সাইবারি : পিএসভি টু বায়ার্ন

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ফুটবলে কখন কার ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায়, তা আগে থেকে বলা যায় না। মরক্কোর তারকা বিলাল এল খান্নুস, আশরাফ হাকিমি কিংবা ইউসেফ এন-নেসিরিদের ভিড়ে খুব বেশি আলোচনায় ছিলেন না ইসমায়েল সাইবারি। কিন্তু ব্রাজিলের বিপক্ষে বিশ্বকাপের মঞ্চে একটি গোলই বদলে দিয়েছে তার পরিচয়, মর্যাদা আর ভবিষ্যৎ।

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি ব্রাজিলের বিপক্ষে গোল করা এমনিতেই বিশেষ অর্জন। আর সেই গোল যখন দলের জন্য মূল্যবান ১ পয়েন্ট এনে দেয়, তখন তার গুরুত্ব আরো বেড়ে যায়। ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন না ভিনিসিয়াস জুনিয়র কিংবা ব্রাজিলের তারকারা- ছিলেন মরক্কোর লাল-সবুজ জার্সিধারী সাইবারি। তার ক্ষিপ্রতা, আত্মবিশ্বাস আর নিখুঁত ফিনিশিং মুগ্ধ করেছে ফুটবলবিশ্বকে।

ফলও মিলেছে হাতেনাতে। পিএসভি আইন্দহোভেনের জার্সিতে নিজের সামর্থ্যরে ঝলক দেখালেও বিশ্বকাপের সেই এক গোল যেন তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন হয়ে উঠেছে। ইউরোপের জায়ান্ট ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখে রেকর্ড ট্রান্সফার ফিতে তাকে দলে ভিড়িয়েছে। এক ম্যাচ, এক গোল, আর তাতেই বদলে গেছে জীবনের গল্প।

এটাই ফুটবলের সৌন্দর্য। যেখানে একটি মুহূর্তই একজন খেলোয়াড়কে সাধারণের কাতার থেকে তুলে নিয়ে যেতে পারে বিশ্বনায়কের আসনে। সাইবারির গল্প তাই শুধু একটি গোলের গল্প নয়; এটি স্বপ্ন, সুযোগ আর নিজেকে প্রমাণ করার এক অনন্য উপাখ্যান।

মরক্কোর ২৫ বছর বয়সী অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের চোখ ধাঁধানো সেই গোলের ২৪ ঘণ্টা পেরোতেই ভাগ্য রেকর্ড ৫৫ মিলিয়ন ইউরো (বাংলাদেশী মুদ্রায় যা প্রায় ৭২০ কোটি টাকারও বেশি) ট্রান্সফার ফিতে ডাচ ক্লাব পিএসভি থেকে তাকে দলে ভিড়িয়েছে জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন। এটি ক্লাবটির ইতিহাসে কোনো খেলোয়াড় বিক্রি করে পাওয়া সর্বোচ্চ ফি, যা তাদের আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। গত ১২ মাসে সাইবারির পারফরম্যান্সের গ্রাফ এতটাই ঊর্ধ্বমুখী ছিল যে, ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলো তাকে দলে নিতে মুখিয়ে ছিল। তবে বায়ার্ন মিউনিখের প্রধান কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এই মরক্কোন প্রতিভাকে দলে ভেড়ানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। বায়ার্নের সাথে সাইবারির এই চুক্তিটি ২০৩১ সালের গ্রীষ্ম পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। পিএসভির হয়ে ১৪২ ম্যাচে গোল করেছেন ৪২টি আর অ্যাসিস্ট ২৯টি। গত তিন মৌসুমে টানা তিনটি ইরেডিভিসি লিগ শিরোপা এবং দু’টি কেএনভিবি কাপ জয়ের তকমা আছে সাইবারির।

বর্তমানে বিশ্বকাপে জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও সাইবারির এই দলবদলে কোনো বিলম্ব বা বাধা সৃষ্টি হচ্ছে না। সাইবারির মেডিক্যাল পরীক্ষা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই সম্পন্ন করার সব ব্যবস্থা করা হয়েছে। এটি সম্ভব হচ্ছে কারণ বায়ার্ন মিউনিখের ক্লাব ডাক্তার এই মুহূর্তে জার্মানি জাতীয় দলের সাথে আটলান্টিকের ওপারেই (আমেরিকায়) অবস্থান করছেন। ফলে সাইবারিকে এই মুহূর্তে মিউনিখে উড়ে যেতে হচ্ছে না, বিশ্বকাপের মাঝেই সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা যাবে।

বুন্দেসলিগার ক্লাব স্টুটগার্টে খেলা সাইবারির জাতীয় দলের সতীর্থ বিলাল এল খানুস এই দলবদলকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। স্কাই স্পোর্ট জার্মানিকে তিনি বলেন, ‘ও আমার খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সত্যি বলতে ও জার্মানির বড় কোনো ক্লাবে খেলার মতো একজন অবিশ্বাস্য খেলোয়াড় এবং ও শতভাগ এই সুযোগটি পাওয়ার যোগ্য। আমি ওর ক্যারিয়ারের জন্য শুভকামনা জানাই।’