কয়েকদিনের সংঘর্ষ শেষে যুদ্ধবিরতি আলেপ্পো ত্যাগ কুর্দি বাহিনীর
আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের চেষ্টায় ‘শহীদ, আহত এবং আটকে পড়া বেসামরিক ও যোদ্ধাদের’ নিরাপদে সরিয়ে নিতে সমঝোতা হয়েছে
Printed Edition
বিবিসি
কয়েকদিনের সঙ্ঘাতের পর একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির ঘোষণা আসার পর সিরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শহর আলেপ্পো ছেড়েছে কুর্দি যোদ্ধাদের শেষ দল। রোববার ভোরের আগে এ যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে। কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেসের (এসডিএফ) নেতা মজলুম আবদি জানান, আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের চেষ্টায় ‘শহীদ, আহত এবং আটকে পড়া বেসামরিক ও যোদ্ধাদের’ নিরাপদে সরিয়ে নিতে সমঝোতা হয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর খবরে কুর্দি নেতৃত্বাধীন এসডিএফের অবশিষ্ট যোদ্ধাদের কুর্দি অধ্যুষিত এলাকা শেখ মাকসুদ থেকে বাসে করে বেরিয়ে যেতে দেখা গেছে বলে জানানো হয়েছে। সিরিয়ার নতুন সরকারে কুর্দিদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আলোচনা থমকে যাওয়ার পর দিন কয়েক আগে নতুন এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। নতুন এ সহিংসতায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছে, শেখ মাকসুদ ও আশরাফিয়া এলাকার হাজার হাজার মানুষকে বাড়িঘর ছেড়েও পালাতে হয়েছে।
ওই অঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো হামলা চালাচ্ছে অজুহাতে বুধবার স্থানীয় সময় বিকেলের দিকে অঞ্চলটিকে ‘নিষিদ্ধঘোষিত সামরিক এলাকা’ ঘোষণা করে সেখানে গোলা ছোড়া শুরু করে সিরীয় সেনারা। কুর্দি নেতৃত্বাধীন এসডিএফ এ আক্রমণকে বেসামরিকদের জোর করে উৎখাতের ‘অপরাধমূলক চেষ্টা’ আখ্যা দেয়। আলেপ্পোয় তাদের বড় সামরিক উপস্থিতি নেই বলে কুর্দিরা আগে থেকেই জোর দিয়ে বলছিল।
সঙ্ঘাত শুরুর দু’দিনের মাথায় দুই পক্ষ একটি যুদ্ধবিরতিতে উপনীতও হয়েছিল। কিন্তু ওই চুক্তির আওতায় শেষ শক্ত ঘাঁটি শেখ মাকসুদ ছাড়তে কুর্দি বাহিনী অস্বীকৃতি জানায়। শেষে রোববারের সমঝোতার পর এসডিএফ এলাকা ছাড়তে রাজি হয়। গত বছরের মার্চ মাসে হওয়া চুক্তির আওতায় কুর্দি নেতৃত্বাধীন এসডিএফ তাদের সামরিক ও বেসামরিক সব প্রতিষ্ঠান সিরীয় রাষ্ট্রে একীভূত করতে রাজি হয়। এসডিএফ এখনো সিরিয়ার উত্তর-পূর্বের বেশিরভাগ অংশের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে, তাদের যোদ্ধার সংখ্যাও লাখের বেশি।
প্রায় এক বছর হতে চলল, ওই চুক্তি বাস্তবায়ন করা যায়নি। এ জন্য উভয় পক্ষই একে অপরকে দোষারোপ করে আসছে। রোববার যে যুদ্ধবিরতি আলোর মুখ দেখেছে তাতে মধ্যস্থতার ভূমিকায় যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি অন্য বিশ্ব শক্তিগুলোও যুক্ত ছিল। তাদের আশঙ্কা ছিল, সঙ্ঘাত দীর্ঘায়িত হলে এতে তুরস্কও জড়িয়ে পড়তে পারে।
সিরীয় সরকারের ঘোরতর সমর্থক তুরস্ক এসডিএফের মূল শক্তি কুর্দি মিলিশিয়াদেরকে সন্ত্রাসী হিসেবে দেখে। শনিবার এক্সে দেয়া এক পোস্টে তুরস্কে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও সিরিয়ায় বিশেষ দূত টম বারাক বলেছেন, তিনি সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের সাথে দেখা করেছেন এবং সব পক্ষকে ‘সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন, বৈরিতার অবসান এবং মার্চ চুক্তি নিয়ে পুনরায় সংলাপে ফেরার’ আহ্বান জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার ‘ঐতিহাসিক রূপান্তরকে’ স্বাগত জানাচ্ছে এবং প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা ‘দেশকে স্থিতিশীল করতে’ যে কাজ করছেন, তাতে সমর্থনও দেবে, বলেছেন তিনি।