মান্নারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
৩২ বছরেও জোটেনি ভবন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরেই পাঠদান
Printed Edition
সোহেল মিয়া দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ)
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার মান্নারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৪ সালে। কিন্তু প্রতিষ্ঠার ৩২ বছর পরও বিদ্যালয়টিতে নির্মিত হয়নি কোনো স্থায়ী ভবন। নেই শৌচাগারের ব্যবস্থা, বছরের প্রায় আট মাস মাঠজুড়ে থাকে জলাবদ্ধতা। জরাজীর্ণ টিনের ঘরে অমানবিক পরিবেশে চলছে দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান।
গত বুধবার সরেজমিন দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ২০২২ সালের বন্যাদুর্গতদের জন্য নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের পুরনো মরিচাধরা টিন শেড ঘর। স্কুল প্রতিষ্ঠাকালে নির্মিত তিন কক্ষের ছোট ভবনটির দেয়ালজুড়ে স্যাঁতসেঁতে দাগ, মেঝেতে ফাটল। বর্ষা মৌসুমে ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ে, কোথাও কোথাও জমে থাকে হাঁটুসমান পানি। তখন পাঠদান কার্যত বন্ধের উপক্রম হয়। গ্রীষ্মে টিনের ঘর তপ্ত হয়ে ওঠে, তীব্র গরমে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। ভাঙা বেঞ্চে বসে ভেজা বই-খাতায় পড়ালেখা করতে হয় তাদের। শৌচাগার না থাকায় প্রয়োজন হলে বাইরে যেতে হয় শিক্ষার্থীদের।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৫৪ নম্বর মান্নারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার সময় নির্মিত তিন কক্ষের ভবনেই এখনো কোনো রকমে পাঠদান চলছে। বর্তমানে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ২০০ জন। মাত্র পাঁচজন শিক্ষক প্রতিদিন এই প্রতিকূল পরিবেশে ক্লাস পরিচালনা করছেন। ভবনসঙ্কট ও দুর্বিষহ অবস্থার কারণে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসতে অনীহা দেখালেও আশপাশে অন্য কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকায় এটিই তাদের একমাত্র ভরসা।
প্রধান শিক্ষক রহিমা খাতুন বলেন, এটি উপজেলার অন্যতম সুবিধাবঞ্চিত বিদ্যালয়। দুই যুগের বেশি সময় পার হলেও প্রতিষ্ঠানটি কোনো নতুন ভবন পায়নি। শুষ্ক মৌসুমে কোনোভাবে পাঠদান সম্ভব হলেও বর্ষায় সীমাহীন দুর্ভোগ দেখা দেয়। বিভিন্ন দফতরে একাধিকবার আবেদন করা হলেও এখনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী ফারহান তামিম বলে, বৃষ্টি হলে বই ভিজে যায়, গরমে মাথা ঘোরে। ঠিকমতো বসে পড়াও যায় না। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উপজেলার অন্যান্য বিদ্যালয়ে একাধিক নতুন ভবন নির্মাণ হলেও মান্নারগাঁও গ্রামের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটি অবহেলিত রয়ে গেছে।
দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পঞ্চানন কুমার সানা বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার চেষ্টা চলছে।