রাজধানীসহ সারা দেশে বিএনপির বিক্ষোভ

হাদিকে গুলি বৃহৎ চক্রান্তের অংশ : মির্জা আব্বাস

Printed Edition
back-2
শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে রাজধানীতে বিএনপির বিক্ষোভ : নয়া দিগন্ত

বিশেষ সংবাদদাতা

নির্বাচনের আগে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর হামলাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছে না বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, এটি বৃহৎ এক চক্রান্তের ক্ষুদ্র অংশ।

গতকাল রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি। চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর ওপর এবং ঢাকায় ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে বিএনপি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা এই সমাবেশের আয়োজন করে।

প্রতিবাদ সমাবেশে মির্জা আব্বাস বলেন, এটা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। এর আগে চট্টগ্রামে এরশাদ উল্লাহর ওপর আক্রমণ করা হয়েছিল। এবার হাদির ওপর আক্রমণ করা হয়েছে। এটা বৃহৎ চক্রান্তের ক্ষুদ্র একটি অংশ। সামনে আরো চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র প্রকাশ পাবে।

ওসমান হাদিকে গুলি করার মাধ্যমে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার ওপর আঘাত হানা হয়েছে মন্তব্য করে মির্জা আব্বাস বলেন, এটাকে প্রতিরোধ করতে হবে। এই অপশক্তির কালো হাত ভেঙে দিতে হবে। তাদের দাঁতভাঙা জবাব দিতে হবে। যারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছেন, তারা সাবধান হয়ে যান।

হাদির ওপর গুলির ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত দাবি করে মির্জা আব্বাস বলেন, সোয়া ২টায় হাদির ওপর গুলি চালানো হয়। আড়াইটার সময় ফেসবুকে একটি পোস্ট আসে। সেখানে ‘যে যেখানে আছে, ঐক্যবদ্ধ হতে’ বলা হয়। এটা ছিল পরিকল্পিত।

ওসমান হাদি যে আসনে প্রার্থী হতে চাইছেন, সেই আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস। গতকাল গুলিবিদ্ধ ওসমান হাদিকে দেখতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে গিয়ে তোপের মুখে পড়েছিলেন তিনি।

সেই প্রসঙ্গ তুলে সমাবেশে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমি ভাই ঢাকার ছেলে। আমি ঢাকার রাজপথে মিছিল করে বড় হয়েছি। আমি ঢাকার রাজপথে আন্দোলন করে বড় হয়েছি। আমার বয়সটা একটু বেশি হয়ে গেছে। শান্ত থেকেছি, নীরব থেকেছি। কিন্তু ওই মুহূর্তে যদি আমার নির্দেশনা পেত, তাহলে তোমাদের তুলাধোনা করতে আমাদের ছেলেরা দেরি করত না।’

যারা আক্রমণাত্মক স্লোগান দিয়েছিল, তাদের কেউ ওসমান হাদির সমর্থক নয় দাবি করে মির্জা আব্বাস বলেন, এরা বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠনের নেতা ছিল। যারা সেখানে মব সৃষ্টি করেছিল, তারা চেয়েছিল হাদি ওখানেই মারা যাক।

সমাবেশে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ওসমান হাদি সবসময় দেশের শত্রুদের বিরুদ্ধে কথা বলতেন। তিনি ঢাকা-৮ আসনে প্রার্থী হয়েছেন। তবে কখনো মির্জা আব্বাস তাকে বিরক্ত করছেন, এমন কথা বলেননি।

ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমের উদ্দেশে রিজভী বলেন, আপনি এক-দেড় ঘণ্টার মধ্যে (হাদিকে গুলি করার) ফেসবুকে দিয়ে দিলেন। তার মানে কি ঠাকুর ঘরে কে রে, আমি কলা খাইনির মতো অবস্থা না? আপনি ঘোড়ার আগেই গাড়ি জুড়িয়ে দিলেন।

হাদির ওপর হামলা সুপরিকল্পিত দাবি করে রুহুল কবির বলেন, সন্তানের বয়সী একজন ছেলেকে মির্জা আব্বাস আঘাত করবেন, এটা অকল্পনীয়। তিনি হঠাৎ করে রাজনীতিবিদ হননি। তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ৫০ বছরের। হাদির ওপর হামলা এটা সুপরিকল্পিত।

ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব ও ঢাকা-৪ আসনে দলের প্রার্থী তানভীর আহমেদ রবিনের সভাপতিত্বে এবং দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন মাহমুদের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আবদুস সালাম, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী, যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না প্রমুখ। এ সময় বিএনপির ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী ইশরাক হোসেন, ঢাকা-১০ আসনের প্রার্থী শেখ রবিউল আলম, ঢাকা-৯ আসনের প্রার্থী হাবিবুর রশীদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশ শেষে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নাইটিঙ্গেল মোড় হয়ে আবার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

সারা দেশে বিএনপির প্রতিবাদ-বিক্ষোভ

নয়া দিগন্ত ডেস্ক জানান, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনে সম্ভাব্য এমপি প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে গতকাল সারা দেশে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে বিএনপি। সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার ও শাস্তি দাবি করেন।

বগুড়া অফিস জানায়, হাদিকে গুলির প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে বগুড়া জেলা বিএনপি। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার জেলা বিএনপি অফিসের সামনে জেলা সভাপতি রেজাউল করিম বাদশার সভাপতিত্বে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবার রহমান ও হেলালুজ্জামান তলুকদার লালু, সাবেক জেলা সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন, কেন্দ্রীয় সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম ও আলী আজগর তালুকদার হেনা, শহর সভাপতি হামিদুল হক চৌধুরী হিরু, সদর উপজেলা সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল, সাংগঠনিক সম্পাদক সহিদ উন নবী সালাম ও জাহিদুল ইসলাম হেলাল প্রমুখ। বক্তারা বলেন, যারা নির্বাচন বানচাল করতে চায় তারাই এ হামলা করেছে। অবিলম্বে হামলার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করতে হবে। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়।

ঝালকাঠি প্রতিনিধি জানান, ঝালকাঠিতে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে জেলা বিএনপি। শনিবার সকালে শহরে বিক্ষোভ মিছিল শেষে প্রেস ক্লাব চত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন দলটির নেতাকর্মীরা। মিছিলের শুরুতে সামনে থাকা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে হট্টগোল দেখা দেয়। ঝালকাঠি-২ (সদর-নলছিটি) আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও সাবেক এমপি ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টোর সামনেই এ হট্টগোল হয়।

শনিবার সকালে ঝালকাঠি শহরের আমতলা সড়কে জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি কিছুদূর এগিয়ে সাধনার মোড়ে পৌঁছলে মিছিলের সামনে থাকা নিয়ে জেলা যুবদল আহ্বায়ক শামীম তালুকদার ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল আহ্বায়ক আজাদুর রহমানের খানের সাথে বাকবিতণ্ডা হয়। এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে হট্টগোল দেখা দেয়। পরিস্থিতি শান্ত হলে পুনরায় মিছিলটি শুরু হয়। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ঝালকাঠি প্রেস ক্লাব চত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ঝালকাঠি-২ আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক শামীম তালুকদার, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল ইসলাম তুহিন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব মুশফিকুর রহমান বাবু এবং জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস সরদার দিপুসহ অন্যান্য নেতারা।

বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনাটি পরিকল্পিত এবং এটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা। দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে গ্রেফতার ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।

ফরিদপুর প্রতিনিধি জানান, ওসমান হাদি ও বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর ওপর হামলার প্রতিবাদে ফরিদপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিএনপি। দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার থদুপুরে ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে মিছিল শুরু হয়ে ব্যাংকের মোড়ে পৌঁছে সমাবেশ করে।

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সৈয়দ মোদাররেস আলী ঈসার সভাপতিত্বে এ সময়থবক্তব্য রাখেন থমহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কাইয়ুম জঙ্গি, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব একেএম কিবরিয়া স্বপন, সিনিয়র যুগ্ন আহ্বায়ক হোসেন খান পলাশ, যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েল প্রমুখ। এ সময় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের জোর দাবি জানিয়ে বলেন, দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রে নির্বাচন বানচালের উদ্দেশে এসব ঘটনা দেশবাসী দেখতে পাচ্ছে। এ অপতৎপরতার সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নিতে হবে।

লালমনিরহাট প্রতিনিধি জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত দুর্বৃত্তদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে লালমনিরহাটে প্রতিবাদ মিছিল করেছে জেলা বিএনপি।

গতকাল লালমনিরহাট জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিবাদ মিছিলে জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। প্রতিবাদ মিছিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি আসাদুল হাবিব দুলু।

মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাঞ্ছাল করতে এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে হামলা ও সহিংসতা চালাচ্ছে। এ সব হামলার সাথে জড়িতদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, দেশে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সরকারের দায়িত্ব। নির্বাচনী সহিংসতা বন্ধ করে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

