সিরাজগঞ্জ ও ঝালকাঠিতে জামায়াত প্রার্থীদের ওপর হামলা, আহত ১৯
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
দেশের দুই জেলায় জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর বিএনপির হামলার অভিযোগ উঠেছে। সিরাজগঞ্জ ও ঝালকাঠিতে পৃথক ঘটনায় অন্তত ১৯ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিএনপি।
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সিরাজগঞ্জ-১ (কাজীপুর ও সদরের একাংশ) আসনে জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী ও জেলা আমির মাওলানা শাহীনুর আলমের ওপর সোমবার রাত ১১টার দিকে সোনামুখী ইউনিয়নে তিন দফা হামলা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ইসলামি জালসা শেষে তার গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা, ভাঙচুর ও পথরোধের ঘটনাও ঘটে। এতে নজরুল ইসলাম, ওমর ফারুক ও আব্দুল আওয়ালসহ কমপক্ষে ১২ জন আহত হন। হামলাকারীরা দু’টি মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নিয়েছে বলেও দাবি করেন জামায়াত নেতারা।
এই ঘটনায় বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম রেজার সম্পৃক্ততার অভিযোগ করা হলেও তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘বিএনপি কোনো হামলায় জড়িত নয়।’ কাজীপুর থানার ওসি এনায়েতুর রহমান জানান, ‘দুই পক্ষের মধ্যে সামান্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি হয়েছিল, তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।’ পরে ঘটনাটির প্রতিবাদে সিরাজগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ করে জামায়াত।
ঝালকাঠি থেকে প্রতিনিধি জানান, নলছিটি উপজেলার মোল্লারহাট বাজারে গত সোমবার বিকেলে পোস্টার লাগানোকে কেন্দ্র করে বিএনপি কর্মীদের হামলায় জামায়াতের সাতজন আহত হন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গুরুতর আহত তিনজনকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান জানান, পোস্টার লাগানোকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার পর নির্ধারিত মানববন্ধন স্থগিত করা হলেও পরে জামায়াত নেতাকর্মীরা বাজারে গেলে তাদের ওপর হামলা হয়। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
অন্যদিকে, রানাপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুস সালাম বলেন, ‘হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মতো কিছু হয়নি; সামান্য ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।’ নলছিটি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আশরাফ আলী জানান, ‘অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
দুই জেলাতেই পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।