টুনা মাছ আহরণ যাচাইয়ে ৩৬ কোটি টাকায় পরামর্শক নিয়োগ হচ্ছে
Printed Edition
বিশেষ সংবাদদাতা
গভীর সমুদ্রে টুনা ও সমজাতীয় পেলাজিক মাছ আহরণের সম্ভাবনা যাচাইয়ের জন্য আন্তর্জাতিক পরামর্শক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। একই সাথে এই পরামর্শক দেশে টেকসই টুনা শিল্প গড়ে তোলা যাবে কিনা সেটিও খতিয়ে দেখবে। এই পরামর্শক নিয়োগে ব্যয় হবে প্রায় ৩৬ কোটি টাকা।
গতকাল বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এটির অনুমোদন দেয়া হয়। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ‘গভীর সমুদ্রে টুনা ও সমজাতীয় পেলাজিক মাছ আহরণে পাইলট প্রকল্প (২য় সংশোধিত)’- শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ অনুমোদন দেয়া হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে মৎস্য অধিদফতর। এ জন্য যৌথভাবে গঠিত সাসটেইনেবল রিসার্চ অ্যান্ড কনসালটেন্সি লিমিটেড (বাংলাদেশ), নিউ ওয়াটার টেক কোম্পানি লিমিটেড (কোরিয়া) এবং শতাব্দী হাই বাংলাদেশ লিমিটেডকে আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হবে। নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে সুপারিশ করা একমাত্র কারিগরিভাবে রেসপনসিভ দরদাতা প্রতিষ্ঠানটিকে ৩৫ কোটি ৬০ লাখ ১৯ হাজার ৭৭ টাকা ব্যয়ে নিয়োগের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, টুনা ও সমজাতীয় পেলাজিক মাছের প্রাপ্যতা যাচাইয়ের জন্য সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত চারটি প্রতিষ্ঠানের কাছে রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল (আরএফপি) আহ্বান করা হয়েছিল। এর মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠান কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব জমা দেয়। মূল্যায়ন শেষে মাত্র একটি প্রতিষ্ঠানকে কারিগরিভাবে উপযুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
প্রকল্পের আওতায় দু’টি টুনা ফিশিং ভেসেল ভাড়া করে বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় ১২টি সমুদ্র অভিযাত্রা (ক্রুজ) পরিচালনা করা হবে। এসব অভিযানের মাধ্যমে টুনা ও সমজাতীয় পেলাজিক মাছের মজুদ ও প্রাপ্যতা নিরূপণ করা হবে।
এছাড়া বাংলাদেশে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক ও টেকসই টুনা ফিশিং শিল্প বিকাশের জন্য একটি বিস্তারিত সমীক্ষা ও মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন করা হবে। পাশাপাশি টুনা আহরণে নিয়োজিত জনবলকে মাঠপর্যায়ে (অন-গ্রাউন্ড) প্রশিক্ষণও দেয়া হবে। প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২০ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে।