শেখ হাসিনার ভারতে থাকা তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত : জয়শঙ্কর
Printed Edition
কূটনৈতিক প্রতিবেদক
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে থাকা সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন, যে পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনা ভারতে এসেছেন, সেটিই এখন তার ভবিষ্যৎ অবস্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে মুখ্য বিষয়।
গতকাল এইচটি লিডারশিপ সামিটে এনডিটিভির প্রধান নির্বাহী ও সম্পাদক রাহুল কনওয়ালকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জয়শঙ্কর এ মন্তব্য করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, শেখ হাসিনা কি যত দিন ইচ্ছা তত দিন ভারতে থাকতে পারবেন? জবাবে জয়শঙ্কর বলেন, এটা ভিন্ন প্রসঙ্গ। তিনি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এখানে এসেছেন। আমার মনে হয়, সেই পরিস্থিতিই ভবিষ্যতে তার জন্য কী হবে সেটা নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে। তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তটা তাকেই নিতে হবে।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের দিকে আলোকপাত করে জয়শঙ্কর বলেন, প্রতিবেশী দেশটিতে একটি গ্রহণযোগ্য গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট। বাংলাদেশে এখন যারা ক্ষমতায় আছেন, তারা অতীতের নির্বাচন নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন। যদি সমস্যা নির্বাচনই হয়ে থাকে, তাহলে প্রথম কাজ হওয়া উচিত সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা।
বাংলাদেশের সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে জয়শঙ্কর বলেন, আমরা বাংলাদেশকে ভালো দেখতে চাই। গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে আমরা চাই জনগণের ইচ্ছা যেন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রতিফলিত হয়। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থেকে যা-ই বেরিয়ে আসুক, আমি মনে করি তা সম্পর্কের প্রতি ভারসাম্যপূর্ণ ও পরিণত দৃষ্টিভঙ্গি আনবে। আশা করি পরিস্থিতি আরো উন্নত হবে।
টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর গত বছরের আগস্টে ছাত্রদের নেতৃত্বে অভ্যুত্থানে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন শেখ হাসিনা। অভ্যুত্থান দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে এবং তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছে। ট্রাইব্যুনালের এই রায়ের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে ভারতকে কূটনৈতিক পত্র দিয়েছে। ভারত এখনো তার জবাব দেয়নি।