কাঁঠাল খাওয়ার উপকারিতা
Printed Edition
কাঁঠাল বাংলাদেশের জাতীয় ফল। এখন বাজারে কাঠালের ভরপুর সরবরাহ। দামে কম, স্বাদে ও গুণে অসামান্য। কাঁঠাল এমন একটি ফল যার কোনো কিছুই ফেলনা নয়। অনেক কারণেই কাঁঠাল আপনার জন্য অনেক ভালো একটি ফল। এটি পুষ্টি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর এবং এর বেশ কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা আছে, যার মধ্যে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে উন্নতি অন্যতম। আপনি কাঁঠালকে এমনি এমনি অথবা বিভিন্ন পদের সাথে সহজেই আপনার খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। নিরামিষ এবং ভেগান রেসিপিতে এটি গোস্তের একটি চমৎকার বিকল্প। কাঁঠালের মৌসুম যখন থাকে, তখন তাজা কাঁঠাল সবচেয়ে সহজে পাওয়া যায়। খাদ্য তালিকায় কাঁঠাল যোগ করে দেখতে পারেন, কারণ এটি বেশ স্বাস্থ্যকর এবং পরীক্ষা করার জন্য একটি অনন্য খাবার। কারণ এর অন্যতম একটি গুণ হলো এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।
কাঠালের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (জিআই) বেশ কম, যা কোনো খাবার খাওয়ার পর আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা কতটা দ্রুত বাড়ে তার একটি পরিমাপ। এর কারণ হিসেবে এতে থাকা ফাইবারকে দায়ী করা হয়, যা হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। যেসব খাদ্যাভ্যাসে প্রচুর পরিমাণে কম-জিআইযুক্ত খাবার থাকে, তা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক বলে দেখা গেছে।
এ ছাড়াও, কাঁঠালে কিছু পরিমাণে প্রোটিন থাকে, যা খাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা খুব দ্রুত বেড়ে যাওয়া প্রতিরোধ করতে সাহায্য করতে পারে। একটি পুরনো গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাপ্তবয়স্করা যারা কাঁঠালের নির্যাস গ্রহণ করেছিলেন, তাদের রক্তে শর্করার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছিল।
এ ছাড়াও, ডায়াবেটিক ইঁদুরের উপর করা ২০১১ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, কাঁঠাল পাতার নির্যাস খালি পেটে রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সাহায্য করে।
এই প্রভাবগুলোর কারণ হিসেবে কাঁঠালে থাকা ফ্যাভোনয়েড অ্যান্টিঅক্সিডেন্টকে দায়ী করা হয়, যা রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষমতার জন্য পরিচিত। ইন্টারনেট।