রানের চাপে অস্বস্তিতেই ছিল বাংলাদেশ
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজটি বাংলাদেশের কাছে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি টিকিট পাওয়ার প্রথম পর্ব। মিরপুর শেরেবাংলায় সিরিজের প্রথম ওয়ানডে জিতে ইতোমধ্যে এক ধাপ এগিয়ে গেছে স্বাগতিকরা। সমীকরণটা ছিল মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দ্বিতীয় ম্যাচ জিতলে পাবে একাধিক সুখবর। সিরিজ জয়ের পাশাপাশি র্যাংকিংয়েও উন্নতি হবে। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনো ১৯ মাস সময় বাকি। কিন্তু সরাসরি বিশ্বকাপে অংশ নিতে হলে আগামী বছরের ৩১ মার্চের মধ্যে সেরা ৯-এ থাকতে হবে। বর্তমানে ৭৬ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ১০ নম্বরে অবস্থান বাংলাদেশের। দশে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের রেটিং পয়েন্ট ৭৭। মিরপুরে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে পাকিস্তানকে হারালে বাংলাদেশ ৮০ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ৯ নম্বরে উঠে আসবে। কিন্তু বাগড়া বাধাল বৃষ্টি।
তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৪৭.৩ ওভারে ২৭৪ রানে অলআউট হয়েছে সফরকারী পাকিস্তান। দলের পক্ষে মাজ সাদাকাত ৭৫ ও সালমান আগা ৬৪ রান করেন। বাংলাদেশের লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন ৫৬ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন। জবাবে ব্যাট করতে নেমে সব আশাই যেন উবে যেতে বসেছিল। ৬.৩ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ করতে পারে মাত্র ২৭ রান। যখন বাংলাদেশ অস্বস্তিতে সময় পার করছে, তখনই শুরুতে ঠাণ্ডা হাওয়ার পর হলো শিলাবৃষ্টি। ত্রিপল দিয়ে ঢেকে দেয়া হলো পিচ। বন্ধ হলো খেলা। শিলাবৃষ্টির পর ঝির ঝির বৃষ্টিও হলো। রাত ৮.৫৫ মিনিট। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত খেলা শুরু হওয়ার কোনো লক্ষণ ছিল না।
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামা পাকিস্তানকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ও সাদাকাত। উদ্বোধনী জুটিতে ৭৯ বলে ১০৩ রান যোগ করেন তারা। সাদাকাতের মারমুখী ব্যাটিংয়ে সপ্তম ওভারে ৫০ ও ১৩তম ওভারে শতরানে পা রাখে পাকিস্তান। ৩১ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন সাদাকাত। মিরাজের বলে আউট হওয়ার আগে ৬টি চার ও ৫টি ছক্কায় ৪৬ বলে ৭৫ রান করেন তিনি।
মিরাজের ব্রেক-থ্রুর পর পাকিস্তানকে চেপে ধরার চেষ্টা করেন বাংলাদেশের দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানা। ১ রানের ব্যবধানে দুই উইকেট শিকার করেন তারা। ফারহানকে ৩১ রানে তাসকিন ও শামিল হোসেনকে ৬ রানে বিদায় দেন রানা। এতে ১২২ রানে ৩ উইকেট হারায় পাকিস্তান।
চতুর্থ উইকেটে বাংলাদেশ বোলারদের সামনে ১১৫ বলে ১০৯ রানের জুটি গড়েন উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলি আগা। হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করে ব্যক্তিগত ৬৪ রানে রান আউটের ফাঁদে পড়েন সালমান। ৬২ বলের ইনিংসে ৭টি চার ও ২টি ছক্কা মারেন তিনি। মিরাজের দ্বিতীয় শিকার হন রিজওয়ান। ডিপ মিড উইকেট দিয়ে ছক্কা মারতে গিয়ে রিশাদকে ক্যাচ দেন ৫টি চারে ৪৪ রান করা রিজওয়ান।
দলীয় ২৩১ রানে পঞ্চম ব্যাটার হিসেবে রিজওয়ান আউট হলে স্পিনার রিশাদের ঘূর্ণি সামলাতে না পেরে বড় সংগ্রহ দাঁড় করাতে পারেনি পাকিস্তান। ৪৭.৩ ওভারে ২৭৪ রানে অলআউট হয় সফরকারীরা। লোয়ার অর্ডারে আবদুল সামাদ ১১ ও ফাহিম আশরাফ ১৪ রানে আউট হন। ৫৬ রানে ৩ উইকেট নেন রিশাদ। এ ছাড়া মিরাজ ২টি, তাসকিন, মোস্তাফিজ ও রানা ১টি করে উইকেট নেন।
জবাবে খেলতে নেমে যেন খেই হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ অথবা প্রথম ম্যাচে বড় জয়ের প্রাপ্তিতে অতি আত্মবিশ^াসী হয়ে উঠে বাংলাদেশের ব্যাটাররা। শুরুতে শাহিন শাহ আফ্রিদির ডেলিভারিগুলো যেন বুঝতেই পারছিলেন না গত ম্যাচের সেরা ব্যাটার তানজিদ হাসান তামিম। ৭ বলে ১ রান করে বিদায় নেন। চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে ১২ রানে বিদায় নেন ওপেনার সাইফ হাসান। পঞ্চম ওভারে ২ বল খেলে খালি হাতে ফেরেন নাজমুল হোসেন শান্তও। ক্রিজে অপরাজিত ছিলেন লিটন ১৩ ও তৌহিদ হৃদয়। আফ্রিদি দু’টি ও একটি উইকেট নেন ওয়াসিম।
এ দিকে ফিল্ডিং করতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে মাথায় আঘাত পান হোসেন তালাত। তাকে তৎক্ষণাৎ অ্যাম্বুলেন্স করে নেয়া হয় হাসপাতালে।
বৃষ্টি শেষে খেলা শুরুর নতুন সময় নির্ধারিত করেছে আম্পায়াররা। রাত ৯.৩৫ মিনিটে আবার শুরু হওয়ার কথা ম্যাচ। এতে জয়ের জন্য নতুন টার্গেট পেয়েছে বাংলাদেশ। ডিএল মেথডে জয়ের জন্য ৩২ ওভারে ২৪৩ রান করতে হবে টাইগারদের।