ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে ভোটের হাওয়া

বিএনপির প্রার্থী নিয়ে অনৈক্য, জামায়াতসহ সব দলের একক প্রার্থী

Printed Edition

আছমত আলী (নাসিরনগর) ব্রাহ্মণবাড়িয়া

আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। মাঠে সরব বিএনপি, সক্রিয় রয়েছে জামায়াত। এনসিপি, খেলাফত আন্দোলন, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের তৎপরতা চোখে পড়ার মতো। আওয়ামী লীগের দুর্গ খ্যাত এই আসনে এবার আওয়ামী লীগ নিজেই নির্বাচনী মাঠে নেই। তাই এবারের লড়াই হবে অন্য দলগুলোর মধ্যে। এই আসনে যে দলের প্রার্থী আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক টানতে পারবেন- তিনিই হবেন এই আসনে বিজয়ী। এমনটাই জানিয়েছেন স্থানীয় ও রাজনীতিসচেতন নাগরিকরা।

বিএনপির পক্ষে আসনটিতে উপজেলা সভাপতি বারবার কারানির্যাতিত নেতা এম হান্নানকে প্রার্থী ঘোষণা করায় শক্ত অবস্থানে রয়েছে দলটি। তবে জেলা সহসভাপতি আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ কে এম কামরুজ্জামান মানুন অসতুষ্ট হয়ে একক গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। দলের মনোনীত প্রার্থীকে সমার্থন না করে নিজেই প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের দরবারে তদবিরে ব্যস্ত। শেষ পর্যন্ত ধানের শীষ প্রতীক না পেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেব নির্বাচন করতে পারেন এমন গুঞ্জন এখন সর্বত্র।

এখন পর্যন্ত বিএনপির বিরুদ্ধে বিরোধী দলের কোনো প্রার্থীর শক্তিশালী অবস্থান নেই। তবে অভ্যন্তরীণ কোন্দল না মিটলে নির্বাচনী ফল দিয়ে খেসারত গুনতে হতে পারে দলটির। সূত্র জনায়, ১৯৭০ সালের থেকে আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত এ আসনে কখনো বিএনপি জয়ী হতে পারেনি। কিন্তু আওয়ামী লীগ কৌশলগত কারণে জয়ী হয়েছে। কারণ, প্রতিটি নির্বাচনে অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কারণে বিএনপি থেকে দলীয় প্রার্থীর বিপরীতে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী অংশ নেয়। দুই প্রার্থী যথাক্রমে ত্রিশ এবং ঊনত্রিশ মোট ঊনষাট ভাগ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থান ধরে রাখতেন। অন্যদিকে দ্বন্দ্ব কাজে লাগিয়ে আওয়ামী লীগ কৌশলগত কারণেই ৩২ থেকে ৩৩ হাজার ভোট পেয়ে সাংসদ নির্বাচিত হতেন।

এবারের নির্বচনের চিত্র পুরো উল্টো। কিন্তু নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী শাসনামলে তাদের কব্জায় রেখেছিল। গণ-অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট হাসিনা পালানোর ফলে আওয়ামী লীগ নেতাদের অনুপস্থিতিতে রাজনৈতিক মাঠে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এম এ হান্নান। প্রতিযোগিতার দৌড়ে পিছিয়ে নেই জামায়াতে ইসলামী। জামায়াত প্রার্থীও সমানতালে প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। জামায়েত ইসলামীর উপজেলা আমির অধ্যাপক এ কে এম আমিনুল ইসলামকে প্রার্থী করা হয়েছে। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলনের উপজেলা সভাপতি মাওলানা হুসাইন আহমেদ আলী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা সাইফুল্লাহ বিন আনসারী, মাঠে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইসলামী ফ্রন্ট থেকে অ্যাডভোকেট মাওলানা ইসলাম উদ্দিন দুলাল মোমবাতি মার্কা নিয়ে নির্বাচন করবেন, তবে এলাকায় প্রচার প্রচারণা নেই। প্রতটি দলই নিজ নিজ সংগঠনকে চাঙ্গা রাখতে নিয়মিত বৈঠক, সভা-সমাবেশসহ উঠান বৈঠকে সময় দিচ্ছেন। এ ছাড়াও এনসিপির পক্ষ থেকে তিনজন প্রার্থী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম এ হান্নান বলেন, আমি ৩১ দফা বাস্তবায়নসহ উঠান বৈঠক, মতবিনিময় সভা মিটিং মিছিলে ব্যস্ত সময় পার করছি। ২৯ নভেম্বর নাসিরনগর সদর ইউনিয়নে ৩১ দফা বাস্তবায়নে মতবিনিময় গণসংযোগসহ নির্বাচনী সভা করেছি।

জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক এ কে এম আমিনুল বলেন, সমাজ থেকে দুর্নীতি, মাদন সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি দূর করতে কাজ করব। এ ছাড়া যুব সমাজের জন্য শিক্ষা ও কর্মসংস্থানমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করব। আমরা দলের পক্ষে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যচ্ছি। সমাজের প্রত্যেক মানুষের কাছে দাওয়াত পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করছি। অন্যান্য দলের প্রার্থীরা গণসংযোগ, মিছিল করছেন। নেতাকর্মীরা কৌশলে নির্বচনী প্রচারণা চালিয়ে মানুষের মন জয় করার চেষ্টা করছেন।

আশরাফ হোসেন বলেন, চির প্রতিদ্বন্ধি মাঠে নেই অপর দিকে কোনো দলের শক্তিশালী অবস্থান নেই। আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকই নির্ধারণ করবে- কে হবেন এই আসনের কাণ্ডারি।