গৌরনদীতে সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসায় তিন ধাপের সঙ্কট

থামছে না মৃত্যু

Printed Edition

আরিফিন রিয়াদ গৌরনদী (বরিশাল)

বরিশালের গৌরনদীতে বিষধর সাপের দংশনে আক্রান্ত রোগীদের মৃত্যুর মিছিল থামছে না। প্রথমে ওঝার ঝাড়ফুঁকে মূল্যবান সময় নষ্ট, এরপর উপজেলা হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম না থাকা এবং সর্বশেষ জেলা শহরে নেয়ার পথে বিলম্ব; এই তিন সঙ্কটে হারিয়ে যাচ্ছে রোগীর বাঁচার শেষ সুযোগ। ফলে প্রতিরোধযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও সাপে কাটা মৃত্যু এখানে নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসা জেলা শহরনির্ভর না রেখে দ্রুত উপজেলা পর্যায়েই জরুরি সেবা চালু করার দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামাঞ্চলে কাউকে সাপে কাটলেই স্বজনরা প্রথমে ওঝার শরণাপন্ন হন। এতে প্রাথমিক চিকিৎসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘গোল্ডেন টাইম’ নষ্ট হয়। পরে রোগীর অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। কিন্তু সেখানে বিষধর সাপে কাটা রোগীর জন্য প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনম না থাকায় চিকিৎসকেরা নিরুপায় হয়ে রোগীকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। এই দীর্ঘ পথে যাওয়ার মধ্যেই অনেক রোগী প্রাণ হারান।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত কয়েক বছরে গৌরনদী উপজেলায় অন্তত পাঁচজন সাপে কাটা রোগী চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেছেন। ২০১৬ সালে বানিয়াশুরি গ্রামের মাজেদা বেগম, ২০২০ সালে কলেজছাত্র শাওন চৌকিদার, ফারুক দেওয়ান, সাপুড়ে রেজাউল করিম এবং ২০২৩ সালে রাজু সরদার, তারা প্রত্যেকেই উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে জেলা শহরে নেয়ার পথে মারা যান। নিহতদের স্বজনদের অভিযোগ, উপজেলা পর্যায়ে অ্যান্টিভেনম থাকলে এসব মৃত্যু এড়ানো সম্ভব ছিল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা: তৌকির হোসেন জানান, ২০২০ সাল থেকে চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ৬০ জন সাপে কাটা রোগী হাসপাতালে এসেছে। এর মধ্যে বিষধর সাপে আক্রান্তদের উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদরে পাঠাতে হয়েছে। বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা: শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, উপজেলা পর্যায়ে অ্যান্টিভেনমের সঙ্কট রয়েছে।