নাইন-ইলেভেন-পরবর্তী ইসলামোফোবিক বিশ্বপরিস্থিতি, পশ্চিমা দুনিয়ার সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধ এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ভারতীয় আধিপত্যবাদী-সম্প্রসারণবাদীদের ১৯৪৭ পূর্ব অখণ্ড ভারতের স্বপ্ন আবার জাগিয়ে তোলে। বাংলাদেশের ক্ষমতায় আরোহণ করে এক-এগারোর সরকার। একপর্যায়ে এক-এগারোর সরকার, শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ ও ভারতীয় আধিপত্যবাদের ত্রিপক্ষীয় প্রযোজনায় শুরু হয় বাংলাদেশকে রাজনীতিশূন্য করার প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই চালু করা হয় রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আইন নামক গণবিরোধী অসাংবিধানিক আইন। এ আইন অনুসারে স্বাধীনতা-উত্তরকালে যেকোনো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীকসহ অংশ নিয়ে অন্তত একটি আসন লাভ করে থাকলে কিংবা ৫ শতাংশ ভোট পেয়ে থাকলে যেকোনো দল নিবন্ধন লাভের যোগ্যতা লাভ করে। নতুন দলের নিবন্ধনের যোগ্যতা হিসেবে কেন্দ্রীয় কমিটির সাথে ১০টি জেলা কমিটি, ৫০টি থানা বা উপজেলা কমিটির বিধান চালু করা হয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই নতুন দল নিবন্ধনে এক-তৃতীয়াংশ জেলা কমিটি, ১০০ থানা বা উপজেলা কমিটি, প্রতিটি কমিটির সাথে দালিলিক প্রমাণসহ অফিস এবং প্রতিটি থানা-উপজেলায় কমপক্ষে ২০০ করে সদস্য থাকার বিধান চালু করে।

বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনে কী ধরনের আইন প্রচলিত আছে খতিয়ে দেখা যেতে পারে। গণতন্ত্রের সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত যুক্তরাজ্যের Registration of Political Party Act-1998 অনুসারে কেন্দ্রীয় কমিটি, কেন্দ্রীয় অফিস ও দলীয় গঠনতন্ত্র থাকলে যেকোনো রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের যোগ্য হয়। বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ ভারতে Representation of People Act-1951 অনুসারে কেন্দ্রীয় কমিটি, কেন্দ্রীয় অফিস এবং গঠনতন্ত্র থাকলেই যেকোনো রাজনৈতিক দল নিবন্ধন পেতে পারে।

বিশ্বব্যাপী সর্বাধিক আলোচিত গণতান্ত্রিক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের The Political Parties (Registration And Regulation) Act অনুসারে কেন্দ্রীয় কমিটি, কেন্দ্রীয় অফিস, গঠনতন্ত্র এবং ১০০ জন নিবন্ধিত ভোটার সদস্য থাকলে যেকোনো রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের যোগ্যতা লাভ করে। বিশ্বব্যাপী অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশেও একই রূপ আইন চালু রয়েছে। ভারতে বর্তমানে প্রায় আড়াই হাজারের মতো নিবন্ধিত দল রয়েছে। ভারতের সাথে তুলনা করলে জনসংখ্যা বিবেচনায় বাংলাদেশেও তিন শতাধিক রাজনৈতিক দল থাকা উচিত বলে সচেতন মহল মনে করেন।

উন্নত-অনুন্নত নির্বিশেষে বিশ্বব্যাপী এত সহজ শর্তে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের আইন চালু থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে কেন এরূপ আইন চালু করা হলো এবং এর প্রেক্ষাপট কী। এ বিষয়ে একটু আলোচনা করা দরকার বলে মনে করি।

