ফ্যাসিবাদ প্রশ্নে সরকার ও বিরোধী দলের ঐক্য অটুট থাকবে : প্রধানমন্ত্রী

জুলাইয়ের বিপ্লবকে ইতিহাসের পাতায় তুলে ধরুন : বিরোধীদলীয় নেতা

Printed Edition
first-1
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন : পিআইডি

সংসদ প্রতিবেদক

ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সরকার ও বিরোধী দল ঐক্যবদ্ধ রয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সংসদের রীতি অনুযায়ী আমাদের মধ্যে মতভিন্নতা থাকবে, তবে শত্রুতা নয়। প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের পরিবর্তে দেশে ন্যায়পরায়ণতা প্রতিষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ আর যাতে কখনো কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদ-স্বৈরাচার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে এবং এই প্রিয় মাতৃভূমি আর যাতে তাঁবেদারি রাষ্ট্রে পরিণত না হয়- সেই প্রশ্নে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে জাতীয় ঐক্য অটুট থাকবে।

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদের ২০২৬ সালের বাজেট (দ্বিতীয়) অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

বাজেট অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রগঠনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘দুর্নীতি দমন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বর্তমান সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি ও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার থাকবে।’

স্বৈরাচারী আমলের অর্থনৈতিক ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত স্বৈরাচারী সরকারের সময়ে প্রতি বছর এই দেশ থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার করা হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা তার বক্তব্যে দেশের রাস্তাঘাট বা অবকাঠামোগত যেসব সমস্যার বিবরণ দিয়েছেন, তার অন্যতম প্রধান কারণই হলো এই দুর্নীতি। এই দুর্নীতিকে যেকোনোভাবেই হোক- হাত বেঁধেই হোক কিংবা টুঁটি চেপেই হোক- নিয়ন্ত্রণ করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর।’

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পুলিশসহ সব সংস্থাকে সম্পূর্ণ পেশাদার ও আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, যাতে তারা সত্যিকার অর্থেই জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে পারে। এরই অংশ হিসেবে ১০ হাজার নতুন কনস্টেবল নিয়োগের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার কোনোভাবেই চরমপন্থা বা উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না। এ বিষয়ে আমরা বিরোধী দলেরও পূর্ণ সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।’

দেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সাধারণ নাগরিক, কৃষক, শ্রমিক বা শিক্ষকদের অন্যতম প্রধান চাওয়া হলো একটি নিরাপদ পরিবেশ। জনগণের এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের সরকারের প্রধান লক্ষ্য।’

দুর্নীতি ও দুঃশাসনের কারণে সামাজিক অবক্ষয়ের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী মূল্যবোধ পুনরুদ্ধারের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি শৈশবের বিখ্যাত ছড়া উদ্ধৃত করে বলেন, “‘সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারাদিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি’- আমাদের এই শৈশবের মূল্যবোধকে যেকোনো মূল্যে সংসদে ফিরিয়ে আনতে হবে। দেশগঠনে পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণ অপরিহার্য।”

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘জনগণের আকাক্সক্ষার ওপর ভিত্তি করে প্রণীত ৩১ দফা এখন জাতীয় দলিলে পরিণত হয়েছে। বিগত নির্বাচনে জনগণ এই ৩১ দফার প্রতি রায় দিয়েছে। এ ছাড়া নির্বাচনের আগে আমরা যে ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর করেছিলাম, তার প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে আমরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ।’

শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিগত স্বৈরাচারী আমলে অটো-প্রমোশন ও নকলকে উৎসাহিত করে ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করা হয়েছিল। আমরা এই ধারা পরিবর্তন করছি। শিক্ষকদের উন্নত প্রশিক্ষণ ও বিতর্কিত সিলেবাস সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে।’

স্বাস্থ্য খাতের নাজুক অবস্থা নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার মন্তব্যের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতা বলেছিলেন স্বাস্থ্য খাত ১০০ ভাগ অসুস্থ, আমি বলব এটি ১০১ ভাগ অসুস্থ। আমরা এই খাতকে পুনর্গঠন করতে চাই এবং আগামী পাঁচ বছরে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দও জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।’

