বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘ দিন ধরে একটি মৌলিক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে- নেতৃত্ব কাদের জন্য? কে রাজনীতি করার যোগ্য, কে নয়? এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার পরিবর্তে আমরা তৈরি করেছি একটি অলিখিত বিধিনিষেধের কাঠামো, যেখানে কিছু পরিচয় ও ইতিহাস কাউকে রাজনৈতিকভাবে ‘গ্রহণযোগ্য’ করে তোলে, কাউকে একেবারে ‘অযোগ্য’ ঘোষণা করে।
গণতন্ত্রের মূল দর্শন অনুযায়ী, রাজনৈতিক অংশগ্রহণের অধিকার সবার সমান। যেমন ভোটদানের অধিকার সব স্তরের মানুষের, তেমনি নেতৃত্বও আসতে পারে বিভিন্ন পটভূমি ও অভিজ্ঞতা থেকে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। এ প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহর থেকে এসেছে একটি অনুপ্রেরণাদায়ক সংবাদ। একজন তরুণ অভিবাসীর সন্তান জোহরান মামদানিÑ যিনি মুসলিম, প্রগতিশীল ও স্পষ্টভাবে প্রথাবিরোধী রাজনীতির প্রতিনিধি- নিউ ইয়র্ক সিটির ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে জয়ী হয়েছেন।
তাকে বলা হয়েছিল যে, তিনি জিততে পারবেন না, কারণ তার পরিচয় নাকি তার দুর্বলতা। অথচ সেই ‘দুর্বলতা’ই হয়ে উঠেছিল তার শক্তির উৎস। এ ঘটনা বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে।
স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের রাজনীতি নানা ধরনের দ্বিধা-দ্বন্দ্বে আক্রান্ত।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও উত্তরাধিকারের প্রশ্নে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মতাদর্শের অবস্থান ভিন্ন। বিশেষত জামায়াতে ইসলামীর মতো দলগুলোর ক্ষেত্রে পরিচয়ের প্রশ্নটি হয়ে উঠেছে একটি স্থায়ী রাজনৈতিক বাধা। ১৯৭১ সালের ভূমিকা, ভারতের প্রতি মনোভাব এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতির প্রশ্নে এসব দলকে মূলধারার রাজনীতি থেকে দূরে রাখার একটি ধারাবাহিক প্রচেষ্টা চলেছে। এ অবস্থানের পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি থাকতে পারে, কিন্তু আসল প্রশ্ন হলো- এ নিষেধাজ্ঞা কে আরোপ করছে? জনগণ, নাকি রাষ্ট্র, মিডিয়া এবং নির্দিষ্ট স্বার্থগোষ্ঠী?
আমাদের দেশে গণতন্ত্র এখনো পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করেনি। এর বাস্তবায়ন প্রায়ই নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর ক্ষমতার খেলায় সীমাবদ্ধ থেকে যায়। ফল হলো- কিছু দল ও মতাদর্শ ‘স্বাভাবিকভাবে গ্রহণযোগ্য’ হিসেবে পরিগণিত হয়, আর কিছু দল ‘জন্মগতভাবে অবাঞ্ছিত’ তকমা পায়। এ বিভাজন একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য ক্ষতিকর।
জোহরান মামদানির অভিজ্ঞতা আমাদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শেখান। প্রথমত, তিনি নিজের পরিচয়- মুসলিম, প্রো-প্যালেস্টাইন, দক্ষিণ এশীয়, প্রগতিশীল- কোনোটা লুকাননি; বরং এগুলো তার রাজনৈতিক শক্তির উৎসে পরিণত করেছেন। দ্বিতীয়ত, প্রথাগত মিডিয়া সমর্থন, করপোরেট অনুদান বা প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক মহলের অনুমোদন ছাড়া তিনি জনগণের কাছে পৌঁছেছেন। তৃতীয় ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- তিনি রাজনীতিকে শুধু অতীতের হিসাব-নিকাশের বিষয় নয়; বরং ভবিষ্যতের স্বপ্ন হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তার নির্বাচনী বার্তা ছিল স্পষ্ট : ‘আপনি যেই হোন না কেন, এ শহরে আপনারও রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর ও অধিকার রয়েছে।’
মামদানির এ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় কীভাবে প্রয়োগ করা যায়? প্রথমত, আমাদের বুঝতে হবে- গণতন্ত্র শুধু নির্বাচনী প্রতিযোগিতা নয়। এটি একটি সাংস্কৃতিক প্রক্রিয়া, যেখানে বিভিন্ন মত ও পথের মানুষ একসাথে রাষ্ট্র গড়ার স্বপ্ন দেখে। বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী একটি আইনি রাজনৈতিক দল হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছে। সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছে। কিন্তু বাস্তবে তারা মিডিয়া কাভারেজ, রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ও রাজনৈতিক স্বীকৃতির ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হয়েছে। মামদানির উদাহরণ দেখায় যে, একটি ‘অসুবিধাজনক’ পরিচয় নিয়েও সমান সুযোগ পেলে বিজয় সম্ভব। বাংলাদেশেও সব আইনি দলের জন্য সমান রাজনৈতিক পরিসর নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
