চান্দিনায় ভিজিডির চাল পচা ও পোকায় ধরা, ক্ষুব্ধ সুবিধাভোগীরা

Printed Edition

জাকির হোসেন চান্দিনা (কুমিল্লা)

কুমিল্লার চান্দিনায় সরকারের সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি ভিজিডির আওতায় বিতরণ করা চাল নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন হতদরিদ্র সুবিধাভোগীরা। ঈদ উপলক্ষে দেয়া ৩০ কেজি ওজনের বস্তাভর্তি চাল পচা, কালচে ও পোকায় ঠাসা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উপজেলা খাদ্যগুদাম থেকে এই পচা চাল সরবরাহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বৃষ্টির পানি চুইয়ে চাল নষ্ট হওয়ার দাবি করলেও গুদামে গিয়ে এমন কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশের মতো চান্দিনাতেও দুস্থ নারীদের মধ্যে ভিজিডির চাল বিতরণ করা হচ্ছে। গত সপ্তাহের শেষ দিকে উপজেলার বাতাঘাসী ইউনিয়নের ১০০ জন সুবিধাভোগীর জন্য ৩ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়। ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে জনপ্রতি এক বস্তা (৩০ কেজি) করে চাল বিতরণ করেন ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সাদেকুর রহমান। চাল নিয়ে বাড়ি যাওয়ার পর অন্তত ১৬ জন সুবিধাভোগী দেখতে পান, তাদের বস্তার পুরো চালই নষ্ট। চালগুলো পচে কালচে-হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে এবং ভেতরে অসংখ্য পোকার দেখা মিলেছে। পরে তারা ওই চালের বস্তাগুলো নিয়ে পুনরায় ইউনিয়ন পরিষদে হাজির হন।

চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সাদেকুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়ে বস্তা খুলে দেখি চালগুলো খাওয়ার একদম অনুপযুক্ত। অভিযোগ রয়েছে, গুদামের একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশেই ভালো চাল সরিয়ে পচা চাল সরবরাহ করা হয়েছে। উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাইমুল করিম টিটু দাবি করেন, ৭ নম্বর গুদামের ছাদ চুইয়ে বৃষ্টির পানি পড়ার কারণে কয়েকটি বস্তা নষ্ট হতে পারে। তবে সরেজমিন ৭ নম্বর গুদামে গিয়ে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। ছাদের যে অংশ দিয়ে পানি পড়ার কথা বলা হচ্ছে, সেখানে চালের কোনো বস্তাই ছিল না। এছাড়া স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক মাসে এলাকায় বড় ধরনের কোনো বৃষ্টিপাতও হয়নি।