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বিদ্যুৎ খাতে তিন লাখ কোটি টাকার হরিলুট হয়েছে এবং কুইক রেন্টালের নামে কুইক মানি অর্জনের সুযোগ করে দেয়া হয়েছিল। স্বৈরাচার পতনের সময় জ্বালানি মজুদ মাত্র ৩০ দিনের কম ছিল, যা আমরা এরই মধ্যে ৪৫ দিনে উন্নীত করেছি এবং পর্যায়ক্রমে ৯০ দিনে নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া বিদেশীদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাপেক্সকে সক্রিয় করা হচ্ছে এবং তাদের জন্য নতুন রিগ আমদানি করা হচ্ছে।’

ভাষণের শেষ অংশে প্রধানমন্ত্রী দেশের ৩৫০ জন সংসদ সদস্যকে নিজ নিজ এলাকায় যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা এবং প্লাস্টিক-পলিথিন ফেলা রোধে জনসচেতনতা তৈরির আহ্বান জানান।

জুলাইকে ইতিহাসের পাতায় তুলে ধরুন : বিরোধীদলীয় নেতা

জাতীয় সংসদকে দেশের মজলুম ও সাধারণ মানুষের আশা-আকাক্সক্ষার ‘মিলনমেলা’ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান। বাজেট অধিবেশনে নিজের সমাপনী বক্তব্যে তিনি সংসদকে দেশের মানুষের হতাশা দূর ও আস্থা ফিরিয়ে আনার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বর্ণনা করেন। একই সাথে তিনি স্পিকারের অভিভাবকত্বকে আরো বলিষ্ঠ করার অনুরোধ জানান এবং রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় রোধ, সুষম উন্নয়ন ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ দাবি করেন।

আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার তাগিদ দিয়ে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী একজন গতিশীল মানুষ এবং তিনি চাইলে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারবেন। তবে এর জন্য দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরার প্রসঙ্গ টেনে আমি বলব, আপাতত দুর্নীতির হাত চেপে ধরুন এবং হাতকড়া পরিয়ে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করুন, যাতে আর কেউ জনসম্পদ লুটের সাহস না পায়।’

জুলাই বিপ্লব ও ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে আগামী ৫ আগস্ট ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রীকে অগ্রিম ধন্যবাদ জানান বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, ‘সরকারি দল ও বিরোধী দল সবাই বলছি জুলাই আমাদের। এটা যেন কেবল কথার কথা না হয়। জুলাইকে ইতিহাসের পাতায় যথাযথভাবে তুলে ধরুন।’

উন্নয়ন বরাদ্দের ক্ষেত্রে সুষম বণ্টনের দাবি জানিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, সংরক্ষিত আসনের সরকারি দলের সদস্যদের বড় অঙ্কের ফান্ড বা বরাদ্দ দেয়া হলেও বিরোধী দলের কাউকে তা দেয়া হয়নি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘বিএনপির ৩১ দফা এবং নির্বাচনী ইশতেহারে সুষম উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। আমরা সেই সুষম বণ্টনটাই প্রত্যাশা করি। রাজনৈতিক বৈষম্যের কারণে সাধারণ জনগণ যেন তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়।’ একই সাথে বিরোধী দলের আসনগুলোতে সরকারি দলের সংরক্ষিত আসনের মহিলা এমপিদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

বাজেট ও গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসের প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘সম্প্রতি সংসদে একটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে, যা দেশের স্বার্থে ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে জরুরি ছিল। কিন্তু বিলটির ওপর বিস্তারিত আলোচনা ও অংশ নেয়ার সুনির্দিষ্ট সুযোগ থেকে বিরোধী দল বঞ্চিত হয়েছে। ভবিষ্যতে বিরোধী দলের সদস্যদের যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি, অন্যথায় সংসদে বসা কেবল সময়ের অপচয় ছাড়া আর কোনো উপকারে আসবে না।’

সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক বিপর্যয় নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বন্যা ও ভূমিধসে নিহতদের পরিবারকে বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বিশেষ করে চট্টগ্রামের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে অর্থমন্ত্রীকে অতিরিক্ত দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রাজধানী ঢাকার নাজুক পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা ও জলাবদ্ধতার তীব্র সমালোচনা করে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘একটু বৃষ্টি হলেই ঢাকা শহর ড্রেনের পানিতে ভেসে যায়। ঢাকাকে তিলোত্তমা ও দৃষ্টিনন্দন করতে বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা এবং একটি সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি।’

