তদন্তে টাস্কফোর্সকে আরো ৬ মাস দিল হাইকোর্ট
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য গঠিত উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্সকে আরো ৬ মাস সময় দিয়েছেন বাংলাদেশের হাইকোর্ট। গতকাল রোববার বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। এর আগে গত বছরের ২৩ অক্টোবর আদালত তদন্তের জন্য ৬ মাস সময় দিয়েছিল।
আদালতে শুনানির সময় অ্যাটর্নি জেনারেল মো: রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, গত ১৩ বছরেও এই চাঞ্চল্যকর মামলার চার্জশিট জমা দিতে না পারা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান তদন্তকারী দল পূর্ববর্তী সংস্থাগুলোর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং ডিজিটাল আলামত (সিডি) হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে।
আদালতে শুনানি চলাকালে রিটকারী আইনজীবী শিশির মনির ও মঞ্জিল মোরশেদ তদন্ত কর্মকর্তাকে সশরীরে তলবের আবেদন জানিয়েছিলেন। অন্য দিকে অ্যাটর্নি জেনারেল মো: রুহুল কুদ্দুস কাজল আদালতে বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা মামলার একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন এবং পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আরো ৬ মাস সময় প্রয়োজন।
শুনানি শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল মামলার তদন্তের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, ‘থানা এই মামলাটি মাত্র চার দিন তদন্ত করতে পেরেছিল। এরপর মামলাটি চলে যায় ডিবির কাছে। ডিবি এই মামলাটি দুই মাস দুই দিন তদন্ত করেছে। এরপর ২০১২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এই মামলাটা ডিবি থেকে সরিয়ে নিয়ে র্যাবকে তদন্ত করতে দেন আদালত।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনিকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এ মামলার আসামিরা হলেন-রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, কামরুল ইসলাম ওরফে অরুণ, আবু সাঈদ, সাগর-রুনির বাড়ির দুই নিরাপত্তারক্ষী পলাশ রুদ্র পাল ও এনায়েত আহমেদ এবং তাদের ‘বন্ধু’ তানভীর রহমান খান। এদের মধ্যে তানভীর জামিনে রয়েছে। পলাশ রুদ্র পাল জামিনে গিয়ে পলাতক হয়েছেন। অপর আসামিরা কারাগারে রয়েছেন।