ট্রাম্পের সফর তালিকায় না থাকায় হতাশ নেতানিয়াহু
উপসাগরীয় দেশগুলোতে সফরে ইসরাইলকে এড়িয়ে যান ট্রাম্প
Printed Edition
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্য সফরে গেলেও ইসরাইলকে এড়িয়ে যাচ্ছেন, এতে দেশটি হতাশ হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে না, কূটনৈতিক নীরবতা বজায় রেখেছে। মঙ্গলবার থেকে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো সফর শুরু করেছে ট্রাম্প। প্রথমে সৌদি আরব, সেখান থেকে কাতার হয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত যাবেন তিনি। ইতোমধ্যে ট্রাম্প সৌদি আরব সফর শেষ করেছেন এবং কাতার সফরের শেষ পর্যায়ে আছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার এখান থেকে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের উদ্দেশে রওনা হন। এ সফরে ট্রাম্প একের পর এক ঘোষণা দিয়েছেন যেগুলো ইসরাইলিদের তাদের দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্রের সাথে তাদের সম্পর্কবিষয়ক ধারণাকে কাঁপিয়ে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এ সফরে ইসরাইলকে এড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ট্রাম্প। এরই মধ্যে এ সফরকে ধনী উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সাথে লাভজনক ব্যবসায়িক চুক্তির ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের বাড়তি মনোযোগের একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এসব দেশের মধ্যে কাতারও আছে, এ দেশটি ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসকে সাহায্য করছে বলে দীর্ঘ দিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন ইসরাইলি কর্মকর্তারা। ট্রাম্পের এ সফর শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তার আঞ্চলিক শত্রু ইরানের আলোচনা নিয়ে এবং ইয়েমেনের হাউছিদের ওপর ট্রাম্পের বোমাবর্ষণ বন্ধের সিদ্ধান্তে ইসরাইল ক্ষুব্ধ ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অস্ত্রবিরতি চুক্তিতে গেলেও হাউছিরা ইসরাইলের বিরুদ্ধে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল আছে।
এরপর গাজায় বন্দী সর্বশেষ জীবিত মার্কিন বন্দী এডেন আলেকজান্ডারকে ছাড়িয়ে আনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রর যখন হামাসের সাথে আলোচনা করে একটি চুক্তিতে পৌঁছায়, তখন ইসরাইলি কর্মকর্তারা চুপচাপ পাশে দাঁড়িয়ে থেকে এটি দেখতে বাধ্য হন। তার পর থেকে তাদের শুনতে হয়েছে ট্রাম্প সিরিয়ার ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার ঘোষণা দিচ্ছেন এবং দামেস্কের নতুন সরকারের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।
মঙ্গলবার রিয়াদে ট্রাম্প যখন হাউছিদের সাথে অস্ত্রবিরতি চুক্তি নিয়ে কৃতিত্ব জাহির করে বক্তব্য রাখছিলেন তখন ইয়েমেন থেকে ছোড়া এক ক্ষেপণাস্ত্রের কারণে ইসরাইলের গণমাধ্যম জেরুসালেম ও তেল আবিবসহ দেশজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজার খবর দিচ্ছিল। তবে ট্রাম্প ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার ধারণাগুলো উড়িয়ে দিয়েছেন। উপসাগরীয় আবর দেশগুলো সফরে তার সাথে থাকা সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, তার এ সফরে শেষ পর্যন্ত ইসরাইলই উপকৃত হবে আর দেশটি এখনো তাকে তাদের অন্যতম কট্টর সমর্থক হিসেবে দেখে আসছে। ‘এসব দেশের সাথে আমার যেমন আছে তেমন একটি সম্পর্ক থাকা ইসরাইলের জন্যও ভালো হবে; এই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে, মূলত তাদের সবার সাথে’- বলেছেন ট্রাম্প। ইসরাইলের কট্টরপন্থী সরকারের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এসব নিয়ে এ পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেননি, শুধু এডেন আলেকজান্ডারের মুক্তির ব্যবস্থা করার জন্য ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানানো ছাড়া। গাজা যুদ্ধ নিয়ে ইসরাইল ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক পক্ষগুলোর চাপে আছে। এই যুদ্ধ সৌদি আরবের সাথে ইসরাইল সম্পর্ক স্বাভাবিক করার নেতানিয়াহুর আশাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। আর ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোর কারণে ইসরাইল পেছনে পড়ে গেছে, তার দেশের ব্যাপক জনসাধারণের এমন ধারণার মুখোমুখি হয়েছেন নেতানিয়াহু।