জাবিতে উৎসবমুখর আয়োজনে ১৫তম প্রজাপতি মেলা অনুষ্ঠিত

Printed Edition

জাবি প্রতিনিধি

‘উড়লে আকাশে প্রজাপতি, প্রকৃতি পায় নতুন গতি’ এই সেøাগানকে ধারণ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো ১৫তম প্রজাপতি মেলা ২০২৫।

শুক্রবার দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান প্রধান অতিথি থেকে জহির রায়হান মিলনায়তনের সামনে মেলার উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভিসি বলেন, ‘প্রজাপতিসহ সব প্রাণীর প্রতি আমাদের মানবিক ও যথাযথ আচরণ করতে হবে। মানুষ হিসেবে আমাদের অনেক দায়িত্ব রয়েছে এবং এসব প্রাণী আমাদের ওপর নির্ভরশীল।’ তিনি প্রাণী সংরক্ষণে নৈতিক দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বাারোপ করেন। পাশাপাশি কীটনাশকের বিকল্প টেকসই ও পরিবেশবান্ধব উপাদান ব্যবহারের মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সবাইকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। মানুষের মূল্যবোধের অবক্ষয় ও বিভাজনের কারণে সমাজে যে অবনতি হচ্ছে, সেটি দূর করতেও এগিয়ে আসার কথা বলেন ভিসি।

মেলায় সরেজমিন দেখা যায়, সাদা জালের তৈরি উন্মুক্ত বাগানে নানা রঙের প্রজাপতির উড়াউড়ি উপভোগ করতে সকাল থেকেই ভিড় করেন দর্শনার্থীরা। নীল, হলুদ, সাদা ও রঙ-বেরঙের প্রজাপতিদের খেলা দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে আসা মানুষের কোলাহলে এলাকা হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। শিশুদের জন্য ছিল ছবি আঁকা, প্রজাপতি চেনা, রঙিন প্রজাপতি দেখা ও নানা প্রতিযোগিতা। অভিভাবকরা জানান, শহরমুখী জীবনে শিশুদের প্রকৃতিকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ কমে গেছে- এই মেলা সেই ঘাটতি অনেকটাই পূরণ করে।

মেলার আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মনোয়ার হোসেন বলেন, আজকের অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রকৃতিতে প্রজাপতির ভূমিকা, পরাগায়নে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান এবং কিভাবে তাদের সংরক্ষণ করা যায়- সেসব বিষয়ে জনসাধারণকে সচেতন করা। তিনি বলেন, ক্রমবর্ধমান নগরায়নের ফলে প্রকৃতি ধ্বংস হচ্ছে; গাছপালা, ঝোপঝাড় কেটে ফেলা হচ্ছে, যা জলবায়ুগত পরিবর্তনে মানুষের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলছে। মানুষকে বনাঞ্চল ও পরিবেশ রক্ষায় সচেতন করতেই এই আয়োজন। প্রজাপতি থাকলে বন থাকবে, বন থাকলে প্রকৃতি টিকে থাকবে, পাবে টেকসই অক্সিজেনের উৎস। তাই সবাইকে প্রজাপতি সংরক্ষণের এই উদ্যোগে যুক্ত হতে অনুরোধ করেন।

এবারের মেলায় পরিবেশ সংরক্ষণে অনন্য অবদান রাখায় বন্যপ্রাণী বিশারদ ড. আলী রেজা খানকে প্রদান করা হয় বাটারফ্লাই অ্যাওয়ার্ড। তরুণ গবেষণা ও আগ্রহের স্বীকৃতি হিসেবে বাটারফ্লাই ইয়াং এনথুসিয়াস্ট অ্যাওয়ার্ড পান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী নুরে আফসারী ও শাহরিয়ার রাব্বি তন্ময়। আলোকচিত্র প্রতিযোগিতায় পুরস্কৃত হন সৈয়দ আব্বাস, মাহমুদুল বারি ও প্রিন্স পাল জয়। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রোভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, প্রোভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো: আবদুর রব, জীববিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ মাফরুহী সাত্তার, জাকসুর সদস্যরা, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি, মৌসুমী ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক কাজী রাজিউদ্দীন আহমেদ চপল, সাউথইস্ট ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মাসুম উদ্দীন খান, বাংলাদেশ বন অধিদফতরের প্রধান বন সংরক্ষক আমির হোসাইন চৌধুরী, আইইউসিএনের কান্ট্রি ডিরেক্টর ও সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক ইসতিয়াক আহমেদ প্রমুখ। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো: মানছুরুল হক।