রাস্তা দখল করে ঘরবাড়ি, করিমগঞ্জে অবরুদ্ধ ৫ শতাধিক পরিবার

Printed Edition

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার গুণধর গ্রামে সরকারি রাস্তা দখল করে বসতঘর, গোয়ালঘর ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এতে গ্রামের অন্তত পাঁচ শতাধিক পরিবার কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, কৃষক ও পথচারীদের চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত রাস্তা দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামের দক্ষিণের কদিমমাইজহাটি এলাকার মনু ভূঁইয়া মসজিদ থেকে শুরু হয়ে গ্রামের মধ্য দিয়ে উত্তরের বাঁধ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ এই সরকারি রাস্তা বিস্তৃত। সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী রাস্তার প্রস্থ ২৬ ফুট এবং মোড়ের স্থানে ৩২ থেকে ৩৪ ফুট। কিন্তু গুণধর গ্রামের ভেতরের প্রায় পুরো অংশজুড়ে ঘরবাড়ি নির্মাণ, গোয়ালঘর স্থাপন, গাছপালা লাগানো ও নোংরা পানি ফেলার কারণে বর্তমানে অনেক স্থানে রাস্তার প্রস্থ কমে দুই থেকে তিন ফুটে নেমে এসেছে।

গ্রামবাসীরা জানান, এ রাস্তাটি তাদের একমাত্র চলাচলের পথ। গ্রামের সামনে ও পেছনে হাওর থাকায় কৃষকেরা বোরো ধানসহ অন্যান্য ফসল এই পথ দিয়েই বাড়িতে আনেন। কিন্তু দখলের কারণে এখন কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। বাধ্য হয়ে কৃষকদের মাথায় করে ধান বহন করতে হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বেড়েছে।

স্থানীয় আরিফুল ইসলাম আল আমিন বলেন, ‘রাস্তা এতটাই সরু হয়ে গেছে যে হেঁটেও স্বাভাবিকভাবে চলা যায় না। জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়াও কষ্টকর।’ কৃষক জালাল উদ্দিন বলেন, ‘হাওর থেকে ধান আনতে এখন খুব ভোগান্তি হচ্ছে। গাড়ি ঢোকে না, মাথায় করে ফসল আনতে হচ্ছে।’ গ্রামের পুরাতন বড় মসজিদ ও কবরস্থানও এই রাস্তার ভেতরে হওয়ায় ধর্মীয় কাজেও দুর্ভোগ বাড়ছে। শাহ আলম বলেন, ‘সরু রাস্তা দিয়ে মসজিদে যেতে কষ্ট হয়, এমনকি কবরস্থানে লাশ নিয়েও যাওয়া যায় না।’ রহিমা বেগম জানান, শিশুদের স্কুলে যেতেও বাড়িঘরের ওপর দিয়ে যেতে হয়।

গ্রামবাসীর অভিযোগ, তাহের উদ্দিনের ছেলে দুলাল মিয়া, চন্দু মিয়ার ছেলে আয়নাল, ফালু মিয়ার ছেলে আলমাস, ঝারু শিকদারের ছেলে নুর ইসলাম, মঞ্জিল মিয়ার ছেলে সামিন, গিয়াস উদ্দিনের ছেলে নাইম, জমিন মিয়ার ছেলে মাসুমসহ ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি রাস্তা দখলের সাথে জড়িত। রাস্তাটি উদ্ধারের দাবিতে গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর গ্রামের ১৯৬ জন বাসিন্দা করিমগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। পরে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও মাপজোক করেন। ইউনিয়ন পরিষদ থেকেও একাধিকবার নোটিশ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যান। অভিযুক্ত দুলাল মিয়া বলেন, ‘আমার একটি গোয়ালঘর রাস্তার ওপর পড়েছে। অন্যরা সরালে আমিও সরিয়ে নেব।’ আয়নাল ও আলমাসও প্রশাসনের সিদ্ধান্ত মেনে নেয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে নুর ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

গুণধর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সায়েম রাসেল ভূঁইয়া বলেন, দখলদারদের তিন মাস সময় দেয়া হলেও ৯ মাস পার হয়ে গেছে, এখনো তারা রাস্তা ছাড়েনি। প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। করিমগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আল আমিন কবির জানান, লিখিত অভিযোগের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও মাপজোক করে প্রাথমিকভাবে রাস্তা দখলের সত্যতা পাওয়া গেছে। দখলদাররা স্বেচ্ছায় স্থাপনা না সরালে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে সরকারি রাস্তা দখলমুক্ত করা হবে।