বুলবুল পাকিস্তানে : আসতে পারে সুখবর

Printed Edition
khela-1
পাকিস্তানের লাহোরে পিসিবি ও আইসিসি কর্মকর্তাদের সাথে বিসিবি প্রেসিডেন্ট আমিনুল ইসলাম বুলবুল : ইন্টারনেট

ক্রীড়া প্রতিবেদক

গতকাল লাহোরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সাথে বৈঠক করতে যান আইসিসির দুই প্রতিনিধি ইমরান খাজা ও মুবাশির উসমানি। খাজা আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহের সহকারী। তাকেই দায়িত্ব দেয়া হয়েছে পাকিস্তান বোর্ডের সাথে আলোচনা চালাতে। পুরো বিষয়টির দিকে নজর রেখেছেন আইসিসির প্রধান নির্বাহী সংযোগ গুপ্ত। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল গতকাল সকালেই পাকিস্তানের লাহোরে পৌঁছেছেন। আইসিসির ডাকা সভায় যোগ দিতে পাকিস্তান গেছেন আমিনুল।

সন্ধ্যায় আইসিসির বোর্ড মেম্বারদের অনলাইনে একটি সভা হওয়ার কথা। তবে অনলাইন সভায় কেন বিসিবি সভাপতিকে স্বশরীরে পাকিস্তান যেতে হবে তা নিয়ে রয়েছে গুঞ্জন। বোর্ডের একাধিক পরিচালক ও কর্মকর্তা কেউ-ই নিশ্চিত করে বলতে পারেননি পাকিস্তানে কেন গিয়েছেন বোর্ড সভাপতি। তবে পাকিস্তানের জিয়ো নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিসির ভার্চুয়াল সভায় বোর্ড মেম্বাররা উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়া পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি মহসিন নাকভির সাথেও আলোচনায় বসার কথা।

ধারণা করা হচ্ছে ভারত ও পাকিস্তানের ম্যাচকে ঘিরে এ সভা। নিরাপত্তাশঙ্কায় ভারতে ম্যাচ খেলতে রাজি না হওয়ায় বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করেছে আইসিসি। বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানাতে ভারতের বিপক্ষে ‘এ’ গ্রুপ থেকে এই ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। ভারত ও পাকিস্তানের ম্যাচকে ঘিরে অচলাবস্থা নিরসণে এই সভার আয়োজন করা হয়েছে। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার অনুরোধ জানিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) চিঠি দিয়েছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি)। পর্যটন খাত থেকে বাড়তি আয়ের প্রত্যাশা ছিল লঙ্কানদের। কিন্তু ম্যাচটি যদি শেষ পর্যন্ত না হয় তাহলে শ্রীলঙ্কাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ জন্য পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে তারা চিঠি দিয়েছে।

পাকিস্তান ও ভারত এক দশকের বেশি সময় ধরে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলে না। আইসিসির লাভের বিরাট অংশ আসে এই দুই দেশের ম্যাচ থেকে। এবারের বিশ্বকাপের ম্যাচটি না হলে ধারণা করা হচ্ছে, ক্ষতি হতে পারে ২৫ কোটি ডলার। সব সংকট নিরসণে জন্যই হতে পারে এ আলোচনা সভা। কলম্বোতে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি দুই দলের ম্যাচটি হওয়ার কথা।

নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে পাকিস্তান যদি ভারতের বিপক্ষে নামে তাহলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে বেঁচে যাবে আইসিসি। তাতে বাংলাদেশের কি লাভ। তাদের জায়গায় স্কটল্যান্ডতো এক ম্যাচে খেলেই ফেলেছে। সম্ভাব্য যা হতে পারে- বাংলাদেশকে ‘ক্ষতিপূরণ’ দিতে পারে আইসিসি। সেই ‘ক্ষতিপূরণ’ হতে পারে আর্থিকভাবে, হতে পারে ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে কোনো আইসিসির ইভেন্ট আয়োজনের সত্ত্ব দিয়ে। বিশ্বকাপের লাভের ভাগ দিতে পারে আইসিসি। ভারতে যেতে অস্বীকৃতি জানানোয় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যেসব আইসিসির ‘শাস্তিমূলক ব্যবস্থা’র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, সেটা থেকেও বের হয়ে আসতে পারে। কিংবা ভিন্নভাবেও বাংলাদেশকে কোনো ‘সান্ত¡না’ বা সমর্থনসূচক বিবৃতিও দিতে পারে আইসিসি।