মামদানি তার মুসলিম পরিচয় লুকাননি; বরং তাকে একটি বৃহত্তর প্রগতিশীল এজেন্ডার অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। বাংলাদেশেও জামায়াতের মতো দলগুলো যদি নিজেদের ধর্মীয় পরিচয়ের পাশাপাশি আধুনিক সমস্যার সমাধান- দুর্নীতি দমন, শিক্ষা সংস্কার, স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে কার্যকর কর্মসূচি উপস্থাপন করে, তাহলে তারা আরো ব্যাপক জনসমর্থন পেতে পারে।
নিউ ইয়র্কে মামদানির বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে মিডিয়ার এক ধরনের পক্ষপাতিত্ব ছিল, কিন্তু তিনি বিকল্প মিডিয়া ও সরাসরি জনসংযোগের মাধ্যমে তা কাটিয়ে উঠেছেন। বাংলাদেশেও মূলধারার মিডিয়া যদি সব আইনি দলের প্রতি নিরপেক্ষ আচরণ করে এবং তাদের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ দেয়, তাহলে জনগণ আরো ভালো তুলনামূলক বিচার করতে পারবে।
মামদানির প্রচার মূলত তৃণমূল পর্যায়ের সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবকদের উপর নির্ভর করেছিল। বাংলাদেশে জামায়াতের রয়েছে শক্তিশালী তৃণমূল নেটওয়ার্ক। যদি তারা এ নেটওয়ার্ককে ইতিবাচক সামাজিক কাজ- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা কার্যক্রম, স্বাস্থ্যসেবার জন্য ব্যবহার করে, তাহলে জনগণের কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। মামদানির বিজয় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমেরিকার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি আস্থা বাড়িয়েছে। বাংলাদেশও যদি সব আইনি দলের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে, তাহলে দেশের গণতান্ত্রিক ভাবমর্যাদা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শক্তিশালী হবে। এটি বিদেশী বিনিয়োগ ও কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্যও ইতিবাচক।
আজকের তরুণ প্রজন্ম পরিচয়ের চেয়ে কর্মক্ষমতায় বিশ্বাসী। তারা চায় যে দল সবচেয়ে ভালো সেবা দিতে পারবে, সে দল ক্ষমতায় আসুক। একটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক পরিপক্বতা পরিমাপ করা হয় বিরোধী মতামত ও বিতর্কিত দলগুলোর সাথে আচরণ দেখে। মামদানির বিজয় প্রমাণ করে, আমেরিকান গণতন্ত্র তার বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তিতে শক্তিশালী। বাংলাদেশও যদি সব আইনি দলকে সমান সুযোগ দেয়, তাহলে এটি আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিপক্বতার প্রমাণ হবে।
জামায়াতে ইসলামী যদি বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে আবেদন তৈরি করতে চায়, তাহলে তাদের কয়েকটি নতুন ও যুগোপযোগী ধারণা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। প্রথমত, জামায়াত ডিজিটাল গভর্নেন্স ও সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে পথপ্রদর্শক হতে পারে। ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতিটি সরকারি লেনদেন, বাজেট বরাদ্দ ও নীতিগত সিদ্ধান্ত রিয়েল-টাইমে জনসাধারণের কাছে উন্মুক্ত রাখার অঙ্গীকার করতে পারে। এ স্বচ্ছতার নীতি তরুণদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় হবে, কারণ তারা দুর্নীতিমুক্ত শাসনব্যবস্থা প্রত্যাশা করে।
ইসলামের পরিবেশগত শিক্ষার ভিত্তিতে জামায়াত সবুজ অর্থনীতি ও জলবায়ু নেতৃত্বে অগ্রণী ভূমিকা নিতে পারে। গ্রিন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সৌরশক্তিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা, পরিবেশবান্ধব শিল্প স্থাপন, কার্বন-নিউট্রাল কৃষি পদ্ধতি চালু এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক নেতৃত্বের অঙ্গীকার নিয়ে এগিয়ে আসতে পারে। এ দৃষ্টিভঙ্গি আজকের পরিবেশ-সচেতন তরুণদের কাছে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।