ঢাকা ৮ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ওসমান হাদিকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি ও চট্টগ্রাম-৮ সংসদ সদস্য প্রার্থী ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক এরশাদ উল্লাহর ওপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন অনতিবিলম্বে হামলাকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে কুড়িগ্রামে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জেলা বিএনপি।

শনিবার কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলা বিএনপি কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে শেষ হয়।

মিছিলপূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক হাসিবুর রহমান, সদস্যসচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদসহ অন্যান্য নেতা।

বক্তারা ওসমান হাদির ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন,এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলা দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা। তারা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) সংবাদদাতা জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সদরে উপজেলা বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে প্রতিবাদ মিছিল ও সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার বিকেলে নবীনগর সদরের প্রধান প্রধান সড়কে প্রতিবাদ মিছিল শেষে উপজেলা পরিষদ রোডে দোষীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে জোরালো বক্তব্য প্রদান করেন।

নবীনগর পৌর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি হাসিবুল ইসলাম শাহীনের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির যুববিষরক সম্পাদক মো: জাবেদুল ইসলাম জাবেদ, সহ-যুববিষয়ক সম্পাদক এমদাদুল ইসলাম খাদেম, উপজেলা তাঁতী দলের সভাপতি ইফতেখার খান মামুন, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ও কবি অনন্ত হীরা, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল উদয়, নবীনগর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম ইউনুস, মো: আলমগীর হোসেন, নবীনগর পৌর ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন, ছাত্রদল নেতা মাজেদুল ইসলাম, আশিকসহ অন্যরা।

ছাগলনাইয়া-পরশুরাম (ফেনী) সংবাদদাতা জানান, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির ওপর হামলার প্রতিবাদে গতকাল শনিবার বিকেলে ফেনীর ছাগলনাইয়া পৌরশহরে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছে বিএনপি। ছাগলনাইয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুর আহম্মদ মজুমদারের সভাপতিত্বে বিক্ষোভপরবর্তী আদালত মাঠের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, ফেনী ১ আসনে বিএনপির সাংগঠনিক সমন্বয়ক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু। অন্যদের মধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-গ্রামবিষয়ক সম্পাদক বেলাল আহম্মদ, উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো: আলমগীর, যুগ্ম আহ্বায়ক কফিল উদ্দিন সরকার, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী জসীম উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি সংবাদদাতা জানান, হাদির ওপর গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আলহাজ মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নেতৃত্বে বিক্ষাভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার বেলা সাড়ে ১২টায় গুনাইঘর আজগর আলী মুন্সী সাতগম্বুুজ জামে মসজিদের কাছ থেকে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক ও কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক হয়ে নিউমার্কেট ‘স্বাধীনতা চত্বর’-এ এক প্রতিবাদ সভা করা হয়।

এ সময় বিক্ষোভ সমাবেশে বিএনপি জাতীয় কমিটির সদস্য, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, কুমিল্লা-৪ দেবিদ্বার আসনের বিএনপির মনোনয়নে টানা চারবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ দেবিদ্বার আসন থেকে বিএনপি দলীয় প্রার্থী আলহাজ ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী তার বক্তব্যে বলেন ‘ওসমান হাদিকে হত্যার চেষ্টায় গুলিবর্ষণকারীদের দ্রুত গ্রেফতারপূর্বক ও এ ঘটনার রহস্য উন্মোচনসহ অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, ওসমান হাদিকে হত্যার চেষ্টাকারীরাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাঞ্ছাল করতে নানাভাবে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তাদের এ অশুভ তৎপরতা রুখে দিতে হবে।

গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি জানান, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে গাজীপুর মহানগর বিএনপির উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার বিকেলে নগরীর রথখোলা মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে হাসপাতাল সড়ক ও রাজবাড়ী রোড প্রদক্ষিণ করে। এর আগে রথখোলা বটমূলে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অ্যাডভোকেট নাছির উদ্দিনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন- গাজীপুর-২ আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এম মঞ্জুরুল করীম রনি, বিএনপি নেতা ড. সহিদউজ্জামান, সুরুজ আহমেদ, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম শামীম, হাসান আজমল ভূঁইয়া, ভিপি জয়নাল আবেদীন তালুকদার, হান্নান মিয়া হান্নু, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি রুহানুজ্জামান শুক্কুরসহ নেতারা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এম মঞ্জুরুল করীম রনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেও ভায়োলেন্স করে, আর ক্ষমতার বাইরে থাকলেও ভায়োলেন্সের পথই বেছে নেয়। এদের রাজনীতির ভাষা কখনোই গণতান্ত্রিক ছিল না।’ তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত তাদের অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগ আসন্ন নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যে দেশকে অস্থিতিশীল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