ভারত ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সাত দফা গোলামি চুক্তির গ্যাঁড়াকলে বাংলাদেশকে ফাঁসিয়ে জনযুদ্ধে বিজয়ের পথে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের পক্ষ হয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে সরাসরি যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার সুযোগ নেয়। শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে তার সীমাহীন ক্ষমতালোভের সুযোগে তার অনিচ্ছাসত্ত্বেও নানাবিধ চড়াই-উতরাই পেরিয়েও স্বপ্ন পূরণের দিকেই এগিয়ে যেতে থাকে অখণ্ড ভারতের স্বপ্নদ্রষ্টারা। শেখ মুজিবের হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে আরেকবার স্বপ্নভঙ্গ ঘটে। ওয়ান-ইলেভেনের মধ্য দিয়ে তাদের ভগ্নস্বপ্ন আবার হালে পানি পায়। বিশ্ব পরিস্থিতিও ভারতের অনুকূলে চলে আসে। শেখ হাসিনা ভারতের কোলে চড়ে বসেন। ওয়ান-ইলেভেন সরকার ভারতীয় স্বার্থের অনুকূলে কাজ করতে শুরু করে। আওয়ামী লীগ নিয়ে আসে ভিশন-২১, রূপকল্প-৪১ ইত্যাদি। টার্গেট ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করে অখণ্ড ভারতের স্বপ্ন বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে রাজনীতির মাঠকে রাজনীতিশূন্য করা জরুরি হয়ে পড়ে। নতুন রাজনৈতিক দলের উত্থান ঠেকিয়ে দেয়ার জন্য করা হয় রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আইন। ‘সাইনবোর্ডসর্বস্ব দল’ ‘প্যাডসর্বস্ব দল’, ‘রাজনীতির দোকান’, ‘ব্যাঙের ছাতা’ ইত্যাদি নামে রাজনৈতিক দলগুলোকে তাচ্ছিল্য করে নিবন্ধনের কালো আইন চালু করা হলেও গত ১৫ বছরে নির্বাচন কমিশন চারটি নামসর্বস্ব বা সাইনবোর্ডসর্বস্ব দলকেই কেবল সরাসরি নিবন্ধন দিয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) ও বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটকে ২০১৪ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালে, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট মুভমেন্ট (বিএনএম) ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টিকে ২০২৪ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালে নিবন্ধন দেয়া হয়। দল চারটি কর্মী বা সদস্য সংখ্যা, কমিটি সংখ্যা, অফিস সংখ্যা, মাঠের কর্মকাণ্ড ইত্যাদি বিবেচনায় সাইনবোর্ড বা প্যাডসর্বস্ব দল হওয়া সত্ত্বে¡ও হাসিনার নির্বাচনী নাটকে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ের শর্তেই কেবল নিবন্ধন লাভ করে। যোগ্যতা প্রদর্শনে সমর্থ হলেও ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্র্যাটিক মুভমেন্ট (এনডিএম), বাংলাদেশ কংগ্রেস, তৃণমূল বিএনপি, নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলন, গণ অধিকার পরিষদ, আমার বাংলাদেশ (এ বি) পার্টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টিকে নিবন্ধন দেয়া হয়নি। এদের মধ্যে আবার এনডিএম, বাংলাদেশ কংগ্রেস ও তৃণমূল বিএনপিকে নির্বাচনী নাটকে অংশগ্রহণের শর্তে হাসিনা নিয়ন্ত্রিত আদালতের মাধ্যমে নিবন্ধন দেয়া হয়। বাংলাদেশ কংগ্রেস ও তৃণমূল বিএনপি চমৎকার পারফরম্যান্স দেখালেও এনডিএম কোনো এক জাদুবলে এই নাটক থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতে সক্ষম হয়।

