ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের বৈঠক
জাপানের বিনিয়োগ আরো বৃদ্ধির আশা জামায়াত আমিরের
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, জাপান বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু। বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে জাপান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও অবদান রেখেছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বিদেশী বিনিয়োগকে স্বাগত জানায়।
গতকাল জাপান সরকারের অফিসিয়াল বিনিয়োগ ও বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থা জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অরগানাইজেশনের (জেট্রো) একটি প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।
জামায়াত আমিরের বসুন্ধরা কার্যালয়ে বৈঠকটি আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেট্রো’র কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ কাজুইকি কাতাওকা; সুমিতোমো করপোরেশন এশিয়া অ্যান্ড ওশেনিয়া প্রাইভেট লিমিটেডের কান্ট্রি জেনারেল ম্যানেজার ও ঢাকাস্থ জাপানি কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের হিরোনোরি ইয়ামানাকা; ঢাকাস্থ জাপানি কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মানাবু সুগাওয়ারা ও ভাইস-প্রেসিডেন্ট হিরোনোরি ইয়ামানাকা এবং মারুবেনি করপোরেশনের কান্ট্রি হেড সুগাওয়ারা মানাবু। আরো উপস্থিত ছিলেন জেট্রো ঢাকা অফিসের সিনিয়র ডিরেক্টর শরিফুল আলম এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার ইশরাত জাহান।
বৈঠকে জাপান প্রতিনিধি দল জামায়াত আমিরকে জানান, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় তিন শতাধিক প্রতিষ্ঠান তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। জামায়াত আমির জাপানি প্রতিনিধি দলকে ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশে জাপানের বিনিয়োগ আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন। বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন আইবিডব্লিউএফের প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম।
আবদুল কাদের মোল্লার অবদানের কথা স্মরণ : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর তদানীন্তন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী আবদুল কাদের মোল্লার অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান গতকাল এক বিবৃতিতে বলেন, আবদুল কাদের মোল্লা শাহাদাতের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত বাংলাদেশে ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি একাধারে একজন রাজনীতিবিদ, লেখক, শিক্ষাবিদ এবং গবেষক হিসেবে দেশ ও জাতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গিয়েছেন। নব্বইয়ের দশকে স্বৈরাচার-বিরোধী আন্দোলনে তিনি লিয়াজোঁ কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তিনি বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। কলম সৈনিক হিসেবে তিনি লেখনীর মাধ্যমে মানুষের বিবেকবোধ জাগ্রত করার চেষ্টা করেছেন।
২০১০ সালের ১৩ জুলাই সরকার তাকে রাজনৈতিক মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করে এবং পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করে। ট্রাইব্যুনালের রায়ে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। এরপর সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় শাহবাগে স্থাপিত গণজাগরণ মঞ্চের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার আইন সংশোধন করে আপিল দায়ের করে। সংশোধিত আইনের ভিত্তিতে তাকে ফাঁসির আদেশ প্রদান করা হয়। আবদুল কাদের মোল্লা ফাঁসির আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ পাননি। এমনকি রিভিউ আবেদন খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের আগেই তড়িঘড়ি করে ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর রাত ১০টা ১ মিনিটে তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়। তাকে ফাঁসি দেয়ার প্রায় দেড় বছর পর তার রিভিউ আবেদন খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। এসব ঘটনা থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, তিনি বিচারের নামে এক নির্মম প্রহসনের শিকার হয়েছেন!
শহীদ আবদুল কাদের মোল্লা তার ফাঁসি কার্যকরের আগে বলে গিয়েছেন, ‘সরকার আমাকে অন্যায়ভাবে ফাঁসি দিচ্ছে। আমার শরীরের প্রতিটি ফোটা রক্ত এ দেশের ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীদের ইসলামী আন্দোলনে আরো অনুপ্রাণিত করবে।’ দ্বীন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তার রক্তের বদলা নেয়ার জন্য তিনি ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে গিয়েছেন।
ইসলামী আন্দোলনে তার অবদানের কথা আমরা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি এবং তার শাহাদাত কবুলের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করছি। তিনি যে ইসলামী সমাজ গড়ার স্বপ্ন দেখতেন, তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দৃঢ়তার সাথে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমি জামায়াতের সব জনশক্তি, সুধী, শুভাকাক্সক্ষী ও দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।
রাজশাহীতে কর্মী হত্যার নিন্দা : রাজশাহীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার আলিগঞ্জ এলাকায় গত ১০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় জামায়াতে ইসলামীর কর্মী শান্তকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে এবং তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটি। জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির, সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান গতকাল এক বিবৃতিতে বলেন, রাজশাহীতে আমাদের কর্মী শান্তকে নির্মমভাবে হত্যা করা নিঃসন্দেহে একটি ঘৃণ্য সন্ত্রাসী হামলা। এই বর্বর হত্যাকাণ্ড মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের ওপর সরাসরি আঘাত। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং শোকাহত পরিবার-পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ ও শান্তর রূহের মাগফিরাত কামনা করেন। তিনি এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।