শিক্ষাক্ষেত্রে জামায়াত ইসলামিক ইনোভেশন হাবের ধারণা নিয়ে এগিয়ে আসতে পারে, যেখানে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উদ্যোক্তা উন্নয়নে সমান জোর দেয়া হবে। মাদরাসা শিক্ষাকে আধুনিক কারিগরি শিক্ষার সাথে সমন্বয় করে একটি অনন্য শিক্ষা মডেল তৈরি করা যেতে পারে, যা বিশ্বব্যাপী মুসলিম সমাজের জন্য একটি উদাহরণ হতে পারে।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে জামায়াত ইসলামিক অর্থনীতির নীতি অনুসরণ করে সুদমুক্ত ব্যাংকিং, জাকাতভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা ও করপোরেট দায়বদ্ধতার নতুন মডেল উপস্থাপন করতে পারে। এ ব্যবস্থা আয়বৈষম্য কমাতে ও তরুণদের জন্য সমান সুযোগ তৈরিতে কার্যকর হতে পারে। হালাল ইকোনমি ও ইসলামিক ফিনটেকের বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা নিয়ে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য শরিয়াহ-সম্মত বিনিয়োগ তহবিল, ইনকিউবেটর ও আন্তর্জাতিক মুসলিম বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
ডিজিটাল গণতন্ত্র ও অংশগ্রহণমূলক শাসনে জামায়াত ই-শূরা বা ডিজিটাল পরামর্শ ব্যবস্থা চালু করতে পারে, যেখানে নীতিগত সিদ্ধান্তে জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে। মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে নাগরিকরা স্থানীয় সমস্যা তুলে ধরতে পারবে এবং সমাধানের অগ্রগতি প্রত্যক্ষ করতে পারবে। এ স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতি তরুণদের রাজনীতিতে আগ্রহী করে তুলবে।
প্রযুক্তির নৈতিক ব্যবহারে জামায়াত বিশ্বব্যাপী নেতৃত্ব দিতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির এথিক্যাল ব্যবহারে ইসলামিক নৈতিকতার ভিত্তিতে বৈশ্বিক মানদণ্ড তৈরি করার উদ্যোগ নিতে পারে। এ দৃষ্টিভঙ্গি প্রযুক্তি-সচেতন তরুণদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় হবে। সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে ইসলামিক ঐতিহ্যের সাথে আধুনিক শিল্প-সাহিত্যের সমন্বয়ে নতুন সাংস্কৃতিক পরিচয় তৈরি করে বৈশ্বিক মুসলিম সংস্কৃতির সাথে বাংলাদেশের সংযোগ স্থাপনে অগ্রণী ভূমিকা নিতে পারে।
এ সব উদ্যোগ তরুণদের কাছে আকর্ষণীয় হওয়ার কারণ হলো- এগুলো প্রগতিশীল ইসলামের ধারণা উপস্থাপন করে, যা আধুনিকতাবিরোধী নয়; বরং আধুনিক সমস্যার সমাধানে অগ্রগামী। এই এজেন্ডা কেবল ধর্মীয় বক্তব্য নয়; বরং তরুণদের দৈনন্দিন সমস্যা যেমন কর্মসংস্থান, দুর্নীতি ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের ব্যবহারিক সমাধান উপস্থাপন করে। আন্তর্জাতিক মুসলিম অর্থনীতি ও প্রযুক্তির সাথে বাংলাদেশের সংযোগ বৃদ্ধি এবং টপ-ডাউন নয়; বরং তৃণমূল থেকে উঠে আসা অংশগ্রহণমূলক নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের নীতি তরুণদের কাছে বিশেষভাবে আবেদনময় হবে।
বাংলাদেশের গণতন্ত্র এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে আমাদের চাই এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ যেখানে সব দল ও মতাদর্শের জন্য সমান রাজনৈতিক সুযোগ থাকবে, যদি তারা সহিংসতা পরিহার করে এবং সংবিধানের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করে। মিডিয়া, বিচার বিভাগ এবং নির্বাচন কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে, কোনো নির্দিষ্ট দল বা মতাদর্শের পক্ষপাতিত্ব করবে না এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো- জনগণ তাদের ভোটের মাধ্যমে ঠিক করবে, কে নেতৃত্ব দেবে- রাষ্ট্রযন্ত্র, মিডিয়া বা কোনো বিশেষ স্বার্থগোষ্ঠী নয়।
জোহরান মামদানির বিজয় প্রমাণ করে, রাজনৈতিক পরিচয় কোনো বাধা নয়; বরং সঠিক কৌশল ও সংগঠনের মাধ্যমে তা শক্তিতে রূপান্তরিত হতে পারে। বাংলাদেশেও যদি আমরা অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির চর্চা শুরু করি, যেখানে পরিচয়ের চেয়ে কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ হবে, যেখানে অতীতের বিচার হবে আইনের মাধ্যমে আর ভবিষ্যৎ নির্মিত হবে জনগণের অংশগ্রহণে- তাহলে আমাদের গণতন্ত্র নতুন প্রাণশক্তি ফিরে পাবে। নেতৃত্ব নির্বাচনের অধিকার জনগণের। এ অধিকার যতক্ষণ পর্যন্ত সঙ্কুচিত থাকবে, ততক্ষণ আমাদের গণতন্ত্র অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। মামদানির অভিজ্ঞতা আমাদের দেখিয়ে দেয়, প্রকৃত গণতন্ত্রে সবার জায়গা আছে- শর্ত হলো, সেই জায়গা অর্জন করতে হবে জনগণের আস্থা ও সমর্থনের মাধ্যমে।
লেখক : অধ্যাপক, থমাস কলেজ অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকস
Email:Mohammad.rahman@uncp.edu