প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদিতে যুদ্ধবিমান পাঠাল পাকিস্তান
মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে নতুন মেরুকরণ
Printed Edition
রয়টার্স
পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির অধীনে সৌদি আরবের নিরাপত্তা জোরদার করতে দেশটিতে যুদ্ধবিমান ও সামরিক বাহিনী পাঠিয়েছে পাকিস্তান। গতকাল শনিবার সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এমন এক সময়ে এই সামরিক শক্তি মোতায়েন করা হলো যখন পাকিস্তান নিজেই ইরান ও পশ্চিমা শক্তির মধ্যে চলমান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ শান্তি আলোচনার মধ্যস্থতা করছে।
সৌদি আরবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে ইরানের পক্ষ থেকে বেশ কিছু হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় এক সৌদি নাগরিক নিহত হওয়ার পাশাপাশি তেল স্থাপনার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রিয়াদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই ইসলামাবাদের এই পদক্ষেপ।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরব ও পাকিস্তান একটি ঐতিহাসিক পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির মূল শর্ত হলো- এক দেশের ওপর যে কোনো ধরনের আগ্রাসন বা আক্রমণকে উভয় দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। শনিবারের এই মোতায়েন সেই চুক্তিরই বাস্তব প্রতিফলন, যা দশকের পর দশক ধরে চলা দুই দেশের নিরাপত্তা অংশীদারিত্বকে আরো এক ধাপ উচ্চতায় নিয়ে গেল।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান ও সহায়তাকারী সামরিক বিমানগুলো দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের কিং আবদুল আজিজ বিমান ঘাঁটিতে পৌঁছেছে। এই মোতায়েনের মূল লক্ষ্য হলো যৌথ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা শক্তিশালী করা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা।
পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের। পাকিস্তান যেখানে সৌদি আরবকে সামরিক প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা এবং পরামর্শ দিয়ে আসছে, সেখানে সৌদি আরব পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সঙ্কটের সময় ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সঙ্কট এবং অর্থনৈতিক চাপের সময় সৌদি আরব বারবার আর্থিক প্যাকেজ দিয়ে সহায়তা করেছে।
এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সৌদি আরবের অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-জাদান পাকিস্তানে সফর করেছেন। এই সফরকে ইসলামাবাদের প্রতি রিয়াদের অর্থনৈতিক সমর্থনের বড় নিদর্শন হিসেবে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে সৌদি আরব পাকিস্তানের জন্য ছয় বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল, যার মধ্যে তিন বিলিয়ন ডলার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আমানত এবং বাকি তিন বিলিয়ন ডলারের তেল বাকিতে সরবরাহের সুবিধা ছিল।