অন্য দিকে পরপর দু’টি নির্বাচনে অংশগ্রহণে ব্যর্থ দলের নিবন্ধন বাতিলের বিধান ও নানা ছলচাতুরীর মাধ্যমে জনপ্রিয় সক্রিয় দলগুলোর নিবন্ধন বাতিলের ব্যবস্থা করে দলগুলোকে নিঃশেষ করে দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া হয়। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই অখণ্ড ভারতের স্বপ্ন পূরণে প্রধানতম বাধা জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রহসনমূলক বিচারের মাধ্যমে ও দলীয় গঠনতন্ত্রে তথাকথিত ত্রুটির কারণ দেখিয়ে প্রথমে বাতিল এবং পরে নিষিদ্ধ করা হয় এবং বিএনপিকে নিষিদ্ধের প্রক্রিয়াও শুরু হয়। এভাবে ভারতবিরোধী সেন্টিমেন্টধারী দলগুলোকে নিষিদ্ধ এবং নতুন কোনো দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলের উত্থান ঠেকিয়ে দেয়া গেলে অখণ্ড ভারতের স্বপ্ন পূরণে কোনো বাধা থাকার কথা নয়। জাতির ওপর পিতৃহত্যার প্রতিশোধ নিতে এবং নিজের ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখতে গিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ভারতের হাতে দিতেও কুণ্ঠাবোধ করেননি শেখ হাসিনা। প্রকৃতপক্ষে তিনি নিজে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রধানতম শত্রু হওয়া সত্ত্বে¡ও তার বিরোধী শক্তিকে তিনি স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি হিসেবে বরাবরই অভিহিত করতেন। রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার রূপকল্প-৪১ মূলত জনগণকে উচ্চ আয়ের মোহে আচ্ছন্ন রেখে ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে ভারতের হাতে তুলে দেয়ার প্রক্রিয়ার অংশ। বিরাট জনসংখ্যা অধ্যুষিত বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে জাতিসঙ্ঘ, ওআইসিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্য হওয়ায় এবং বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষ ইসলাম ধর্মাবলম্বী হওয়ায় সিকিম, হায়দরাবাদ, গোয়া প্রভৃতির মতো এ দেশকে ভারতের অঙ্গীভূত করা মোটেও সহজ নয়। তাই ধাপে ধাপে দেশের সব রাজনৈতিক শক্তি ও এস্টাবলিশমেন্টকে ধ্বংস করা দরকার। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই ঘটানো হয় বিডিআর হত্যাকাণ্ড; হেফাজত ইসলামের গণহত্যা; শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ; নির্বাচনব্যবস্থা ভেঙে দেয়া; জঙ্গি নাটক; সেনাবাহিনী, পুলিশবাহিনী, প্রশাসন, বিচারবিভাগ, শিক্ষাসহ সব এস্টাবলিশমেন্ট ধ্বংস করে দেয়ার প্রক্রিয়া।

