ইইউর সাথে অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর

কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে গুরুত্ব

Printed Edition

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ককে আইনি ও রাজনৈতিক ভিত্তি দিতে বাংলাদেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির (পিসিএ) প্রাথমিক স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়েছে।

গতকাল ব্রাসেলসে বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) ড. নজরুল ইসলাম এবং ইইউর পক্ষে ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এশিয়া-প্যাসিফিক) পাওলা পাম্পালনি এতে স্বাক্ষর করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং ইউরোপিয়ান কমিশনের হাই রিপ্রেজেনটেটিভ/ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজা কাল্লাস এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ইংরেজিতে ৮৩টি ধারাসম্বলিত পিসিএ প্রাথমিক স্বাক্ষরের পর তা ইউরোপের ২৪টি ভাষায় অনূদিত হবে। এরপর ইইউর ২৭টি দেশ চুক্তিতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে। অন্য দিকে বাংলাদেশ চুক্তিটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেবে। এর মাধ্যমে পিসিএ চূড়ান্তভাবে সইয়ের জন্য প্রস্তুত হবে।

পিসিএ আইনগত বাধ্যতামূলক একটি চুক্তি। এ চুক্তি ইইউ ও অংশীদার দেশের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি রূপরেখা প্রতিষ্ঠা করে। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশই প্রথম ইইউর সাথে এই চুক্তি সই করল। প্রস্তাবিত পিসিএর আওতায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা, সাইবার নিরাপত্তা, গণতন্ত্র, সুশাসন, মানবাধিকার, শ্রম অধিকার, দক্ষ অভিবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি, মৎস্য, কৃষিসহ ৩৫টি খাত রয়েছে।

২০০১ সালে ইইউর সাথে সহযোগিতা চুক্তি সই করেছিল বাংলাদেশ। চুক্তিটিতে অর্থনীতি, উন্নয়ন এবং সুশাসন ও মানবাধিকারকে প্রাধ্যন্য দেয়া হয়েছিল। পিসিএ সই হলে ইইউর সাথে ইতঃপূর্বে সই হওয়া সহযোগিতা চুক্তি কার্যকর থাকবে না।

বাংলাদেশ ও ইইউর মধ্যে পিসিএ নিয়ে আলোচনা ২০২৪ সালের নভেম্বরে ঢাকায় শুরু হয়েছিল। এরপর দুই পক্ষ ঢাকা ও ব্রাসেলসে পাঁচ দফা আলোচনা ও বেশ কয়েকটি কারিগরি বৈঠকে অংশ নেয়। ঢাকায় গত জানুয়ারিতে পঞ্চম দফায় আলোচনায় বাংলাদেশ ও ইইউর মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, মানবাধিকার, শুল্ক সহযোগিতা, আইনি ও বিচার বিভাগীয় সহযোগিতা, মেধাস্বত্ব অধিকার, জ্বালানি সহযোগিতা ইত্যাদি। সফল আলোচনার পর উভয় পক্ষ পিসিএ নিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছে।

পিসিএর প্রাথমিক স্বাক্ষরের আগে ব্রাসেলসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও ইউরোপিয়ান কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজা কাল্লাসের মধ্যে বৈঠক হয়। এ সময় মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কট, জ্বালানি সহযোগিতা, জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতায় সমর্থনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা হয়।

ইইউ বাংলাদেশের তৈরী পোশাক রফতানির সবচেয়ে বড় বাজার। বর্তমানে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ইইউর বাজারে শুল্ক ও কোটামুক্ত রফতানির সুবিধা পাচ্ছে। বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে ইইউ নানাবিধ সহযোগিতা দিয়ে থাকে। সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচন ছাড়াও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোতে ইইউ সবচেয়ে বড় নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন পাঠিয়েছিল। বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনকে কারিগরি সহযোগিতা দেয়ার ক্ষেত্রেও ইইউর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।