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রাথমিক স্তরে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেয়ার তাগিদ দেন তিনি। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করা, অবহেলিত স্বতন্ত্র মাদরাসাগুলোর উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক বিবেচনায় অযোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার সংস্কৃতি বন্ধ করার অনুরোধ জানান তিনি।

সরকারি অর্থ অপচয় এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিজেদের নামফলক বসানোর প্রাচীন সংস্কৃতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘সরকারি টাকায় কোনো ব্যক্তি বা রাজনীতিকের নামে স্থাপনার নামফলক বসানোর সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া উচিত। সরকারের পটপরিবর্তনের সাথে সাথে শত শত কোটি টাকার সরকারি সম্পদ নষ্ট করে নামফলক পরিবর্তনের এই অপরাজনীতি দেশের জন্য চরম ক্ষতিকর।’

সবশেষে সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের স্বীকৃতিস্বরূপ নিয়মিত রেওয়াজ অনুযায়ী এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ বিশেষ ইনসেন্টিভ বা বোনাস প্রদানের জোর দাবি জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা তার বক্তব্য শেষ করেন।

সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্ব

চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছরে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের নানাধরনের অনিয়ম ও পরিচালনায় অদক্ষতা কাটিয়ে উঠে বন্দরটির সব সমস্যা সমাধান ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে সরকার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিগত বছরের তুলনায় ২০২৫ সালে কার্গো এবং কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে প্রবৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে ৪.০৭ শতাংশ, ১১.৪৩ শতাংশ এবং ১০.৫ শতাংশ।

সংসদ সদস্য মো: রুহুল আমীন দুলালের এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। একই সাথে তথাকথিত ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের’ শনাক্ত করে তালিকা থেকে বাদ দেয়ার জন্য বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য মো: আনোয়ারুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ স্বাধীনের পর সঠিক তালিকা প্রণয়নের যাদের দায়িত্ব ছিল, তারা সেটিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছে। অতীতে দলীয়করণের মাধ্যমে যে তালিকা করা হয়েছে, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য হলো একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য তালিকা জাতির সামনে তুলে ধরা।’

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মোসা: ফরিদা ইয়াসমিনের এক প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) অধীনে থাকা ১৫টি বন্ধ ও অচল বস্ত্রকল সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) ও বেসরকারি উদ্যোগে আবার চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ ছাড়া আরো দু’টি বন্ধ মিল দীর্ঘমেয়াদি লিজের মাধ্যমে সচল করার প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে।

‘সবুজ বিদ্যালয়’ কর্মসূচির উদ্বোধন

বুধবার সকালে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের ‘সবুজ বিদ্যালয়’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তার সাথে ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

দেশের ৬০টি জেলার শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচিতে অংশ নেয় এবং তাদের তৈরি চিত্রাঙ্কন, হস্তশিল্প ও কাগজের তৈরি নিজ নিজ এলাকার ঐতিহ্যের স্টলগুলো প্রদর্শন করে। প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘এসব কি তোমরাই বানিয়েছ?’ শিক্ষার্থীরা সমস্বরে ‘জি প্রধানমন্ত্রী’ বলে উত্তর দিলে তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের সাথে হাত মিলিয়ে বিদ্যালয় পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান এবং বলেন, ‘তোমরা বিদ্যালয়কে পরিচ্ছন্ন রাখবে। যেখানে ময়লা দেখবে তুলে নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলে দেবে।’ হবিগঞ্জের একটি স্টলে গিয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের কুশল বিনিময় করে বলেন, ‘সবাই একটি করে গাছ লাগাবে এবং গাছের পরিচর্যা করবে।’

এরপর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে কোমলমতি শিশুদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যদি আমাদেরকে একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হয়, তাহলে অবশ্যই এই ছোট কোমলমতি শিশুদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এই অনুষ্ঠানে শিক্ষকবৃন্দের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে- আসুন, একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমাদের দয়া করে সাহায্য করুন।’ অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।