হাজার হাজার ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত সরকারের গঠিত নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশন সরকারের কাছে যে সুপারিশ পেশ করে তাতে নতুন দল নিবন্ধনে ১০ শতাংশ জেলায় ও ৫ শতাংশ থানা বা উপজেলায় অফিস এবং ন্যূনতম পাঁচ হাজার সদস্য থাকার শর্তারোপ করা হয়েছিল। এর বিরুদ্ধে অনিবন্ধিত সক্রিয় দলগুলো তীব্র প্রতিবাদ ও প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আসছিল। তার পরও কী করে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের রেখে যাওয়া গণবিরোধী-অসাংবিধানিক আইনের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা সম্ভব হলো তা এক বিরাট প্রশ্ন। গণবিজ্ঞপ্তি মোতাবেক স্বাধীনতা-উত্তরকালে যেকোনো নির্বাচনে অংশ নিয়ে একটি আসন অথবা ৫ শতাংশ ভোট পেয়ে থাকলে যেকোনো দল নিবন্ধনের যোগ্য। শুধু বাংলাদেশের জনগণ নয়, গোটা বিশ্বের রাজনীতি সচেতন মানুষই জানেন, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে হাতেগোনা তিন-চারটি ছাড়া সব জাতীয় নির্বাচনই নির্বাচন হিসেবে অভিহিত হওয়ার অযোগ্য। অথচ নির্বাচন কমিশনের প্রধান এ এম এম নাসির উদ্দিনের মতো ক্লিন ইমেজের একজন সম্মানিত ব্যক্তির মাথায় কেন বিষয়টি ঢুকল না তা বোধগম্য নয়। নতুন দল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে একটি সক্রিয় কেন্দ্রীয় কমিটি, এক-তৃতীয়াংশ জেলা কমিটি, ১০০ উপজেলা বা থানা কমিটি এবং প্রতি উপজেলা বা থানায় কমপক্ষে ২০০ সদস্য অর্থাৎ ১২২-২৩টি অফিস ২০ হাজার সদস্যের শর্ত যা পূরণ করে দল চালানো বিপুল ব্যয়সাপেক্ষ। প্রশ্ন হচ্ছে, এত আত্মত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া এই সরকারের নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশন এবং নির্বাচন কমিশন কেন এমন গণবিরোধী অবস্থান নিলো। আজকের নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার হলেন ওয়ান-ইলেভেনের অন্যতম কুশীলব ও রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের কালো আইন প্রণয়নের অন্যতম ইন্ধনদাতা। এই জঘন্য আইন প্রণয়নের প্রধানতম কারিগর ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেন বর্তমান সরকারের প্রভাবশালী উপদেষ্টা। স্বৈরাচারের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করা বহু হোমরাচোমরা সরকারের ভেতরে ও বাইরে সক্রিয়। কাজেই গোপন অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নে তাদের প্রচেষ্টা চলমান বলেই অনেকে মনে করেন। ভারত প্রশ্নে মোটাদাগে বড় দলগুলোর অবস্থান স্পষ্ট। এ অবস্থায় নতুন জাতীয়তাবাদী দেশপ্রেমিক শক্তির উত্থানই হয়তো হতে পারত বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের জন্য ভরসাস্থল আর তা ঠেকিয়ে দেয়ার লক্ষ্যেই এখনো টিকিয়ে রাখা হয়েছে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের ফ্যাসিবাদী আইন। তবে সর্বশেষ কিছুটা আশার কথা হচ্ছে, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুমের রিট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৮ মার্চ, ২০২৫ মহামান্য হাইকোর্ট ‘ফ্যাসিবাদী আইনে ১০ মার্চ, ২০২৫ জারিকৃত গণবিজ্ঞপ্তি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না’ এই মর্মে রুল জারি করেছেন। পাশাপাশি রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের পক্ষে স্থগিতাদেশ দেয়া হয়েছে। অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুমের মতে, অন্যান্য দলও পক্ষভুক্ত হয়ে আবেদন করতে পারে এবং স্থগিতাদেশের বেনিফিশিয়ারি হতে পারে।

রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব-অখণ্ডতা রক্ষা করতে হলে সৎ-যোগ্য দেশপ্রেমিক নাগরিকদের রাজনীতিতে এগিয়ে আসার পথ সুগম করার বিকল্প নেই। এই লক্ষ্যে সবার আগে জারিকৃত গণবিজ্ঞপ্তি স্থগিত করতে হবে। ইসির উচিত হবে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ আমলে নিয়ে জুলাই বিপ্লবের স্পিরিট এবং বিদ্যমান সংবিধান ও কাক্সিক্ষত সংবিধানের স্পিরিট মাথায় রেখে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনে আন্তর্জাতিক মানের আইন চালুর উদ্যোগ নেয়া। যে আইনে কেন্দ্রীয় কমিটি, কেন্দ্রীয় অফিস, গঠনতন্ত্র ও সর্বোচ্চ ১০০ সদস্যের ভিত্তিতে দলগুলো নিবন্ধন লাভ করতে পারবে। পাশাপাশি দরকার সাইনবোর্ডসর্বস্ব রাজনৈতিক দোকানগুলো বন্ধ করে দেয়ার লক্ষ্যে সৎ-যোগ্য দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদদের রাজনীতির পথ সুগম করতে অর্থের প্রভাবমুক্ত নির্বাচন ব্যবস্থা কায়েম করা।

লেখক : সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ গণমুক্তি পার্টি ও নির্বাহী সমন্বয়ক, বিপ্লবী গণজোট।

abdulmonem.bgp@gmail.com