নিকলীতে চর দখল নিয়ে উত্তেজনা

ভোগান্তিতে ৪০ হাজার মানুষ

Printed Edition

নিকলী (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা

কিশোরগঞ্জের নিকলীতে চরের দখল নিয়ে দুই ইউনিয়নের বিরোধ আবারো চরমে পৌঁছেছে। ছাতিরচর ও গুরই ইউনিয়নের মধ্যে দীর্ঘদিনের দখল-বিতর্ক নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এতে হাওরের একমাত্র নৌপথ ও চলাচলের রাস্তা বন্ধ হয়ে পড়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রায় ৪০ হাজার মানুষ।

ঘোড়াউত্রা নদীর বুকে গড়ে ওঠা বিভিন্ন চরের দখল নিয়ে প্রতি বছরই উত্তেজনা দেখা দিলেও চলতি বছর পরিস্থিতি আরো সঙ্কটাপন্ন। হাওরের পানি নামার পর থেকেই দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থান বাড়তে থাকে। ১৮ নভেম্বর দুই ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চরে অবস্থান নিলে পরিস্থিতি সঙ্কটাপন্ন হয়ে ওঠে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হলেও উত্তেজনা এখনো বহমান।

চলমান উত্তেজনার কারণে গুরই ইউনিয়নের বেয়াতিরচরের প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দা নদী পার হয়ে হাওরে যেতে পারছেন না। অন্যদিকে ছাতিরচরের প্রায় ২০ হাজার মানুষ বন্ধ রেখেছেন তাদের নৌপথ। এতে বহিরাগত আরো প্রায় ১০ হাজার যাত্রীর চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।

ছাতিরচর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুক্তার হোসেন বলেন, ‘চরের জমির আয় দিয়ে এলাকার মসজিদ-মাদরাসা চলে। অতীতে প্রভাব খাটিয়ে অন্য ইউনিয়নের লোকজন দখল নিয়েছে। তাই সংঘাত বাড়ছে।’গুরই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহের বলেন, ‘প্রশাসনের দেয়া ভাগ-বাটোয়ারা ছাতিরচরের লোকজন মানছেন না। আমরা সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

নিকলী থানার নবাগত ওসি রফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে শান্তিশৃঙ্খলা বজায়ে সর্বোচ্চ সতর্কতার কথা জানিয়েছেন। সহকারী ভূমি কমিশনার প্রতীক দত্তও দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনা মজুমদার বলেন, ‘পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’