পরামর্শ সভায় বিশেষজ্ঞরা
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্যাকেটজাত খাবারে ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং জরুরি
Printed Edition
অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও ট্রান্সফ্যাট গ্রহণ বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অসংক্রামক রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। এসব ঝুঁকি থেকে ভোক্তাদের সুরক্ষা এবং খাদ্যসংক্রান্ত তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করতে প্যাকেটজাত খাবারে চিনি, লবণ ও ট্রান্সফ্যাট-সংক্রান্ত সতর্কতা বাধ্যতামূলকভাবে উল্লেখ করার দাবি জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, বিশ্বব্যাপী ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল) ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে এই ঝুঁকি সম্পর্কে ভোক্তাদের সচেতন করা হচ্ছে এবং বাংলাদেশেও দ্রুত এই ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন।
শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও করণীয়’ শীর্ষক পরামর্শ সভায় এসব কথা বলা হয়। সেন্টার ফর ল অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্স (সিএলপিএ), আর্ক ফাউন্ডেশন ও পাবলিক হেলথ ল ইয়ার্স নেটওয়ার্ক যৌথভাবে সভার আয়োজন করে। এতে সরকারি কর্মকর্তা, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, ভোক্তা অধিকার সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বক্তারা জানান, দেশে বর্তমানে প্রায় ৭০ শতাংশ মৃত্যুর জন্য অসংক্রামক রোগ দায়ী। চিনি, লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার এসব রোগের প্রধান কারণ। মোট জনসংখ্যার ৯৭ শতাংশ নিয়মিত প্যাকেটজাত খাবার গ্রহণ করে; কিন্তু স্পষ্ট পুষ্টি তথ্য না থাকায় জনগণ স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়ছে। প্রতি বছর প্রায় ৬৪ লাখ মানুষ চিকিৎসা ব্যয়ে দারিদ্র্যের শিকার হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, স্পষ্ট ও দৃশ্যমান লেবেল না থাকায় বিশেষ করে শিশুরা বিভ্রান্তিকর বিপণনের ঝুঁকিতে পড়ছে। কার্বনেটেড পানীয় ও জুসে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সতর্কতা না থাকা আন্তর্জাতিক মানের পরিপন্থী এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি। ডব্লিøউএইচও প্রস্তাবিত ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং একটি প্রমাণিত পদ্ধতি, যা ভোক্তাকে স্বাস্থ্যকর খাদ্য বেছে নিতে সহায়তা করে এবং উৎপাদনকারীকে জবাবদিহিতার আওতায় আনে।
সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে বিজ্ঞানভিত্তিক, সহজবোধ্য ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং ব্যবস্থা দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তি।