হোয়াইট হাউজের সামনে আফগানদের সমাবেশ
Printed Edition
ডন
যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রতি কয়েকটি সন্ত্রাসী ঘটনার পর আফগান বংশোদ্ভূতদের ওপর বাড়তি নজরদারি এবং সম্ভাব্য বৈষম্যের প্রতিবাদে ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউজের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে আফগান-আমেরিকানরা।
সমাবেশে অংশ নেয়া বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, কয়েকজন ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের দায় গোটা সম্প্রদায়ের ওপর চাপানো উচিত নয়।
সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ঘটনায় আফগান বংশোদ্ভূতদের জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠায় উদ্বেগ বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। এর মধ্যেই হাজারা সম্প্রদায় এই সমাবেশের আয়োজন করে যেখান থেকে সন্ত্রাসবাদবিরোধী তদন্তের চাপে পুরো সম্প্রদায়কে সন্দেহের চোখে না দেখার আহ্বান জানানো হয়।
একইদিন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানায়, আফগানিস্তানে জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা আব্দুল্লাহ হাজিজাদাকে গত সপ্তাহে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। গ্রেফতারের সময় তার বয়স ছিল ১৭। তিনি ২০২৪ সালের নভেম্বরের নির্বাচনের দিনে আইএস অনুপ্রাণিত সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার জন্য অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহের ষড়যন্ত্রে দোষ স্বীকার করেন। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, তিনি দু’টি একে-৪৭ ধাঁচের রাইফেল এবং ৫০০ রাউন্ড গুলি সংগ্রহ করেছিলেন, এটা জেনেও যে, এগুলো সহিংস অপরাধে ব্যবহৃত হবে। সাজা শেষে তাকে আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানো হবে। পাশাপাশি তার স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদাও বাতিল করা হবে বলেও জানানো হয়। একই সাথে গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে গুলি করে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত রহমানউল্লাহ লাখানওয়ালের পরিবারকেও দেশ থেকে বহিষ্কারের কথা বিবেচনা করছে কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া টেক্সাসে সন্ত্রাস সম্পর্কিত হুমকি দেয়ার অভিযোগে আফগান নাগরিক মোহাম্মদ দাউদ আলোকোজাইকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
হাযারা আমেরিকান কমিউনিটি বলেছে, “অপরাধের দায় ব্যক্তির, জাতিগত বা ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে পুরো সম্প্রদায়কে দোষারোপ করা অন্যায় এবং বিপজ্জনক হবে।” দীর্ঘদিন ধরে আফগানিস্তানে ধর্মীয় ও জাতিগত কারণে লক্ষ্যবস্তু হওয়া এই জনগোষ্ঠী (হাজারা) যুক্তরাষ্ট্রেও একই ধরনের বৈষম্যের পুনরাবৃত্তি দেখতে চায় না।
অভিবাসী অধিকারকর্মী এবং বিভিন্ন সংগঠনও এই সমালোচনার সাথে একমত। ওয়ার্ল্ড রিলিফের ভাইস প্রেসিডেন্ট ম্যাথিউ সোয়েরেন্স বলেন, “একজন ব্যক্তির কাজের জন্য তার জাতিগত বা ধর্মীয় পরিচয়ের অন্য মানুষদের বিচার করা উচিত নয়।”
আফগান ইভ্যাকের প্রেসিডেন্ট শন ভ্যানডাইভার বলেন, “একজন উন্মাদ ব্যক্তির কারণে গোটা আফগান সম্প্রদায় আতঙ্কে আছে। তিনি আফগানদের প্রতিনিধিত্ব করেন না, তিনি শুধু নিজেকেই প্রতিনিধিত্ব করেন।”
আফগানিস্তানে মানবাধিকারবিষয়ক জাতিসঙ্ঘের বিশেষ দূত রিচার্ড বেনেটও বলেন, “অপরাধীকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে, কিন্তু পুরো আফগান সম্প্রদায়কে শাস্তি দেয়া মানবাধিকারবিরোধী।”
‘আফঘানস ফর এ বেটার টুমরোর সহপরিচালক আরাশ আজিজাদা সতর্ক করে বলেন, “এই ঘটনাকে অজুহাত করে পুরো সম্প্রদায়কে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা অমানবিক।”
এ ছাড়া ইভাকুয়েট আওয়ার অ্যালাইজ নামের আরেক সংগঠন বলেছে, সমষ্টিগত দায় চাপানো শুধু অন্যায় নয়, বিপজ্জনকও। যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে আফগানরা যে ত্যাগ স্বীকার করেছে, এসব আচরণ সেই ইতিহাসকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।”