নিজের নোবেল পদক ট্রাম্পকে দিয়ে ব্যাগ পেলেন মাচাদো

Printed Edition

বিবিসি ও সিএনএন

ভেনিজুয়েলার প্রভাবশালী বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে এক নজিরবিহীন সাক্ষাৎকারে মিলিত হন। এ বৈঠকে তিনি নিজের অর্জিত নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদকটি ট্রাম্পকে উপহার হিসেবে দিলেও বিনিময়ে কেবল ট্রাম্পের স্বাক্ষর সংবলিত একটি উপহার ব্যাগ নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে।

মাচাদো আশা করেছিলেন, এ বড় ত্যাগের মাধ্যমে তিনি ভেনিজুয়েলার আগামী নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের জোরালো সমর্থন আদায় করতে পারবেন। তবে হোয়াইট হাউজ সূত্রে জানা গেছে, ভেনিজুয়েলার নেতৃত্বের প্রশ্নে মাচাদোর সক্ষমতা নিয়ে ট্রাম্পের আগের নেতিবাচক অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

সাক্ষাৎকার শেষে হোয়াইট হাউজ থেকে বের হওয়ার সময় মাচাদোর হাতে নিজের পার্সের পাশাপাশি একটি লাল রঙের ব্যাগ দেখা যায়, যাতে সোনালি অক্ষরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাক্ষরের ছাপ ছিল। উপহারের ব্যাগের ভেতরে ঠিক কী ছিল তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ২০২৫ সালে ভেনিজুয়েলায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া মাচাদো প্রতীকীভাবে তার সেই অমূল্য পদকটি হোয়াইট হাউজে রেখে এসেছেন। মাচাদো এ বৈঠককে ‘ঐতিহাসিক’ ও ‘অসাধারণ’ বলে অভিহিত করলেও অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এটি কেবল একটি ছবি তোলার সুযোগ ছাড়া আর কিছু ছিল না। মাচাদোর দাবি, ট্রাম্প প্রশাসন ভেনিজুয়েলায় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন ও মানবাধিকার রক্ষার প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পেরেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ উপহার নিয়ে তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন যে, মাচাদো তাকে পদকটি উপহার দিয়েছেন যা পারস্পরিক সম্মানের এক অসাধারণ নিদর্শন।

তবে এ ঘটনা নিয়ে নরওয়ের অসলোভিত্তিক নোবেল পিস সেন্টার দ্রুতই একটি সতর্কবার্তা দিয়েছে। তারা স্পষ্ট করেছে যে, একটি পদকের হাতবদল হতে পারে কিন্তু নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর উপাধি বা মর্যাদা অন্য কারো নামে স্থানান্তর বা পরিবর্তন করা আইনত অসম্ভব। অর্থাৎ, মাচাদো পদকটি দিয়ে দিলেও ইতিহাসের পাতায় ডোনাল্ড ট্রাম্প কখনোই এ পুরস্কারের বিজয়ী হিসেবে গণ্য হবেন না। বর্তমানে ভেনিজুয়েলার ক্ষমতার লড়াইয়ে মাচাদো বড় সঙ্কটের মুখে পড়েছেন। নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বিশেষ বাহিনী গ্রেফতার করার পর ট্রাম্প প্রশাসন বিরোধী নেত্রী মাচাদোকে সমর্থন না দিয়ে বরং মাদুরোর সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে সমর্থন দিয়েছে।

ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট বৈঠক শুরুর আগেই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, মাচাদো সম্পর্কে ট্রাম্পের বিরূপ মতামতের কোনো পরিবর্তন হয়নি। ট্রাম্প মনে করেন যে, ভেনিজুয়েলার নেতৃত্ব দেয়ার মতো পর্যাপ্ত জনসমর্থন মাচাদোর নেই। যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে রদ্রিগেজকেই একজন স্থিতিশীল ও বাস্তবসম্মত নেতা হিসেবে বিবেচনা করছে, যার মাধ্যমে তারা ভেনিজুয়েলায় মার্কিন স্বার্থ রক্ষা করতে পারবে।