশ গ্রহণ করতে আসেন সৎ ভাই (ওয়ারিশ) মীর ওয়াইস মাহমুদী।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, নিহতের সৎ ভাই ও ভাবি লাশের সংবাদ পেয়ে শুক্রবার লন্ডন থেকে সরাসরি বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা করেন। বাংলাদেশে পৌঁছে ওয়ারিশরা সরাসরি লাশটি গ্রহণের জন্য শুক্রবার বেলা ১১টায় ঝিনাইদহ আঞ্জুমান মফিদুল এ আসেন। আঞ্জুমান মফিদুল লাশটি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় চিহ্নিত করার পর লাশ গ্রহণের জন্য ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে যোগাযোগ করার জন্য পরামর্শ প্রদান করেন। বেলা আড়াইাটার দিকে লাশের ওয়ারিশগণ মহেশপুর থানায় উপস্থিত হয়ে লাশের বিস্তারিত তথ্য ও ছবি প্রেরণ করেন। স্বজনদের দেখানো ছবির সাথে লাশের মিল রয়েছে বলে জানা যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে লাশটি গ্রহণের জন্য যথাযথ প্রক্রিয়ায় উভয় দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরামর্শ অনুযায়ী ভিকটিমের স্বজনরা বিকেল ৪টায় ঝিনাইদহ থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা করেন। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত নিহত হাশমত মাহমুদীর বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারেনি পুলিশ। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুসন্ধান চলমান রয়েছে।