এ কে খন্দকারের নামাজে জানাজা সম্পন্ন, প্রধান উপদেষ্টার শেষ শ্রদ্ধা

Printed Edition
first-2
এয়ার ভাইস মার্শাল (অব:) এ কে খন্দকারের কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

মহান মুক্তিযুদ্ধের উপ-প্রধান সেনাপতি ও বাংলাদেশের প্রথম বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব:) আবদুল করিম খন্দকার (এ কে খন্দকার) বীর উত্তমের নামাজে জানাজা গতকাল রাজধানীর বিএএফ ঘাঁটি বাশারের প্যারেড গ্রাউন্ডে হয়েছে।

বিএএফ ঘাঁটি বাশারের কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম নামাজে জানাজা পরিচালনা করেন। এতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসহ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, তিন বাহিনী প্রধান, ঊর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তা এবং সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন। নামাজে জানাজার আগে কফিন বহনকারীরা স্লো মার্চ করে এ কে খন্দকারের কফিন মঞ্চে নিয়ে যান। এ সময় তার প্রতি রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদানসহ আনুষ্ঠানিক ফিউনারেল প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় এ কে খন্দকারের জীবনী পাঠ করেন বিএএফ বিমান সচিব এয়ার ভাইস মার্শাল আব্দুল্লাহ আল মামুন। এ ছাড়া মরহুমের ছেলে জাফরুল করিম খন্দকার সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।

নামাজে জানাজা শেষে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে তার সামরিক সচিব কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে এই বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসও পৃথকভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে এ কে খন্দকারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। এরপর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এ কে খান্দকারের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে বিমানবাহিনীর একটি ফ্লাই পাস্টের মাধ্যমে এ কে খন্দকারের প্রতি সম্মান জানানো হয়।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রথম প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব:) এ কে খন্দকার শনিবার সকালে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ইন্তেকাল করেন। তিনি ১৯৩০ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর ১১ মাস ২০ দিন। তিনি দুই ছেলে, এক মেয়ে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

এ কে খন্দকার মহান মুক্তিযুদ্ধে উপ-প্রধান সেনাপতি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং পরে বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে পাবনা-২ আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

এ ছাড়া তিনি ভারত ও অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবেও কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করেন।