ইরান আক্রমণ করে আইনি জটিলতায় ট্রাম্প
Printed Edition
সিএনএনের বিশ্লেষণ
যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি অনুযায়ী পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার টেবিলে বসেছিল ইরান। বিষয়টি নিয়ে একরকম সমঝোতাও হচ্ছিল। এরই মধ্যে হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে শনিবার সকালে তেহরান আক্রমণ করে ইসরাইল। এতে অংশগ্রহণ থাকার কথা স্বীকার করে ওয়াশিংটন। এর পর থেকে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের বিভিন্ন স্থাপনায় মার্কিন বাহিনী হামলা চালাচ্ছে বলে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন। এতে প্রশ্ন উঠেছে যে, রিপাবলিকান সরকারের এই প্রধান আসলে দেশটির সংবিধান লঙ্ঘন করছেন কি না।
কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান শুরু করার বিষয়ে ট্রাম্পের সাংবিধানিক কর্তৃত্ব নিয়ে আইনবিশেষজ্ঞরা ইতোমধ্যে সংশয় প্রকাশ করেছেন, বিশেষ করে যদি এটি দীর্ঘস্থায়ী সঙ্ঘাতে রূপ নেয়।
গত গ্রীষ্মে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন বোমা হামলা এবং জানুয়ারিতে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সামরিকভাবে বন্দী করার ঘটনার মতো আক্রমণগুলোও নির্বাহী কর্তৃত্ব এবং প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার পরিধিকে সামনে নিয়ে এসেছে।
একাধিক সূত্র জানায়, হোয়াইট হাউজ জনসাধারণের কাছে কোনো আইনি যৌক্তিকতা উপস্থাপন করেনি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কংগ্রেস সদস্যদের কাছে এর কোনো পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দেননি। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের আইনজীবী এবং জাতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টোফার অ্যান্ডার্স বলেন, ইরান আক্রমণ করে ট্রাম্প সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। কারণ যুদ্ধ ঘোষণা করার ও মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যদের যুদ্ধে পাঠানোর কর্তৃত্ব কার হাতে থাকবে, সে বিষয়ে সংবিধান একদম স্পষ্ট আর সেই কর্তৃত্ব কেবল কংগ্রেসের।
অ্যান্ডার্স আরো বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কংগ্রেসের কাছ থেকে আগাম অনুমোদন না নিয়েই এই ক্ষমতা নিজের হাতে কুক্ষিগত করার চেষ্টা করেছেন। সংবিধানে দ্ব্যর্থহীনভাবে উল্লেখ আছে, কেবল কংগ্রেসই যুদ্ধ ঘোষণা বা অনুমোদন করতে পারে।
জর্জ মেসন ইউনিভার্সিটির আইনের অধ্যাপক এবং লিবের্টারিয়ান থিংক ট্যাংক ক্যাটো ইনস্টিটিউটের স্কলার ইলিয়া সোমিন বলেন, ‘এটি খুব স্পষ্টভাবে একটি যুদ্ধ।