ইনকিলাব মঞ্চের ‘শহীদি শপথ’ কর্মসূচি আজ
Printed Edition
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে ‘শহীদি শপথ গ্রহণ’ কর্মসূচি পালন করবে ইনকিলাব মঞ্চ। আজ মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় শাহবাগের শহীদ হাদি চত্বরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
গতকাল রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত এক সমাবেশ থেকে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের।
এর আগে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শাহবাগ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের দিকে অগ্রসর হয় এবং পরে তা সমাবেশে রূপ নেয়। মিছিলে অংশ নেয়া ছাত্র-জনতা বিভিন্ন স্লোগানে শাহবাগ এলাকা মুখরিত করে তোলে। বিক্ষোভকারীরা ‘জ্বালো রে, জ্বালো রে, আগুন জ্বালো’, ‘দিল্লির দালালেরা, আওয়ামী লীগের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘আমরা সবাই হাদি হব, সুখে-দুঃখে কথা ক’ব’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা, ঢাকা’সহ নানা স্লোগান দেন। এ সময় হাদির পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ থেকে হাদি হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, জড়িতদের গ্রেফতার এবং রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) শহীদি শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল ৩টায় শহীদ হাদি চত্বরে সবাই সমবেত হবো। এ শপথের মাধ্যমে জুলাই-পূর্ববর্তী ও জুলাই-পরবর্তী সময়ে গুম, খুন ও রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত সব শহীদকে স্মরণ করা হবে।
৩০ কার্যদিবসের মধ্যে যদি হাদি হত্যার বিচার না হয় এবং এর ফলে দেশে কোনো অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তার সম্পূর্ণ দায় সরকারকেই নিতে হবে।
সমাবেশে শহীদ ওসমান হাদির বড় ভাই ওমর হাদি বলেন, আমি এখানে কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি। হাদির খুনিরা যে দেশেই থাকুক, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের আমাদের সামনে হাজির করতে হবে। তা না হলে আমরা ঘরে ফিরব না। আমরা শহীদ ওসমান হাদির উত্তরসূরি।
নির্বাচনের আগেই হাদি হত্যার বিচার হতে হবে
সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব বলেন, নির্বাচনের আগে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে হবে; এর আগে কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। এ সময় শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে ‘দ্রুত বিচারিক ট্রাইব্যুনাল’ গঠনের দাবি জানানো হয়।
প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনি বলেছেন শরিফ ওসমান হাদিকে ধারণ করেন। কিন্তু জানাজার ময়দানে একবারের জন্যও বলেননি এই খুনের বিচারের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেবেন। এত বড় হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে আপনার নীরবতা এবং অসহায়ত্ব আমরা দেখতে পেয়েছি। আপনাকে কে অসহায় করে তুলল, জাতি তা জানতে চায়।’
জাবের বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের জন্য একটি দ্রুত বিচারিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক পেশাদার তদন্ত সংস্থার সহায়তা নিতে হবে। আমরা কোনো তথাকথিত ‘বন্দুকযুদ্ধ’ চাই না, আমরা চাই প্রকাশ্য বিচার।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, গত ২১ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে শহীদ ওসমান হাদির নাম বা তার হত্যার বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট অবস্থান আমরা পাইনি। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, বিষয়টিকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য বা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। খুনি কখনো ভারতে, কখনো দেশে, এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাদের ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, ইনকিলাব মঞ্চ তথ্য দিয়ে সহযোগিতা না করলে আপনারা খুনিকে শনাক্তই করতে পারতেন না। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় চলা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাজ কী? সিভিল ও মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সে ঘাপটি মেরে থাকা আওয়ামী দোসরদের চিহ্নিত করার যে দাবি আমরা জানিয়েছিলাম, সে বিষয়েও আপনারা কোনো পদক্ষেপ নেননি।
আইন উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করে জাবের বলেন, দায় এড়িয়ে যাওয়াই কি আপনার একমাত্র দায়িত্ব? কারা তদন্তে বাধা দিচ্ছে তা স্পষ্ট করে জাতির সামনে বলুন, অন্যথায় পদত্যাগ করুন।
সরকারকে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দিয়ে আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, বাংলাদেশের জনগণ এই সরকারকে টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব নেয়নি। বিচার নিশ্চিত করতে না পারলে এই সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোনো নৈতিক অধিকার নেই। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার নির্বাচনের আগে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলতে থাকলে উদ্ভূত পরিস্থিতির দায় সরকারকেই নিতে হবে।