ইসরাইলের ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব ৪০ দেশের
Printed Edition
ডেইলি সাবাহ
পশ্চিম তীরে ইসরাইলের অঘোষিত দখলদারিত্ব ঠেকাতে দেশটির ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব দিয়েছে ৪০টি দেশ। প্রস্তাবিত এই পদেেপর মধ্যে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা এবং ভ্রমণকারীদের বিশেষ তল্লাশির মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
যৌথ সভাপতিদের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের ওপর সরাসরি আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত বসতি স্থাপন নীতির নজিরবিহীন বিস্তারের জবাবে এই পদপে নেয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত পদপেগুলোর মধ্যে ইসরাইলি পাসপোর্টধারী ভ্রমণকারীদের তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যারা সামরিক বাহিনীতে কাজ করেছেন, যুদ্ধাপরাধের নিয়মের অধীনে প্রবেশ বন্দরে তাদের দ্বিতীয় দফায় তল্লাশির মুখে পড়তে হবে। এছাড়া দেশগুলো ইসরাইলি বসতি থেকে আসা পণ্য আমদানিতে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা এবং অস্ত্র ও সামরিক জ্বালানি স্থানান্তর বা পরিবহণ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়, সরকারগুলোর সামনে এখন অপরাধে সহযোগিতা বা আইন মেনে চলার মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নেয়ার স্পষ্ট সুযোগ রয়েছে। এতে বলা হয়, ‘ইতিহাস আমাদের দেয়া ভাষণের দ্বারা নয়, বরং আমাদের নেয়া পদেেপর দ্বারাই আমাদের বিচার করবে।’ দণি আফ্রিকা ও কলম্বিয়ার যৌথ সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি ছিল হেগ গ্রুপের সবচেয়ে বড় জমায়েত। ২০২৫ সালে এই গ্রুপটি প্রতিষ্ঠার পর এটিই তাদের সর্ববৃহৎ সম্মেলন।
২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর গাজায় সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে পূর্ব জেরুসালেমসহ পশ্চিম তীরেও নিজেদের তৎপরতা বাড়িয়েছে ইসরাইল। ফিলিস্তিনিরা মনে করেন, হত্যা, গ্রেফতার, বাস্তুচ্যুতি এবং বসতি সম্প্রসারণের মতো এই ক্রমবর্ধমান সহিংসতা মূলত ওই ভূখণ্ডকে আনুষ্ঠানিকভাবে দখল করারই একটি ধাপ। এর আগে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে এক যুগান্তকারী মতামতে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলের দখলদারিত্বকে অবৈধ ঘোষণা করে। একই সাথে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুসালেমের সব অবৈধ বসতি সরিয়ে নেয়ারও আহ্বান জানায় আদালত।