বক্তারা বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রায় এবং সন্ত্রাসের রাজনীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। তারা অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার ও বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে রাজপথে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা চান।

চান্দিনা (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, হাদিকে গুলি করার প্রতিবাদে এবং দোষীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে কুমিল্লার চান্দিনায় বিক্ষোভ মিছিল করে বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার বিকেলে চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আতিকুল আলম শাওনের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ মিছিলটি চান্দিনা পাইলট উচ্চবিদ্যালয় খেলার মাঠ থেকে শুরু হয়ে উপজেলার প্রধান সড়ক এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের অংশ বিশেষ প্রদিক্ষণ করে হাইস্কুল মার্কেটের সামনে গিয়ে সমাবেশ করে।

এতে বক্তৃতা করেন- চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আতিকুল আলম শাওন। বিক্ষোভ মিছিলে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- পৌর বিএনপি আহ্বায়ক এ বি এম সিরাজুল ইসলাম, সদস্য সচিব শাহ মোহাম্মদ আলমগীর খাঁন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আরশাদ, স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আর্ন্তজাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান জাহিন, উপজেলা যুবদল সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শাহজাহান মুন্সি, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল আহ্বায়ক ডা: সাইফুল্লাহ বাপ্পী, সদস্য সচিব কামাল মুন্সী, পৌর যুবদল আহ্বায়ক হাজী মো: নূরুল ইসলাম মুন্সী, সদস্য সচিব মোজাম্মেল হক মুন্সী, উপজেলা ছাত্রদল আহ্বায়ক মো: শরীফ খাঁন, সদস্য সচিব মো: কাইউম খাঁন, পৌর ছাত্রদল আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম দোলন, সদস্য সচিব মো: হানিফ মুন্সী প্রমুখ।

বরিশাল ব্যুরো জানায়, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মো. মজিবুর রহমান সরোয়ার বলেছেন, পতিত সরকার বর্তমানে ভারতে পলায়নরত অবস্থায় রয়েছে। তবে তাদের দোসররা এখনো বাংলাদেশে অবস্থান করছে, যারা দেশের স্থিতিশীলতা ও শান্তি নষ্ট করতে চায়। ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে গতকাল বরিশালে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার পর দেশ শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ভোট অনুষ্ঠিত হবে- এটা তারা জানে। কিন্তু যাতে দেশে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন না হতে পারে, সে জন্য বিভিন্ন জায়গায় আগুন লাগানো হচ্ছে, মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। এসব নাশকতা রোধে দলের নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কারণ সংগ্রামেও বিএনপি, আগামী দিনের ভোটেও বিএনপি।

আবুল কাশেম শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ)সংবাদদাতা জানান, হাদির ওপরে গুলি করার প্রতিবাদ ও সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা বিএনপি প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। গতকাল শনিবার সকালে স্থানীয় বিসিক বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল পৌরশহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে দলীয় কার্যালয়ে এসে এক প্রতিবাদ সমাবেশ করে শেষ হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইকবাল হোসেন হিরু, সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান আরিফ, পৌর বিএনপির সভাপতি এমদাদুল হক নওশাদ, আবদুল জব্বার, আলামিন হোসেন, আবু বক্কর রঞ্জু, নাদিম আলী প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য একটি কুচক্রী মহল ও দল উঠে পড়ে লেগেছে। ওসমান হাদিকে প্রাণনাশের চেষ্টা তারই বহিঃপ্রকাশ। বক্তারা অতি দ্রুত হাদির ওপর গুলিবর্ষণ করা সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের জোর দাবি জানান।

তিতাস (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলাসহ সাম্প্রতিক একাধিক ঘটনার প্রতিবাদ এবং সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দুষ্কৃতকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবিতে গতকাল বিক্ষোভ মিছিল করেছে দাউদকান্দি উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং তিতাস উপজেলা বিএনপি। দাউদকান্দির কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগের অ্যাডভোকেট ড. খন্দকার মারুফ হোসেন এবং তিতাসে কুমিল্লা-আসনের বিএনপি প্রার্থী সেলিম ভুঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।