আহমদ মতিউর রহমান
বাংলাদেশ-লাগোয়া ভারতের যে সেভেন সিস্টার্স বা সাত রাজ্য- তার একটি মনিপুর। এ রাজ্যে গত দুই বছর ধরে অশান্তি চলছে। চলছে জাতিগত দাঙ্গা। দাঙ্গায় স্বল্প জনসংখ্যার রাজ্যে তিন শ’র মতো মানুষের মৃত্যু হয়েছে। গত ডিসেম্বরে সেখানকার বিভিন্ন পক্ষ অবিলম্বে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির আহ্বান জানিয়েছিল। গত মাসে বিজেপি-শাসিত এ রাজ্যে জারি হয় রাষ্ট্রপতির শাসন। দেখা যাচ্ছে, এরপরও সহিংসতা কমছে না।
মনিপুরে শান্তি ফেরাতে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তেমন উদ্যোগ দেখা না গেলেও এবার মাঠে নেমেছেন বিচারপতিরা। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিচারপতিদের উদ্যোগ কি রাজ্যটিতে শান্তি ফেরাতে পারবে। দেখা যাক, তারা কী করেছেন। মানুষ সংবিধান মেনে চললে মনিপুরে প্রতিবন্ধকতা জয় করা যাবে। এমনটি মনে করেন ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এন কোটিশ্বর সিংহ। তাদের সফরের বর্ণনা দিয়ে আনন্দবাজার পত্রিকা ২৩ মার্চ জানায়, রাজ্যের বাস্তব চিত্র খতিয়ে দেখতে মনিপুরে গেছে শীর্ষ আদালতের বিচারপতি বি আর গবইয়ের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির প্রতিনিধিদল। ওই প্রতিনিধিদলে ছিলেন বিচারপতি সিংহও। মনিপুরে হাইকোর্ট স্থাপনার দ্বাদশ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন বিচারপতি সিং। ওই বক্তৃতাতে মনিপুরবাসীকে সংবিধান মেনে চলার পরামর্শ দেন তিনি।
‘কেমন আছে মনিপুর? সরেজমিন দেখলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা, কথা বললেন বিধ্বস্ত বাসিন্দাদের সাথে’-এ শিরোনামে এক প্রতিবেদনে হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, এ প্রতিনিধিদলের অন্যতম সদস্য বিচারপতি এন কোটিশ্বর সিংহ নিজে মেইতেই সম্প্রদায়ের একজন। সে কারণে তিনি এ দিন কুকি-প্রধান চুরাচাঁদপুরে যাননি। পিটিআই সূত্রে দাবি, স্থানীয় আইনজীবী সংগঠনের আপত্তি থাকাতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। দাঙ্গাবিধ্বস্ত মনিপুরে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের সফর এখানকার আমজনতার জন্য ‘সান্ত্বনার স্পর্শ’-এর সমতুল্য হবে এবং তাদের মধ্যে নতুন ‘আশা সঞ্চার’ করবে। ২২ মার্চ এমন মন্তব্য করেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি কোটিশ্বর সিং। স্মরণযোগ্য, বিচারপতি বিআর গাভাইয়ের নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের পাঁচজন বিচারপতির একটি প্রতিনিধিদল এ দিন দু’দিনের সফরে মনিপুর পৌঁছায়। এ প্রতিনিধিদলের সদস্যরা একটি ত্রাণশিবির পরিদর্শন করেন। তারা সেখানে আশ্রিত এবং নিজভূমে বাস্তুচ্যুত হওয়া মানুষের সাথে কথা বলেন। তাদের কথা শোনেনও। এরপর চুরাচাঁদপুর জেলার মিনি সচিবালয় থেকে ভার্চুয়ালি একটি আইনি সেবাশিবির, একটি চিকিৎসাশিবির ও একটি আইনি সহায়তা ক্লিনিকের উদ্বোধন করেন সুপ্রিম কোর্টের প্রতিনিধিরা। যাই হোক, মি. কোটিশ্বর সঙ্কট বাড়ানোর মতো কিছু করেননি। বিষ্ণুুপুর জেলার মৈরাংয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপচারিতার সময় বিচারপতি সিং বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের সফর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। আমি নিশ্চিত, এ ঘটনা দাঙ্গাবিধ্বস্ত মানুষের মনে আশার সঞ্চার করবে। তাদের সান্ত্বনার স্পর্শ দেবে।’
