ডাচদের বিপক্ষে প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখল জাপান
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে শিরোপার অন্যতম দাবিদার নেদারল্যান্ডস। ‘এফ’ গ্রুপে গত পরশু হাইভোল্টেজ ম্যাচে ডাচরা মুখোমুখি হয়েছিল এশিয়ার দেশ জাপানের। ডাচরা ম্যাচে দুইবার এগিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২-২ গোলের ড্র’তে এক পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়েছে এশিয়ার জায়ান্টরা। হার না মানা মানসিকতায় মূল্যবান পয়েন্ট নিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল সূর্যোদ্বয়ের দেশটি।
ডালাসে গত পরশু রাতে চারটি গোলই হয়েছে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে। ডাচদের প্রথমে এগিয়ে নেন ভার্জিল ফন ডাইক। এরপর নাকামুরার গোলে সমতায় ফেরে জাপান। কিছুক্ষণ পর দারুণ নৈপুণ্যে নেদারল্যান্ডসকে আবার এগিয়ে নেন সামারভিল। টোটাল ফুটবলের দেশটি যখন জয় থেকে অল্প সময় দূরে, ঠিক তখনই দ্বিতীয়বার ম্যাচে সমতা ফেরান জাপানের দাইচি কামাদা।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে গতকাল পুরো ম্যাচে গোলের জন্য খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে পারেনি নেদারল্যান্ডস ও জাপান। বল পজিশনে ৬০ শতাংশ এগিয়ে থেকে গোলের নেয়া ১১ শটের সাতটি লক্ষ্যে রেখে দুইবার জালের দেখা পায় ডাচরা। তবে পজিশনের পাশাপাশি আক্রমণেও পিছিয়ে ছিল এশিয়ার দেশটি। গোলের জন্য নেয়া আট শটের তিন লক্ষ্যে রেখেই সমতা নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা।
ম্যাচের শুরুতেই জাপানের রক্ষণে ভীতি ছড়ায় নেদারল্যান্ড। শুরুর ৩ মিনিটে তারা গোলও পেতে পারত। সতীর্থের পাস ডি-বক্সে পেয়ে শরীরটা ঘুরিয়ে ডনিয়েল ম্যালেন বুলেট গতির শট নিলে বল সোজাসুজি আসলেও কোনোমতে বাইরে পাঠান গোলরক্ষক। এরপর দীর্ঘ সময় উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছাড়াই কেটে যায়। কোনো দলই ভালো কোনো আক্রমণ করতে পারছিল না। ৩৪ মিনিটে ম্যালেনের করা হেডে বল সরাসরি চলে যায় গোলরক্ষক বরাবর। এবারো ব্যর্থ হয় ডাচরা। এরপর ম্যাচের প্রথমবার ৪৩ মিনিটে প্রতিপক্ষের রক্ষণে ভীতি ছড়ায় জাপান। তবে নাকামুরার শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে গোলবঞ্চিত হয় এশিয়ার দেশটি।
৫১ মিনিটে এবার জালের দেখা পায় নেদারল্যান্ডস। রায়ান গ্রাভেনবার্চের ক্রস ডি-বক্সে পেয়ে নিখুঁত হেডে জালে জড়িয়ে দেন ফন ডাইক। তবে এই গোল বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি ইউরোপের দেশটি। ৬ মিনিট পরই প্রথমবার লক্ষ্যে শট নিয়েই গোল পেয়ে যায় জাপান। তাকেফুসা কুবোর কাটব্যাক ধরে ডি-বক্সের বাইরে বেরিয়ে শট নেন নাকামুরা, বল একজনের পা ছুঁয়ে দিক পাল্টে গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে প্রবেশ করে জালে। এবার জাপানিজদের স্বস্তিও বেশিক্ষণ টিকতে দেয়নি ডাচরা। ম্যাচের ৬৪ মিনিটে দারুণ নৈপুণ্যে দলকে আবার এগিয়ে নেন ক্রিসেনসিও সামারভিল। গ্রাভেনবার্চের পাস ডি-বক্সে পেয়ে জোরাল শটে গোলটি করেন এই উইঙ্গার। এটি তার আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রথম গোল।
জয়ের পথে এগিয়ে যাচ্ছিল নেদারল্যান্ডস। কিন্তু নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার এক মিনিট আগে দৃশ্যপট বদলে দেন কামাদা। গোলটির মূল কৃতিত্ব যদিও কোকির। কর্নারে সবার ওপরে লাফিয়ে কোকি ওগাওয়ার হেডের বল কামাদার মাথায় লেগে একটু দিক পাল্টে ঠিকানা খুঁজে পায়। আর এই গোলের সুবাদেই ডাচদের রুখে উল্লাসে ফেটে পড়ে জাপান।