শাপলার চেতনা অস্বীকারকারীরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অকার্যকর করতে চায় : মামুনুল হক
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
২০১৩ সালের শাপলা চত্বর এবং ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির ও শাপলাস্মৃতি সংসদের চেয়ারম্যান আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, শাপলা চত্বরের আত্মত্যাগের বুনিয়াদের ওপর দাঁড়িয়েই ২০২৪-এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। যারা এই গণ-অভ্যুত্থানের সাথে গাদ্দারি করতে চায়, তারা মূলত শাপলার চেতনাকেই অস্বীকার করতে চায়।
গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে শাপলা স্মৃতি সংসদ আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
মামুনুল হক বলেন, শহীদ পরিবারগুলোকে জাতীয়ভাবে যেভাবে সহযোগিতা করা দরকার ছিল, সে ক্ষেত্রে অনেক গাফিলতি হয়েছে। তারা যে অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্য দিয়ে দিন পার করেছেন, তা ভাষায় প্রকাশ অসম্ভব। একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে আমি শহীদ পরিবারগুলোর কাছে সবার পক্ষ থেকে ক্ষমা চাই।
তিনি বলেন, ২০১৩ সালে আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। কিন্তু তৎকালীন বিএনপির একটি অংশের অসহযোগিতার কারণে শাপলা চত্বরের সেই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছিল। সেই গোষ্ঠীটি এখনো সক্রিয় এবং তারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে গুরুত্বহীন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এমনকি গণ-অভ্যুত্থানের ভিত্তিতে আয়োজিত গণভোটকেও তারা বিতর্কিত করতে চায়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেন, শাপলা স্মৃতি সংসদ শহীদদের তথ্য আগে থেকেই সংরক্ষণ করেছিল বলেই সরকারের পক্ষে তাদের পরিবারকে সম্মানিত করা সহজ হয়েছে। শহীদ পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা কিছু হারাননি, বরং জাতিকে অনেক কিছু দিয়েছেন। আপনাদের সন্তানদের আত্মত্যাগেই দেশ আজ ফ্যাসিবাদমুক্ত।
হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, আল্লাহর পথে জীবন উৎসর্গ করার চেয়ে বড় মর্যাদা আর কিছু নেই। শাপলা স্মৃতি সংসদের নির্বাহী সভাপতি মাওলানা আবুল হাসানাত জালালীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন- হাবের ভাইস চেয়ারম্যান হাফেজ নূর মোহাম্মদ, মুফতি মামুনুর রশীদ কাসেমী, মাওলানা জহিরুল ইসলাম, মাওলানা মোর্শিদুল আলম সিদ্দিকী প্রমুখ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মাওলানা কামাল উদ্দীন ও মাওলানা আল আবিদ শাকের। ইফতার মাহফিলে শহীদ পরিবারের সদস্য ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।