জামায়াতকে নির্মূলে কাজ করার আহ্বান মির্জা ফখরুলের
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
জামায়াতে ইসলামী কখনোই সুস্থ চিন্তা করে না মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তাদের যে অতীত ইতিহাস তা আমরা সবাই খুব ভালো করে জানি। সে কারণেই সমগ্র জাতি অত্যন্ত সচেতনভাবে তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং আগামীতে যেন তাদেরকে রাজনৈতিকভাবে পুরোপুরি নির্মূল করা যায় সেভাবে আমাদেরকে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, আমি আজকে এক পত্রিকায় একটি সংবাদ দেখলাম। সংবাদটি আমাকে অত্যন্ত আহত করেছে। জামায়াতে ইসলামের আমির বলেছেন, বিএনপি ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় এসেছে। আমি এটার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি, প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং তিনি বা তার দল যে কখনোই সুস্থভাবে চিন্তা করেন না তা প্রমাণিত হয়েছে। গতকাল শনিরার দুপুরে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথসভা শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম সাংবাদিকদের উদ্দেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমানের বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে এই মন্তব্য করেন।
বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, সমগ্র পৃথিবীর দেশ থেকে যারা অবজারভার এসেছিল, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলো, পত্রপত্রিকা মিডিয়া এক বাক্যে স্বীকার করেছে যে এই নির্বাচনটি ছিল বাংলাদেশের জন্মের পর থেকে সবচেয়ে নিরপেক্ষ, অবাধ এবং সুষ্ঠু । এবং সেই সুষ্ঠু বিচারের মধ্য দিয়েই বিএনপি তার জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিয়ে ২১৩টি আসন লাভ করে সরকার গঠন করার সুযোগ পেয়েছে। সুতরাং জামায়াতে ইসলামের আমিরের এই বক্তব্য আমি আবার প্রত্যাখ্যান করছি শুধু নয়, নিন্দা জানাচ্ছি এবং ক্ষোভ প্রকাশ করছি।
তিনি বলেন, আজকে বিভিন্নভাবে বিএনপির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের উপরে প্রচারণা চালানো হচ্ছে ওই শক্তিটির (জামায়াতে ইসলামী) পক্ষ থেকে। চেষ্টা হচ্ছে একটা ধূম্রজাল সৃষ্টি করা, একটা বিভেদ সৃষ্টি করার। আমরা ৫ আগস্টের পরে যে সুযোগ পেয়েছি বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার, সেই সুযোগ ও প্রচেষ্টাকে নষ্ট করে দেয়ার মাধ্যমে আবার একটা ফ্যাসিস্ট শাসনের পাঁয়তারা তারা (জামায়াত) করছে কি না সেটা আমাদেরকে চিন্তা করতে হবে। ভিন্নভাবে দেশকে আবার স্বৈরাচারের মধ্যে তারা নিতে চায় কি না সেটাও আমাদেরকে চিন্তা করতে হবে।
বিএনপি মহাসচিব এ কারণে মহান মে দিবসে শ্রমিক সমাবেশের গুরুত্ব বেশি উল্লেখ করে সর্বাত্মকভাবে তা সফল করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ১ মে দুপুর ২টায় এই সমাবেশ হবে। এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আমাদের দলের চেয়ারম্যান এবং বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে জননন্দিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সভাটি সফল করার জন্য আমরা দলের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছি।
তিনি বলেন, আমরা ঢাকাতে এই দিবসটিকে একটা উৎসবের দিন এবং একই সাথে রাজনৈতিক শপথ গ্রহণ করার দিন হিসেবে নিতে চাই, যাতে করে আমরা ভবিষ্যতে আমাদের রাজনীতিকে আরো বেগমান করতে পারি।
এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আপনারা সবসময় লক্ষ্য করেছেন যে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বিনষ্ট করার জন্য একটি পক্ষ প্রথম থেকেই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনের আগে থেকেই অফুরন্ত মিথ্যাচার, প্রোপাগান্ডা, ফেক ইনফরমেশন, সোশ্যাল মিডিয়াকে অন্যায়ভাবে, অনৈতিকভাবে ব্যবহার করে বিএনপিকে জনগণের কাছ থেকে সরিয়ে দেয়ার একটা প্রচেষ্টা চলেছে। কিন্তু সেটা সক্ষম হয়নি, সফল হয়নি।
তিনি বলেন, এখনো আবার দেখেন; যে সমস্ত কার্টুন করে তারা দিচ্ছে এবং সেগুলোকে নিয়ে গিয়ে যে প্রচেষ্টা তৈরি করছে খুব স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে, ওই শক্তি বাংলাদেশকে আবার অস্থিতিশীল করতে চায়। আমরা এই প্রচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং ছাত্র রাজনীতিতে এ ধরনের একটা অবস্থা তৈরি করার যে প্রচেষ্টা করা হচ্ছে আমরা তারও নিন্দা জানাচ্ছি। আমি আশা করব যে, যে সব পক্ষ এই ধরনের অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছেন তার বিরুদ্ধে তারা থাকবেন। কারণ বাংলাদেশের স্বাধীন সচেতন ছাত্র সমাজ বরাবরই অপরাজনীতিকে পরিহার করেছে এবং জনগণও অপরাজনীতি পরিহার করেছে। আমরা এবারো দেখব যে জনগণ এগুলোকে প্রতিরোধ করবে এবং তাদেরকে পরিহার করবে।
এ সময় বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়কারী সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, দক্ষিণের সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহদফতর সম্পাদক মনির হোসেন, তারিকুল ইসলাম তেনজিং, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সংসদ সদস্য এস এম জিলানি, যুব দলের সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়ন, কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল রহমান টিপু, জাসাসের সভাপতি হেলাল খান, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন রোকন, তাঁতী দলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সদস্যসচিব মজিবুর রহমান, উলামা দলের সভাপতি কাজী সেলিম রেজা, সদস্য আবুল হোসেন, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুল করীম মজুমদার, প্রচার সম্পাদক মনজুরুল ইসলাম মনজু প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।