রক্ষণাত্মক মানসিকতা ক্ষতি হবে : বাশার

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে রক্ষণাত্মক মানসিকতায় খেললে দলেরই ক্ষতি হবে বলে মনে করেন সুমন। বিসিবি প্রধান নির্বাচক গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আপনি যদি রক্ষণাত্মক মানসিকতায় থাকেন, তারা (অস্ট্রেলিয়া) যেকোনো কিছু করে ফেলবে। তবে তারা আশা করবে না যে আপনি তাদের ওপর আক্রমণ করবেন। আমার মতে ব্যাটাররা একটু আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে খেলতে পারলে সেটা মনে হয় বেশি কাজে দেবে। তবে কোচ আছেন, ম্যানেজমেন্টে অনেকেই আছেন।

অস্ট্রেলিয়ার মাঠে খেলা বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য নতুন কিছু নয়। আইসিসি ইভেন্ট তো বটেই, টপ এন্ড টি-২০তেও সেখানে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে সৌম্য সরকার, রাকিবুল হাসান, রিপন মন্ডলদের। ২০০৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার মাঠে সবশেষ দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলেছিল বাংলাদেশ। সেবার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে বাংলাদেশ ধবলধোলাই হয়েছিল। তবে টেস্টের হিসেব করলে ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার মাঠে দুটি টেস্ট সিরিজ খেলেছিল বাংলাদেশ। ২৩ বছর আগে স্টিভ ওয়াহর নেতৃত্বাধীন সেই শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া দলে শেন ওয়ার্ন সবাই খেলেছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন বলেন, সেই সফরের সঙ্গে বর্তমান সফরের একটা মিল আছে। স্টিভ ওয়াহর সেই দলে সব খেলোয়াড় খেলেছিলেন। কেউ বাকি ছিলেন না। শুধু শেন ওয়ার্ন সম্ভবত ডোপ কেস ছিল বলে খেলেননি। ম্যাকগিল খেলেছিলেন। তারা তাদের পূর্ণাঙ্গ দল নিয়েই খেলেছিল।

২৩ বছর আগে খালেদ মাহমুদ সুজনের নেতৃত্বাধীন দলে থাকা সুমন এখন বিসিবি প্রধান নির্বাচক। সেই দুই টেস্টেই বাংলাদেশ হেরেছিল ইনিংস ব্যবধানে। ডারউইনের টেস্ট শেষ হয়েছিল তিন দিনে আর কেয়ার্নসে বাংলাদেশ হেরেছিল চার দিনেই। পুরোনো ঘটনার স্মৃতিচারণ করে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে সুমন বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় আমরা যখন যাই, তখন তো আমাদের নিয়ে অনেক কথা হচ্ছিল। দু-এক দিনে টেস্ট শেষ হবে- এমন কথাবার্তা চলছিল। আমরা কিন্তু চার দিন টেস্ট খেলেছিলাম অস্ট্রেলিয়ার সাথে। সেই অস্ট্রেলিয়া সফরে যেসব দল যেত, অধিকাংশ দলই তিন দিনে হেরে বসত।

এবার বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজে কী ধরনের উইকেট বানানো হবে, সেটি তো সময়ই বলে দেবে। তবে অস্ট্রেলিয়া সফরে খেলার অভিজ্ঞতা থাকায় এবারের টেস্ট সিরিজের সম্ভাব্য উইকেট সম্পর্কে ধারণা দিয়েছেন সুমন। আমি জানি না এখনো কী উইকেট ডারউইন ও ম্যাকেতে আমাদের জন্য বানাচ্ছে। কেয়ার্নসে আমরা আগে যখন খেলেছি, তখনকার উইকেটটা... ডারউইনের উইকেট অনেকটা আমাদের মতোই। ডারউইন কন্ডিশনটা কিন্তু ঠিক অস্ট্রেলিয়ান কন্ডিশন না। এখন তারা যদি আমাদের জন্য পেস সহায়ক উইকেট বানায়, সেটা ভিন্ন ব্যাপার। তবে ডারউইনের কন্ডিশন অনেকটা আমাদের মতো।

কামিন্স-হ্যাজলউড-লায়নদের অস্ট্রেলিয়া দলে ব্যাটিং লাইনআপে আছেন ট্রাভিস হেড-অ্যালেক্স ক্যারির মতো তারকারা। আর বাংলাদেশ পাচ্ছে না নাহিদ রানাকে। নেই লিটন দাসের মতো উইকেটরক্ষক ব্যাটারও। পাঁচ বছর পর টেস্টে ফিরেছেন সৌম্য। আছে মুমিনুল হক, মুশফিকের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটার। সুমনের মতে অস্ট্রেলিয়া সফরে এই দলও দারুণ কিছু করতে পারে। ‘আমার মতে অস্ট্রেলিয়ার সাথে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলা ভালো। কারণ তাদের বোলাররাও আক্রমণাত্মক। তার মানে এটা না যে আপনি একেবারে সব বলই ছেড়ে দেবেন।’