সিংগাইর কলেজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

Printed Edition

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জের সিংগাইর সরকারি ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রেজাউল শামীমের বিরুদ্ধে অননুমোদিত অনুপস্থিতি, অবৈধভাবে হাজিরা স্বাক্ষর, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে গ্রুপিং সৃষ্টি ও আর্থিক অনিয়মের মাধ্যমে কলেজের পরিবেশ ধ্বংসের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ নুরদ্দিন ২০২২ সালের ২৭ মার্চ কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। জবাবে তৎকালীন উপাদ্যক্ষ রেজাউল শামীম অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী পরিবারের সদস্য বলে উল্লেখ করেন।

পরবর্তীতে পুনরায় তদন্তের জন্য অধ্যক্ষ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করলে মন্ত্রণালয় ঘিওর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আনিসুর রহমানকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়। চলতি বছরের ১০ এপ্রিল তদন্তে আবারো রেজাউল শামীম (বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ) দোষী সাব্যস্ত হন। তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আশরাফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত শোকজ নোটিশ গত ১৬ নভেম্বর কলেজ কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রেরণ করেন।

রেজাউল শামীম গত ১৪ মে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে একের পর এক আর্থিক অনিয়মে জড়ান বলে অভিযোগ রয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের শিক্ষক-কর্মচারীদের বকেয়া পরিশোধ বাবদ ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দ এলেও আদেশ অনুযায়ী কলেজ থেকে আদায়কৃত টাকা সরকারে ফেরত না দিয়ে তিনি প্রায় ১২ লাখ টাকা উত্তোলন করেন বলে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়াও মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই তিনি কলেজের গ্রাচুইটি তহবিল থেকে ছয় লাখ ৪৩ হাজার ৯১৫ টাকা উত্তোলন করেন। ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষার জন্য কলেজ তহবিল থেকে একক সিদ্ধান্তে আরো ৬৮ হাজার ২৯৪ টাকা উত্তোলন করেন, যা স্পষ্ট বিধিবহির্ভূত। এদিকে ধল্লা হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবুল কালামকে অপসারণের তদন্তে সদস্য থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজে উপস্থিত না হয়ে দুই শিক্ষককে পাঠান। একইসাথে তদন্তে উপস্থিত না থেকেও তিন হাজার টাকা সম্মানী গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে রেজাউল শামীম সরকারি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক প্রচারণায় অংশ নেয়া এবং এসব দুর্নীতি ও অনিয়মের ঘটনায় ক্ষুব্ধ কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তারা এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রেজাউল শামীম কিছু অভিযোগ স্বীকার করলেও পরে আর ফোনে সাড়া দেননি। তবে কলেজের হিসাবরক্ষক তোফাজ্জল হোসেন গ্রাচুইটি তহবিলের টাকা উত্তোলনের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।