চিকিৎসা গ্রহণ করছেন খালেদা জিয়া

Printed Edition
first-3
চিকিৎসা গ্রহণ করছেন খালেদা জিয়া

বিশেষ সংবাদদাতা

  • শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত

  • খালেদা জিয়ার অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে দ্রুত দেশে ফিরবেন তারেক রহমান

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় তার স্বাস্থ্যের অবস্থার উন্নতি না অবনতি হয়েছে, এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি চিকিৎসকরা। তবে তাকে যখন যে চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে, তা তিনি গ্রহণ করছেন। বিদেশে নেয়ার মতো শারীরিক অবস্থায় তিনি এখনো পৌঁছাননি বলে জানা গেছে। খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপি নেতা এ জেড এম জাহিদ হোসেন বেগম জিয়া সুস্থ হয়ে উঠবেন এমন আশা প্রকাশ করে বলেছেন, মেডিক্যাল বোর্ড সিদ্ধান্ত দিলে তাকে যথাসময়ে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হবে।

এ দিকে খালেদা জিয়াকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণা করার পর স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) নিরাপত্তা দেয়া শুরু করেছে। অন্য দিকে খালেদা জিয়ার বড় ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি কবে ফিরবেন তা নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে।

গুজবে কান না দেয়ার আহ্বান : বেগম খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা জানিয়ে গতকাল দুপুরে এভারকেয়ার হাসপাতালের বাইরে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন অধ্যাপক ডা: এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

তিনি বলেন, ‘আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে ডাক্তাররা যে চিকিৎসা দিচ্ছেন, সেই চিকিৎসা খালেদা জিয়া গ্রহণ করতে পারছেন অথবা আমরা যদি বলি উনি মেইনটেইন করছেন।’

তিনি বলেন, আমরা এই সঙ্কটময় মুহূর্তে দেশবাসীর কাছে উনার সুস্থতার জন্য দোয়া চাই। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ইচ্ছায় সারা পৃথিবীর মানুষের ভালোবাসা এবং দোয়ার কারণে হয়তোবা উনি এই যাত্রায় সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আমরা আশা করি।

ডা: জাহিদ বলেন, আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে, দলের পক্ষ থেকে সবাইকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন এবং সেই সাথে কোনো ধরনের গুজব ছড়ানো এবং গুজবে কান না দেয়ার জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ করছি।

আবেগপ্রবণ কণ্ঠে বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত এই সিনিয়র চিকিৎসক বলেন, ‘সম্মানিত সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা আপনারা ধৈর্য ধরুন, দীর্ঘ ছয় বছর যাবৎ আপনারা আমাদেরকে সহযোগিতা করেছেন। ইনশা আল্লাহ আমরা এই যাত্রায়ও আপনাদের ভালোবাসা, আপনাদের সহযোগিতা আশা করছি। বেগম খালেদা জিয়া যে দেশের মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসার প্রতীক, সেটি আজকে প্রমাণিত। সেই লক্ষ্যেই আমরা আপনাদের সহযোগিতা চাই।’ তিনি জানান, ‘আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিরামহীনভাবে দেশী বিদেশী চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিক্যাল টিমের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। এখন আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া চিকিৎসাকার্য সঠিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে না। কোনো ধরনের গুজবে কান না দেয়ার জন্য আপনাদের অনুরোধ করছি।’

যুক্তরাজ্যের চিকিৎসকরা আজ আসছেন : অধ্যাপক জাহিদ বলেন, ‘ইউকে থেকে উনাকে দেখার জন্য বিশেষজ্ঞরা আসবেন এবং উনারা দেখবেন। পরবর্তীতে উনাকে যদি ট্রান্সফারেবল হয়, যদি ট্রান্সফার করার প্রয়োজন পড়ে, মেডিক্যাল বোর্ড মনে করে তখনই উনাকে যথাযথ সময়ে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হবে। আমাদের সব প্রস্তুতি আছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে যে রোগীর বর্তমান অবস্থা এবং সর্বোপরি মেডিক্যাল বোর্ডের পরামর্শের বাইরে কোনো কিছু করার সুযোগ এই মুহূর্তে আমাদের নেই।’

