বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬

ফের ম্যারাডোনাকে পেছনে ফেললেন মেসি

Printed Edition
first-4
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে নিজের দ্বিতীয় গোলের শট আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির : ইন্টারনেট

আর্জেন্টিনার দুই কিংবদন্তি ফুটবলার লিওনেল মেসি ও দিয়েগো ম্যারাডোনা। আর্জেন্টিনা ১৯৮৬ সালে ম্যারাডোনার নেতৃত্বে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জিতেছিল। পরে বিশ্ব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্ব হারানোর পর লিওনেল মেসির অধিনায়কত্বে ফের তা পুনরুদ্ধার হয় গত আসরেই। এবারের বিশ্বকাপে তারা বর্তমান চ্যাম্পিয়নের মর্যাদা নিয়েই খেলছে। মেসিদের পক্ষে শিরোপা ধরে রাখা সম্ভব হবে কি না- তা সময়ই বলে দেবে। তবে ইতোমধ্যেই একের পর এক রেকর্ড গড়ে চলেছেন মেসি। এই মুহূর্তে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গোলের মালিক তিনি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে মেসি জার্মানির মিরোসøাভ ক্লোসাকে পেছনে ফেলেছেন। ক্লোসার ১৬ গোল টপকে মেসি এখন ১৮ গোলের মালিক। এ দিন ম্যারাডোনকে পেছনে ফেলেন এই তারকা ফুটবলার। ম্যারাডোনা ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে টানা দুই ম্যাচে দু’টি করে মোট চার গোল দিয়েছিলেন। মেসি সেই রেকর্ড ভেঙে দুই ম্যাচে করেছেন পাঁচ গোল।

১৯৮৬ বিশ্বকাপে ম্যারাডোনা কোয়ার্টার ফাইনালে দুই গোল দেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। এরপর সেমিফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষেও জোড়া গোল। এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মেসির হ্যাটট্রিক ছিল আলজেরিয়ার বিপক্ষে। এরপর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দুই গোল।

ম্যারাডোনাকে আরো আগেই শিরোপা জয়ের দিক থেকে অতিক্রম করেছেন মেসি। ম্যারাডোনা বিশ্বকাপ জিতলেও কখনোই কোপা আমেরিকায় দলকে চ্যাম্পিয়ন করাতে পারেননি। সেখানে মেসি একবার বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি দুইবার আর্জেন্টিনাকে শিরোপা এনে দিয়েছেন কোপা আমেরিকায়, ২০২১-এ ব্রাজিলের মাঠে এবং ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মাঠে। প্রথমবার ব্রাজিলকে ফাইনালে হারিয়ে, পরেরবার কলম্বিয়াকে হারিয়ে।

মেসির পেনাল্টি মিসের হ্যাটট্রিক

একটি দলের একজন খেলোয়াড় একবার পেনাল্টি মিস করলে তাকে সাধারণত আর পেনাল্টি নিতে দেয়া হয় না। এটি একটি অঘোষিত নিয়ম। তবে এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম লিওনেল মেসি। যতবারই পেনাল্টি বা টাইব্রেকার মিস করুক না কেন, পরের স্পট কিক আর্জেন্টিনা পেলেই দায়িত্বটা তাকেই দেয়া হয়। যদি তিনি মাঠে থাকেন। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে এবারের বিশ্বকাপে দ্বিতীয় হ্যটট্রিক পাওয়া হতো এই আজেন্টাইন জাদুকরের। কিন্তু তার নেয়া পেনাল্টি শটটি সরাসরি গোলবারের ডান দিয়ে চলে যায় বাইরে। এরপর অবশ্য এই আজেন্টাইন অধিনায়ক জোড়া গোল করেছেন। দুই ম্যাচে পাঁচ গোল দিয়ে তিনি এখন এবারের আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতা। তবে ওই পেনাল্টি মিস না হলে বিশ্বকাপ ইতিহাসে টানা দুই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করার বিরল কৃতিত্ব হতো তার।

বিশ্বকাপে এই পেনাল্টি মিসটা নতুন কিছু নয় মেসির জন্য। এ নিয়ে টানা তিন বিশ্বকাপে পেনাল্টি মিস হলো তার। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপ দিয়ে শুরু। সেই আসরে উদ্বোধনী ম্যাচে আর্জেন্টিনা ১-১ গোলে ড্র করেছিল আইসল্যান্ডের সাথে। সেই খেলায় আর্জেন্টিনা জিততে না পারার জন্য দোষ চাপানো হয়েছিল মেসির ওপর। কারণ পেনাল্টি থেকে তিনি গোল করতে পারেননি আইসল্যান্ডের বিপক্ষে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে মেসির পা থেকে এসেছিল সাত গোল। এর মধ্যে পেনাল্টিতে গোল ছিল চারটি। এই স্পট কিকে তার আরেকটি গোল হতে পারত, যদি তিনি পেনাল্টি মিস না করতেন পোল্যান্ডের বিপক্ষে। কাতার বিশ্বকাপে সৌদি আরবের কাছে প্রথম ম্যাচে হারের পর বেশ চাপের মুখে পড়ে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। যদিও সেই ম্যাচে পেনাল্টিতেই গোল করেছিলেন ফুটবলের এই কিংবদন্তি। তবে পোল্যান্ডের বিপক্ষে মাস্ট উইন ম্যাচে ওই পেনাল্টি মিস ফের জন্ম দিয়েছিল প্রশ্নের। যদিও শেষ পর্যন্ত লিওনেল স্কালোনির দল ২-০ গোলে জয় তুলে নেয়।

শুধু পেনাল্টি নয়, টাইব্রেকার মিসও করেন মেসি। ২০১৬ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে তিনি টাইব্রেকারে গোল করতে ব্যর্থ হন চিলির বিপক্ষে। শেষ পর্যন্ত হারতেও হয় আর্জেন্টিনাকে। ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকাতেও টাইব্রেকার শট মিস করেন তিনি।

বিশ্বকাপসহ পুরো ক্যারিয়ারে মেসি মোট ৩২টি পেনাল্টি মিস করেছেন। এর মধ্যে ক্লাব ফুটবলে ২২টি, বিশ্বকাপে তিনটি এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে অন্য ম্যাচগুলোতে আটটি মিস।