সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি
রাজধানীর ২১৩১ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৩৭টি
বাইরে থাকবে ১৮০টি স্ট্রাইকিং টিম ও ৫১০টি মোবাইল টিম
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে এ বছর ঢাকা মহানগর এলাকায় দুই হাজার ১৩১টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রের মধ্যে ৩৭টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ আবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি। তাই এই কেন্দ্রগুলোতে সাতজন করে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া থাকবে বডি ক্যামেরা। এ বছর অবস্থান, ভোটারের সংখ্যা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ভোটকেন্দ্রগুলোকে দু’টি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে। এক হাজার ৬১৪টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নতি করা হয়েছে, এগুলোতে ন্যূনতম চারজন করে পুলিশ সদস্য থাকবে। তা ছাড়া ৫১৭টি সাধারণ কেন্দ্রে তিনজন করে পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতি কন্ট্রোলরুমের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণের জন্য থাকবে বডি ওর্ন ক্যামেরা। ভোটকেন্দ্রের বাইরে নিরাপত্তার জন্য থাকবে ১৮০টি স্ট্রাইকিং টিম ও ৫১০টি মোবাইল টিম।
গতকাল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ‘নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ডিএমপি কর্তৃক গৃহীত নিরাপত্তা পরিকল্পনা সংক্রান্ত’ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানায় ডিএমপি। ডিএমপি জানায়, ২৫ হাজার সদস্যকে নির্বাচনের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। আটটি ডিভিশনে আটটি পৃথক কন্ট্রোল রুম এবং চারটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হবে। সুবিধাজনক স্থানে মোতায়েন থাকবে স্পেশাল রিজার্ভ ফোর্স। ঊর্ধ্বতন কর্মকতাদের সরাসরি নেতৃত্বে থাকা এসব ফোর্স প্রয়োজনে দ্রুত যেকোনো স্থানে মোতায়েন করা যাবে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ডগ স্কোয়াড, ক্রাইমসিন ভ্যান ও অশ্বারোহী পুলিশ মোতায়েন থাকবে।
ডিএমপি কমিশনার শেখ মো: সাজ্জাত আলী বলেন, কামরাঙ্গীরচর, সাঁতারকুল ও বেরাইদের মতো দুর্গম এলাকা, যেখানে যাতায়াত ব্যবস্থা কঠিন এবং রাস্তাঘাট সরু, সেখানে পুলিশের বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে। এই ধরনের দুর্গম এলাকায় মূল পরিকল্পনার বাইরে আরো ৩৭টি ভোটকেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানের জন্য নি-িদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কেউ আইনশৃঙ্খলার অবনতির চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নির্বাচনকেন্দ্রিক কোনো ধরনের হুমকি আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো থ্রেট নেই, পরিবেশ স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ভালো চলছে। ক্রাইম নেই, রাস্তা ব্লকিং নেই। ঢাকা শহরের জনসংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৬৬ লাখ বললেও এই বিশাল জনগোষ্ঠীর শহরে বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চমৎকার। অতীতের নির্বাচনে পুলিশকে যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছে সে কালিমামুক্ত হয়ে জাতিকে একটি অর্থবহ ও সর্বজন গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আপনাদের মাধ্যমে সর্বসাধারণের কাছে স্পষ্টভাবে বলতে চাই এই নির্বাচনে আমরা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও প্রশ্নাতীত নিরপেক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে এমন একটি মানদণ্ড স্থাপন করবো যা ভবিষ্যতের জন্য অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।
পুলিশের নিরপেক্ষতা ও রাজনৈতিক অবস্থান পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে কমিশনার বলেন, গত ১৫ মাস ধরে তিনি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং এই সময়ে পুলিশ কোনো বিশেষ দলের হয়ে কাজ করেনি। পুলিশের কাজের ধরনই প্রমাণ করে যে তারা কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষপাতিত্ব করছে না। পুলিশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনায় সাংবাদিক, ডাক্তার এবং প্রকৌশলীসহ সব পেশাজীবীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা সাংবাদিকদের ওপর হামলার আশঙ্কা প্রসঙ্গে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, পুলিশের ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনায় গণমাধ্যম কর্মীরাও রয়েছেন এবং কারো নিরাপত্তা বিঘিœত হওয়ার আশঙ্কা তারা করছেন না। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পূর্ব থেকেই ডিএমপি রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখতে কাজ আরম্ভ করে। এর অংশ হিসেবে নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য নির্বাচন সংক্রান্ত বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য পুলিশ সদস্যদেরকে স্বীয় দায়িত্ব ও কর্তব্য পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষভাবে পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কথমিশনার বলেন, ডেইলি স্টার ও দৈনিক প্রথম আলোতে যে আক্রমণ হলো রাত ১১টার সময়, ট্রাফিক জ্যামের কারণে আমার অফিসারদের সময় মতো সেখানে পাঠাতে পারেনি। তা ছাড়া যমুনাতে সরকার প্রধানের বাসভবন ঘেরাও করে ঢোকার চেষ্টা করলে সে অবস্থায় কি ডিএমপি কমিশনারের বসে থাকার সুযোগ আছে? আমি শুধু নিজেই যাইনি, আইজিপিকে ফোন করেছি। যতক্ষণে তিনি এসেছেন, আমরা ততক্ষণে আন্দোলকারীদের সরিয়ে দিয়েছি। তবে সাংবাদিকদের ওপরে পুলিশের হামলা-মারধরের ঘটনায় কোনো উত্তর দেননি তিনি। জড়িত অতিউৎসাহী পুলিশ সদস্যদের শনাক্ত কিংবা ব্যবস্থা সম্পর্কেও কোনো মন্তব্য করেননি ডিএমপি কমিশনার।