ডা: জাহিদ বলেন, আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশ যারা অর্থাৎ আমেরিকা, ইউকে, পিপলস রিপাবলিক অব চায়না, কাতার, সৌদি এরাবিয়া, পাকিস্তান, ইন্ডিয়াসহ আমাদের অনেক সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এই চিকিৎসার ব্যাপারে তাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

গত ২৩ নভেম্বর থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে দেশী-বিদেশী চিকিৎসকদের সমন্বয়ে মেডিক্যাল বোর্ড বেগম জিয়ার চিকিৎসা সেবায় কাজ করছেন। এই বোর্ডে রয়েছেন, অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী, অধ্যাপক নুরুদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক এ কিউ এম মহসিন, অধ্যাপক শামসুল আরেফিন, অধ্যাপক জিয়াউল হক, অধ্যাপক মাসুম কামাল, অধ্যাপক এ জেড এম সালেহ, অধ্যাপক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইফুল ইসলাম এবং ডাক্তার জাফর ইকবাল। বাংলাদেশের বাইরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রফেসর হাবিবুর রহমান, প্রফেসর রফিকউদ্দিন আহমেদ, প্রফেসর জন হ্যামিল্টন, প্রফেসর ডক্টর হামিদ রব, যুক্তরাজ্য থেকে প্রফেসর জন পেট্রিক, প্রফেসর জেনিফার ক্রস এবং ডাক্তার জুবাইদা রহমানসহ এই তিন দেশের চিকিৎসকদের যৌথভাবে গঠিত মেডিক্যাল টিম কাজ করছেন।

এসএসএফের নিরাপত্তা দেয়া শুরু : সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণা করার পর স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) তার নিরাপত্তা দেয়া শুরু করেছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ২টা ২০ মিনিটের দিকে এসএসএফ সদস্যরা খালেদা জিয়াকে নিরাপত্তা দেয়া শুরু করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।

তারেকের দেশে ফেরা নিয়ে আলোচনা : খালেদা জিয়া অসুস্থ হওয়ার পর তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি কবে ফিরবেন তা নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে। গত এক-দুই দিন স্যোসাল মিডিয়াতে তার ফেরা নিয়ে নানা আলোচনায় লিপ্ত হয়েছেন নেটিজেনরা। দুই-এক দিনের মধ্যেই তিনি দেশে ফিরছেন এ রকম তথ্যও ছড়িয়ে দেয়া হয়। লন্ডনের হিথ্রো বিমাবন্দর থেকে তিনি রওয়ানা হয়েছেন এমন ভিডিও কেউ কেউ পোস্ট করেন। তবে জানা গেছে, এসব তথ্য সঠিক নয়। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে তারেক রহমান জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর দেশে ফিরবেন।

জানা গেছে, গত সোমবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির যে বৈঠক হয়েছে সেখানেও তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে ওই বৈঠকের পর স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, শিগগিরই দেশে ফিরবেন তারেক রহমান। স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য জানিয়েছেন, নতুন কোনো পরিস্থিতি তৈরি না হলে পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি ডিসেম্বরের দ্বিতীয় অথবা তৃতীয় সপ্তাহে দেশে ফিরতে পারেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল বিকেলে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেয়ার মতো শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের পর তারেক রহমান দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেবেন। পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে শিগগিরই দেশে ফিরবেন তিনি।’

খালেদা জিয়ার অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে দ্রুত দেশে ফিরবেন তারেক রহমান : মির্জা ফখরুল

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা একই রকম থাকলে তার ছেলে ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দ্রুত দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার বিকেলে একটি গণমাধ্যমের সাথে আলাপচারিতায় তিনি এ তথ্য জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেয়ার মতো শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের পর তারেক রহমান দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেবেন। পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে তিনি শিগগিরই দেশে ফিরবেন।

এর আগে, দুপুরে নিজ মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন জানান, তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে এখনো নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। তিনি ট্রাভেল পাসও চাননি। চাওয়া মাত্রই তা ইস্যু করা হবে এবং তাকে দেশে ফিরতে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, খালেদা জিয়া যদি দেশের বাইরে চিকিৎসা নিতে চান, সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিএনপি ও খালেদা জিয়ার পরিবারের।