শ্রমিক-চালকসহ বিভিন্ন স্থানে নিহত চার

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বিভিন্ন স্থানে শ্রমিক, চালক ও গ্রহবধূসহ চারজন নিহত হয়েছেন।

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, সাতক্ষীরার আশাশুনিতে ইঞ্জিনভ্যান থেকে পড়ে গিয়ে ফরিদা খাতুন (৫৬) নামের এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় আশাশুনি উপজেলাধীন কাদাকাটি-গাবতলা সড়কের বশিরাবাদ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

নিহত গৃহবধূ ফরিদা খাতুন সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কুল্যা ইউনিয়নের কাটাখালি গ্রামের মো: আব্দুল হামিদের স্ত্রী। নিহতের ননদ রিনা আক্তার জানান, ফরিদা খাতুন শুক্রবার বিকেলে সাতক্ষীরা শহরে জামাইয়ের বাসা থেকে গ্রামের বাড়ি কাটাখালিতে ফিরছিলেন। কুল্যার মোড়ে বাস থেকে নেমে একটি ইঞ্জিনভ্যানে চড়ে তিনি বাড়ির পথে রওনা দেন। পথিমধ্যে সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে আশাশুনি উপজেলাধীন কাদাকাটি-গাবতলা সড়কের বশিরাবাদ এলাকায় পৌঁছালে তাকে বহনকারী ইঞ্জিনভ্যানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এ সময় রাস্তায় পড়ে গেলে চলন্ত ভ্যানটি ফরিদা খাতুনের গায়ের উপর দিয়ে চলে যায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি মারা যান।

রাণীনগর (নওগাঁ) সংবাদদাতা জানান, নওগাঁর রাণীনগরে ভটভটি উল্টে গাছের সাথে ধাক্কায় জামিনা বেগম (৩০) নামে এক গৃহনির্মাণ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ সময় ভটভটিতে থাকা অন্তত আরো সাতজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজন রাণীনগর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং আরো পাঁচজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকালে উপজেলার কুনৌজ বাজার এলাকায়। নিহত জামিনা বেগম উপজেলার হরিশপুর মৎস্যজীবী পাড়া গ্রামের কমলা মণ্ডলের স্ত্রী এবং আহতরা একই গ্রামের বাসিন্দা।

রাণীনগর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ফিরোজ হোসেন জানান, ভটভটি উল্টে আহত মোট আটজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এর মধ্যে জামিনা বেগমসহ ছয়জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করলে পথিমধ্যে জামিনা মারা যান। আহতদের মধ্যে রয়েছেন, হরিশপুর গ্রামের নয়ন হোসেন (৩২), একই গ্রামের তারেক রহমান (২৮), জাবেদ মিয়া (৩২), আল আমিন (৩০), আব্দুল লতিফ (২৮), পলাশ হোসেন (৩০) ও সজল হোসেন (৩০)। এর মধ্যে পলাশ ও সজল হোসেন রাণীনগর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ছাড়া অন্য পাঁচজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

পটিয়া-চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, মোটরসাইকেলযোগে পেকুয়ায় বেড়াতে গিয়ে বাসচাপায় নিহত হয়েছে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর আশেক এলাহী ইমন (৩০) নামে এক তরুণ যুবক, একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন নিহতের মামাত ভাই এলহান উদ্দিন সাগর (৩০)। তিনি বর্তমানে নগরীর পার্কভিউ হাসপাতালে আইসিইউতে রয়েছেন। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। ২৪ এপ্রিল বেলা ১১ টার দিকে পেকুয়া একটি সেতুর কাছে চট্টগ্রামমুখী যাত্রীবাহী বাস তাদের চাপা দিলে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ইমন বাঁশখালী পুইছড়ি ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাস্টার মহিউদ্দিনের একমাত্র ছেলে।

নীলফামারী প্রতিনিধি জানান, নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে বালু বোঝাই ট্রাক্টরের ধাক্কায় রবিউল ইসলাম (২৫) নামে এক ভ্যান চালকের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার কিশোরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন শিশু নিকেতন স্কুল ও কলেজের সামনে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত রবিউল নিতাই ইউনিয়নের পানিয়ালপুকুর খোলাহাটি এলাকার মৃত নিজাম উদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, মালামাল নিয়ে কিশোরগঞ্জ বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন ভ্যানচালক রবিউল। ঘটনাস্থলে একই দিকে যাওয়া বালু বোঝাই ট্রাক্টর ভ্যানে ধাক্কা দিলে গুরুতর আহত তিনি। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।