অন্য খবরে জানা গেছে, মার ও জোমি জনজাতির সংঘর্ষের পর সম্প্রতি অশান্তি শুরু হয়। সেই আবহে ফের দুই জনজাতির সংঘর্ষ হয় জেলার বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে। চুরাচাঁদপুরে কারফিউ জারি হওয়ার পরে বৈঠকে বসেন মার এবং জোমি জনজাতির প্রতিনিধিরা। দীর্ঘ বৈঠকের পর দু’পক্ষে শান্তিচুক্তিও হয়; কিন্তু তার ২৪ ঘণ্টা পেরোতে না পেরোতে সংঘর্ষ বাধে দুই জনজাতির মধ্যে। কোথাও কোথাও গোলাগুলিও চলে।
দেখা যাচ্ছে, গত নভেম্বরে নতুন করে যে সঙ্কট বা অশান্তি ডালপালা মেলেছিল তা এখনো শেষ হয়নি। সে সময় সিআরপিএফ গুলি চালালে ১১ জন নিহত হন। এরপর কুকি আর মেইতেইর মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, রাষ্ট্রপতি শাসনের ৩০ দিনে মনিপুর তেমন কোনো আশাজাগানো বদল দেখেনি; বরং কেন্দ্রীয় নীতির ব্যর্থতার সাক্ষী রেখে ফের উত্তেজনা ফিরেছে পাহাড় ও সমতলের মধ্যে।
মনিপুর উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি স্থলবেষ্টিত রাজ্য। রাজধানী ইম্ফল। এ রাজ্যের উত্তরে নাগাল্যান্ড, দক্ষিণে মিজোরাম, পশ্চিমে আসাম ও পূর্বে মিয়ানমার। বাংলাদেশের সাথে সরাসরি সীমান্ত না থাকলেও আসাম পার হয়ে মনিপুর। ফলে এ অঞ্চলে তিক্ততার একটা খারাপ ফল এ দেশেও পড়তে পারে এরকম একটি কথা বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন। ২০২৩ সালের মে মাসে সহিংসতা শুরু হলে কিছু দিন পর থেকে মনিপুরের অংশ কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। মনিপুর রাজ্যের আদিবাসী ও মেইতেই জাতির মধ্যে এ জাতিগত সহিংসতার মাত্রা ছিল তীব্র। আদিবাসী সংগঠনগুলো মেইতেই জাতিকে তফসিলি উপজাতির মর্যাদা প্রদানের বিরোধিতা করে ২০২৩ সালের ৩ মে বিক্ষোভ শুরু করেছিল। অল ট্রাইবাল স্টুডেন্ট ইউনিয়ন মনিপুর (এটিএসইউএম) দ্বারা ডাকা ‘উপজাতি সংহতি মার্চ’ চলাকালীন চুরাচাঁদপুর জেলায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে, যাতে কমপক্ষে ৫৪ জন নিহত হয়েছিল। ৩ মে দাঙ্গার পর, আসাম রাইফেলস ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্মীদের আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে রাজ্যে মোতায়েন করা হয়েছিল। মনিপুর রাজ্যে ইন্টারনেট পরিষেবা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছিল। আইপিসির ১৪৪ নং ধারা জারি করা হয়েছিল।
আর এসব পরিস্থিতি ঘিরে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি মনিপুর রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়। রাজ্য প্রশাসন বিজেপির হাত থেকে কেন্দ্রের হাতে চলে যায়। এরপর ১ মার্চ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে চলাফেরার ওপরে নিয়ন্ত্রণ তুলতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেন। যার জেরে পুলিশ অভিযান চালাতে যায়। মনিপুরে গত প্রায় দুই বছরের সহিংসতার জেরে অন্তত ৩০০ মানুষ মারা গেছে, গৃহহীন হয়েছে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ।
দ্বন্দ্ব কোথায়?
