সুদানে সন্ত্রাসী হামলায় ] নিহত জাহাঙ্গীরের বাড়িতে স্বজনদের আহাজারি
Printed Edition
পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা
যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদানের আবেইতে স্থানীয় সময় দুপুর ৩টা ৪০ মিনিটে জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষা মিশনের কাদুগলি লজিস্টিক বেসে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর ড্রোন হামলায় ছয়জন বাংলাদেশী শান্তিরক্ষী শহীদ হয়েছেন। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস।
নিহতদের মধ্যে একজন জাহাঙ্গীরের (৩০) গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় চলছে স্বজনদের আহাজারি। মিশনে যাওয়ার মাত্র এক মাসের মাথায় তার এমন মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জাহাঙ্গীর উপজেলার জাঙ্গালীয়া ইউনিয়নের তারাকান্দি গ্রামের কৃষক হজরত আলীর ছেলে। তার স্ত্রী এবং তিন বছর বয়সের একটি শিশু সন্তান রয়েছে।
শনিবারের ওই হামলায় আরো আটজন শান্তিরক্ষী আহত হয়েছেন। তারাও সবাই বাংলাদেশী।
সরেজমিনে গতকাল ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের আহাজারিতে পুরো গ্রামে শোকাবহ অবস্থা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা জাহাঙ্গীরের বাড়িতে এসে ভিড় করছেন। কেউ কেউ পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন। বাড়ির ভেতরে ছোট একটি টিনের ঘরে জাহাঙ্গীরের স্ত্রী আহাজারি করছেন। তাকে সান্ত্বনা দেয়ার জন্য ঘরভর্তি মানুষ। বাড়ির উঠানে বসে বাবা হজরত আলী কেঁদে কেঁদে লোকজনের সাথে কথা বলছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, অভাবের সংসারে ভাগ্য বদলের আশায় গত ৭ নভেম্বর তিনি জাতিসঙ্ঘের শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নিতে সুদানে যান।
মিশনে যাওয়ার মাত্র এক মাস সাত দিনের মাথায় তার মৃত্যুর খবরে পুরো পরিবার হতভম্ব হয়ে পড়েছে।
বাবা হজরত আলী জানান, তিন সন্তানের মধ্যে জাহাঙ্গীর দ্বিতীয়।
শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর খবর পান।
এরপর গতকাল সকালে রংপুর সেনানিবাস থেকে ক্যাপ্টেন ইমরান নামে একজন মুঠোফোনে তাকে ছেলের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।