গোলরক্ষকদের ভুলে সর্বনাশ
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
আরেকটি ব্যর্থ মিশন শেষে দেশে ফিরছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ নারী ফুটবলের চূড়ান্ত পর্বের কোয়ার্টার ফাইনাল ও নক আউটে খেলার জন্যই থাইল্যান্ডের ব্যাংককে গিয়েছিল বাংলাদেশ দল। কিন্তু শেষ ম্যাচে ভিয়েতনামের কাছে হেরে তাদের দেশে ফিরতে হয়েছে খালি হাতে। নক আউটে ওঠা হয়নি। জয়তো দূরের কথা ন্যূনতম ড্রও করতে পারেনি। প্রথম ম্যাচে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ২ গোলে লিড নিয়েও ডিফেন্ডারদের ভুলে শেষ পর্যন্ত ২-৩ গোলে হার। এরপর চীনের কাছে হারের পর শেষ ম্যাচে ভিয়েতনামের বিপক্ষে জিতলেই চলে যেত শেষ আটে। অথচ গোলরক্ষক মিলি আক্তারের ভুলে ০-১ গোলে হেরে বিদায়। এ নিয়ে টানা তিনটি আসরে বাংলাদেশকে খালি হাতে ফিরতে হলো গোলরক্ষকদের ভুলে। অথচ গত বছর বাংলাদেশ নারী ফুটবলে এএফসির দুই আসরের ফাইনাল রাউন্ডে উঠেছিল। তখন থেকেই বাফুফেসহ পুরো দেশবাসী স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল বিশ^কাপে খেলার। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার মাঠে ব্যর্থতার পর ব্যাংককেও সেই পথে হাঁটল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। অনূর্ধ্ব-২০ নারী দলের আগে এই গোলরক্ষকদের ভুলে এবারের এশিয়ান কাপ বাছাই পর্ব এবং অনূর্ধ্ব-১৯ নারী সাফে বাংলাদেশ কাক্সিক্ষত সাফল্য পায়নি।
বাফুফের নতুন কমিটি দায়িত্ব নেয়ার পরপরই বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল নেপালের মাঠে সিনিয়র সাফ ফুটবলের শিরোপা ধরে রাখা। এরপর দেশে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের সাফ শিরোপা জয়। এরপর পরই মিয়ানমার ও লাওসের মাঠে বাংলাদেশের নারী ফুটবলে ইতিহাস গড়া সাফল্য। সিনিয়ন ও অনূর্ধ্ব-২০ নারী দল প্রথমবারের মতো এএফসির আসরের চূড়ান্ত পর্বে খেলার টিকিট পাওয়া। এরপর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সিনিয়র নারী দল চীন, উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তানের কাছে হেরে বিদায় নেয়। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জোড়ালো আশা না থাকলেও থাইল্যান্ডের মাঠে বাংলাদেশের আশা ছিল। কারণ গ্রুপে প্রতিপক্ষ ছিল কাছাকাছি শক্তির থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম। প্রথম ম্যাচে দুই ডিফেন্ডার আফরিন ও নবীরনের অহেতুক ফাউলের কারণে সৃষ্ট পেনাল্টি থেকে দুই গোলে পিছিয়ে থাকা থাইল্যান্ড সমতা আনে। এরপর তৃতীয় গোল করে জয় তুলে নেয় থাই মেয়েরা। ৭ এপ্রিল ভিয়েতনামের বিপক্ষে জিতলেই যেখানে নক আউটে সেখানে মিলি আক্তার বলের ফ্লাইট মিস করে দখল হারান। এরপর সে বলেই ভিয়েতনামের জয় সূচক গোল।
অনূর্ধ্ব-২০ নারী দলের গোলরক্ষকের ভুলে এই ব্যর্থতার আগেই বাংলাদেশ পুরুষ জাতীয় দল এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বে সাফল্য পায়নি তা গোলরক্ষক মিতুল মারমার কারনে। জুনে ঢাকায় সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে দুই গোল হজমের জন্য দায়ী তিনি। অথচ হামজা চৌধুরী বাংলাদেশ দলে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ওই ম্যাচটি ছিল প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। ওই ম্যাচকে ঘিরে দর্শকদের প্রবল আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছিল। তবে মিতুলের ভুলেই হতাশায় হয়েছিল। সর্বশেষ ৩১ মার্চ সিঙ্গাপুরের মাঠে এশিয়ান কাপের ম্যাচে হারের জন্যও দায় এই মিতুল মারমার। ঠিক মতো বল ক্লিয়ার করতে না পারার ফলেই সিঙ্গাপুরের জয় সূচক গোল।
এ বছর নেপালের পোখরায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ফুটবল। সে আসরে গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ ২-০তে হারিয়েছিল ভারতকে। কিন্তু ফাইনালে সেই ভারতের কাছে ০-৪ গোলে হেরে শিরোপা জেতা হলো না অর্পিতা বিশ^াসদের। আর এতে দায়ী গোলরক্ষক ইয়ারজান বেগম। পিছিয়ে পড়া বাংলাদেশ দল যখন সমতা আনার চেষ্টা করছিল তখন এই ইয়ারজান বেগম পরপর দু’টি ভুল করে দুই গোল হজম করেন। একবার বল জমা দেন প্রতিপক্ষ ফুটবলারের পায়ে। পরের বার অহেতুক ফাউল করে পেনাল্টি। যদিও এই ইয়ারজানের টাইব্রেকার ঠেকানোর কৃতিত্বেই ২০২৪ সালে অনূর্ধ্ব-১৬ সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। ব্যাংককের মাঠে অনূর্ধ্ব-২০ দলের চূড়ান্ত ব্যর্থতার ঠিক তিন দিন আগেই মালদ্বীপে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ সাফে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। আর তা গোলরক্ষক ইসমাইল হোসেন মাহিনের টাইব্রেকার ঠেকানোর বদৌলতেই।
শুধু গোলরক্ষকই হারের জন্য দায়ী নন। নারী ও পুরুষ ফুটবল উভয় ক্ষেত্রেই স্ট্রাইকারদের গোল মিসও দায়ী। অনূর্ধ্ব-১৯ নারী সাফের ফাইনালে তৃষ্ণা রানী যেমন একা গোলরক্ষককে পেয়েও গোল করতে পারেননি, তেমনি ভিয়েতনামের বিপক্ষেও এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলে সাগরিকা পারেননি একা গোলরক্ষককে পরাস্ত করতে। পুরুষ এশিয়ান কাপে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে দুই ম্যাচেই হামজা চৌধুরী, তারিক কাজী ও মিরাজুলদের গোল মিস হারের আরেক কারন।