মনিপুরের ৩৬ লাখ জনগোষ্ঠীর ৫৩ শতাংশ মেইতেই। তাদের বড় অংশ হিন্দু। তবে মুসলমান ও বৌদ্ধও আছে। রাজ্যের বিধানসভায় মেইতেইদের ক্ষমতা অন্যদের চেয়ে বেশি। অন্য দিকে ইম্ফল উপত্যকার আশপাশের পাহাড়ে বাস করে নৃতাত্ত্বিক বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী। পাহাড়ি এলাকার দক্ষিণে বাস করে কুকি ও উত্তর-পূর্বে বাস করে নাগারা। খ্রিষ্টধর্মের অনুসারী কুকি ও নাগারা মনিপুরের ৩৬ লাখ মানুষের প্রায় ৪০ শতাংশ। তারা পাহাড়ে সংরক্ষিত এলাকায় বাস করে। এ পাহাড়ি অঞ্চল মনিপুর ভূখণ্ডের ৯০ শতাংশ। মেইতেই এবং অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে বিভেদটি রাজনৈতিক ও ভৌগোলিকভাবে স্পষ্ট। দাঙ্গায় এ বিভেদের চিত্রটি সামনে এলেও দুই পক্ষের মধ্যকার উত্তেজনা দীর্ঘ দিনের এবং ভূমি অধিকার, সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এ দূরত্ব ও বিভেদ চলছে। রাজ্য সরকার এবং প্রশাসনের বিভিন্ন পদে মেইতেইদের আধিপত্য চোখে পড়ার মতো। সেখানে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নতির সুবিধা অন্য আদিবাসী গোষ্ঠীগুলোর তুলনায় তারা বেশি ভোগ করে।
মনিপুরের সংখ্যাগুরু মেইতেই সম্প্রদায়কে তফসিলি উপজাতি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখতে হাইকোর্ট একটি সুপারিশ করার পর থেকে সহিংসতা চলছে। নাগা ও কুকিদের অভিযোগ, অবৈধ অভিবাসী উচ্ছেদের মাধ্যমে মূলত তাদের ভূমি থেকে সরানো হচ্ছে। মনিপুরের ভূমি সংস্কার আইন অনুযায়ী, স্থানীয় জেলা পরিষদের অনুমতি ছাড়া পাহাড়ি এলাকায় বসবাসের অনুমতি ছিল না মেইতেইদের। অন্য দিকে কুকি ও নাগা জাতিগোষ্ঠীর মানুষের উপত্যকা এলাকায় বসবাসের ক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধ ছিল না; কিন্তু বিজেপি সরকার মেইতেইদের শিডিউল ট্রাইব বা তফসিলি গোত্র ঘোষণা দেয়ায় তাদেরও এখন পাহাড়ি বনাঞ্চলে বসবাসের সুযোগ দেয়া হতে পারে। আর এ নিয়ে শুরু হয় জাতিগত সঙ্ঘাত, সে কথা আগেই বলেছি।
২০২৩ সালের মে মাসে মনিপুর রাজ্যের বড় জাতিগোষ্ঠী মেইতেইদের ‘শিডিউল ট্রাইব’ সুবিধা দেয়ার ঘোষণা দেয় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। মেইতেইরা ‘শিডিউলড ট্রাইব’ (তফসিলি জাতিগোষ্ঠী) হিসেবে গণ্য হয় না। ভারতে আদিবাসী জাতিগোষ্ঠী হিসেবে পরিগণিত হলেও মনিপুরে সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় মেইতেইদের ‘শিডিউলড ট্রাইব’ হিসেবে স্বীকৃতি দিলে অন্য সংখ্যালঘু আদিবাসী গোষ্ঠীগুলোর জন্য ওই রাজ্যে প্রতিযোগিতা বেড়ে যাবে- এ আশঙ্কা থেকে মেইতেইদের ‘শিডিউলড ট্রাইব’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার বিরোধিতা করছে রাজ্যের অন্য আদিবাসী সংখ্যালঘুরা, যাদের একটি বড় অংশ ধর্মীয়ভাবে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী।
জাতিগত সহিংসতা বিষয়ে যা জানা যাচ্ছে তা হলো- বিজেপি সরকার ছিল সঙ্কটের মূলে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার দাবি করা হলেও মনিপুরে অস্থিতিশীলতার দেড় বছর পার হওয়ার পর সম্প্রতি বিজেপি শাসনের অবসান হয়েছে; কিন্তু এরপরও পরিস্থিতি জটিল রয়ে গেছে।
রাজ্যের এ নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তটি কেমন হওয়া উচিত- এ নিয়ে ভাবনা অনেক। প্রথমে বলা হচ্ছিল, বিজেপির বিবদমান দুই গোষ্ঠীর মধ্যে রফা করিয়ে শিগগিরই পরের মুখ্যমন্ত্রী বেছে নেবে হাইকমান্ড। শেষ হবে রাষ্ট্রপতি শাসন। কিন্তু রাজ্য নেতৃত্বের আবেদন বা হুমকিতে সাড়া মেলেনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে; বরং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়, যাকে বেছে নেয়া হোক, মেইতেই মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে রাজ্যে শান্তি ফেরানো অসম্ভব। তাই রাজ্যে শান্তি ফেরাতে আপাতত সেনাসহ কেন্দ্রীয় সশস্ত্রবাহিনীর হাতে আইনশৃঙ্খলার ভার ছাড়া হবে। সেনা সূত্রে বলা হয়, কুকি ও মেইতেই, উভয় পক্ষের সশস্ত্র সমাজ নিরস্ত্র করতে তিন মাস সময় পাবে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তাবাহিনী। কিন্তু কী অর্জিত হলো এক মাসে এমন প্রশ্ন উঠেছে। রাজ্যপাল অজয় কুমার ভল্লা দুই দফায় সময় বেঁধে সব লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র জমা দিতে বলেন; কিন্তু সেনা সূত্রে খবর, জমা দেয়া অস্ত্রের মধ্যে সরকারি অস্ত্রাগার থেকে লুট হওয়া ও বিদেশী স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের ২০ শতাংশও জমা পড়েনি।
দ্বিতীয়ত, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কুকি এলাকা দিয়ে অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন নিরাপত্তাবাহিনীকে। কুকিরা জানিয়ে দিয়েছিল, তাদের দাবি পূরণ না করে জোর করে বাস চালালে ফল খারাপ হবে। তা-ই হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, আলোচনার বদলে জোর করে শান্তি ফেরানো যে অসম্ভব, তা জানার পরও কেন্দ্রের এমন পদক্ষেপের জেরে গত নভেম্বর থেকে আপাত শান্ত রাজ্য ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
তৃতীয়ত, রাজ্যে শান্তি ফেরানোর প্রধান শর্ত যেখানে মেইতেই ও কুকিদের আলোচনার টেবিলে আনা, সেখানে কেন্দ্রের তরফে সে চেষ্টা তেমন হয়নি। সংঘর্ষে নিরপেক্ষ নাগা ও মেইতেই মুসলিম বা পাঙ্গালরা যৌথভাবে শান্তির উদ্যোগের প্রস্তাব রেখেছিল। তারা মেইতেই ও কুকিদের সাথে আলোচনাও চালায়। নাগা-কুকি সংঘর্ষের সময়ে নাগাল্যান্ডের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী নেফিউ রিওর নেতৃত্বে এমনই শান্তি মিশন কাজে লাগানো হয়েছিল; কিন্তু মনিপুরে তেমন কৌশল ব্যবহারের ক্ষেত্রে কেন্দ্রের সাড়া দৃশ্যত মেলেনি।
রাজ্যের ৩৫ হাজার ১০৪ কোটি টাকার বাজেটে সংঘর্ষে ঘরছাড়াদের অস্থায়ী আবাস তৈরির জন্য মাত্র ১৫ কোটি টাকা ও বাস্তুহারাদের ঘর গড়তে মাত্র ৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ত্রাণকাজে বরাদ্দ হয়েছে ১০০ কোটি টাকা। ক্ষতিপূরণ বাবদ রাখা হয়েছে মাত্র সাত কোটি। বিরোধীদের দাবি, সংঘর্ষে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ ঘরছাড়া। তাদের বেশির ভাগের বাড়ি গুঁড়িয়ে গিয়েছে বা সম্পূর্ণ ভস্মীভূত। কিন্তু বাজেটে ঘোষিত পুনর্বাসন বা ক্ষতিপূরণের বরাদ্দ সেই তুলনায় নেহাত কম।
বিচারপতিদের উদ্যোগ হয়তো মনিপুর সমস্যার সমাধান করতে পারবে না; কিন্তু সংবিধান মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে তারা সমস্যাটির গোড়ায় হাত দেয়ার চেষ্টা করেছেন। এ থেকে সমাধানের কোনো সূত্র বের হয়ে আসে কি না তা দেখতে কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। এ সফর দাঙ্গাবিধ্বস্ত মানুষের মনে আশার সঞ্চার করবে এবং তাদের সান্ত্বনার স্পর্শ দেবে বলে যে দাবি করা হয়েছে তাও প্রণিধানযোগ্য।